(ক)
বাংলাদেশের তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ সালে পাস হয়।
(খ)
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী বলতে এমন এক সংগঠিত সামাজিক গোষ্ঠীকে বোঝায়, যারা নিজেদের বিশেষ স্বার্থ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত বা আচরণকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে।
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী কোনো রাজনৈতিক দল নয় এবং এদের লক্ষ্য ক্ষমতা দখল করা নয়, বরং সরকারের নীতিমালার ওপর প্রভাব বিস্তার করে নিজেদের দাবি আদায় করা। এরা সাধারণত নির্দিষ্ট শ্রেণি বা গোষ্ঠীর পক্ষে সরকারের নীতিকে দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমানভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। উদাহরণস্বরূপ: শিক্ষক সমিতি, বণিকসংঘ, শ্রমিক ইউনিয়ন, সুশীল সমাজ প্রভৃতি চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
(গ)
উদ্দীপকে মানবাধিকার এবং নাগরিক অধিকারের (সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার) কথা বলা হয়েছে।
মানুষ হিসেবে মর্যাদার সাথে বেঁচে থাকার জন্য একজন ব্যক্তির যেসব মৌলিক অধিকার, সম্মান ও নিরাপত্তা প্রয়োজন, তাকে মানবাধিকার বলে। অন্যদিকে, নাগরিক হিসেবে যেসব অধিকার ছাড়া ব্যক্তি সুষ্ঠুভাবে সামাজিক জীবনযাপন করতে পারে না, সেগুলোকে সামাজিক অধিকার বলা হয়। যেমন: জীবন রক্ষা, নিরাপত্তা ও আইনের চোখে সমানাধিকার। আবার রাষ্ট্রীয় কাজে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণের জন্য নাগরিকরা যেসব অধিকার লাভ করে, তা রাজনৈতিক অধিকার। যেমন: ভোটদান, নির্বাচিত হওয়া বা সরকারি চাকরি লাভ। অর্থনৈতিক অধিকার হলো অভাব ও দারিদ্র্য থেকে মুক্ত হয়ে একজন ব্যক্তির অর্থনৈতিক জীবনের নিরাপত্তা লাভ, যেমন: কর্মের অধিকার।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মায়ানমারের রাখাইন অঞ্চল হতে নিপীড়িত ও অত্যাচারিত হয়ে রহিম কক্সবাজার শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় গ্রহণ করেছে। এর ফলে জাতিসংঘ ঘোষিত সকল নাগরিকের সমানাধিকার ও মানবিক মর্যাদা লঙ্ঘিত হয়েছে। উদ্দীপকের এই তথ্যের মাধ্যমে রহিমের মানবাধিকারসহ সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকারের কথা বলা হয়েছে।
(ঘ)
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার তথা মানবাধিকারের গুরুত্ব অপরিসীম।
সরকারের কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং জনগণের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় শাসনকার্য পরিচালনা করাকে সুশাসন বলে। আর মানুষ হিসেবে মর্যাদার সঙ্গে বাঁচতে একজন ব্যক্তির যেসব অধিকার, সম্মান ও নিরাপত্তা প্রাপ্য, তা-ই মানবাধিকার। মানবাধিকার ব্যতীত সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।
সুশাসনের অন্যতম ভিত্তি হলো মানবাধিকার। যে কোনো ধরনের নির্যাতন ও শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে মানবাধিকারের ধারণা বিকাশ লাভ করেছে। জীবনধারণ, ন্যায়বিচার পাওয়া, অবাধ ও মুক্ত চিন্তা, মত প্রকাশ ও প্রতিবাদের অধিকার ইত্যাদি মানবাধিকারের অংশ। জাতি, ধর্ম, বর্ণ, অঞ্চল নির্বিশেষে এই অধিকারগুলো সবার জন্য সমান। মানবাধিকার সমাজে সভ্য জীবনযাপন করতে সাহায্য করে এবং জীবন সংরক্ষণ ও নিরাপত্তার জন্য এটি একান্তভাবে অপরিহার্য। এছাড়া মানবাধিকার নাগরিকদের রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশগ্রহণের সুযোগ প্রদানের পাশাপাশি অভাব-অনটন ও অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি দিয়ে মানুষের জীবনকে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ও নিরাপদ করে তোলে, যা সুশাসনের জন্য অত্যাবশ্যক।
উপরের আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায়, সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার তথা মানবাধিকার সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।