(ক) আরোহের ভিত্তি দুই প্রকার। যথা: আকারগত ভিত্তি ও বস্তুগত ভিত্তি।
(খ) আরোহ অনুমানের আকারগত সত্যতা প্রতিষ্ঠার জন্য আরোহের আকারগত ভিত্তি প্রয়োজন।
আরোহ অনুমানের আকারগত দিক যে সব বিষয়ের ওপর নির্ভর করে গড়ে ওঠে, তাকে আরোহের আকারগত ভিত্তি বলা হয়। আরোহ অনুমানে বিশেষ বিশেষ দৃষ্টান্তের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে একটি সার্বিক সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা হয়। এই সার্বিক সিদ্ধান্তটি যেন যৌক্তিকভাবে বৈধ ও সুশৃঙ্খল হয়, তা নিশ্চিত করার জন্যই প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ নিয়মের মতো আকারগত ভিত্তির প্রয়োজন হয়। আকারগত ভিত্তি ছাড়া আরোহের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াটি তার যৌক্তিক ভিত্তি হারিয়ে ফেলে। তাই আরোহ অনুমানের আকারগত সত্যতা নিশ্চিত করার জন্য আকারগত ভিত্তি অপরিহার্য।
(গ) উদ্দীপকের রহিমের বক্তব্য পাঠ্যবইয়ের 'প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি'-কে নির্দেশ করে।
আরোহের আকারগত ভিত্তির একটি অন্যতম অংশ হলো প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি। এটি আরোহ অনুমানের একটি স্বতঃসিদ্ধ নীতি। এই নীতির মূলকথা হলো, প্রকৃতি সর্বদা একই অবস্থায় একই রূপ আচরণ করে। পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে প্রকৃতিতে ভিন্নরূপ আচরণ দেখা যায় না। প্রকৃতি হলো নিয়মের অধীন। প্রকৃতির বিভিন্ন স্থানে একই অবস্থায় একই ফল পাওয়া যায়। প্রকৃতিতে অনেক সময় অনেক বৈচিত্র্য দেখা গেলেও, প্রকৃতি তার নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী চলে। এখানে কোনো এলোমেলো বা খামখেয়ালিপনার স্থান নেই। প্রকৃতিতে বিভিন্ন নিয়ম কার্যকর রয়েছে এবং একই নিয়ম অনুযায়ী বিভিন্ন ঘটনা ঘটে থাকে।
উদ্দীপকের রহিম তার বক্তব্যে বলেছে, "প্রকৃতিতে অনেক ঘটনা ঘটে।" প্রকৃতির এই বিভিন্ন ঘটনা তার নিজস্ব নিয়ম ও শৃঙ্খলার মাধ্যমেই ঘটে থাকে। রহিমের এই বক্তব্য প্রকৃতির সুশৃঙ্খল ও নিয়মতান্ত্রিক আচরণ তথা প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতিকেই নির্দেশ করে।
(ঘ) উদ্দীপকের করিমের বক্তব্যের মাধ্যমে পাঠ্যবইয়ের 'কার্যকারণ নিয়ম'-কে নির্দেশ করা হয়েছে। নিচে করিমের বক্তব্যটি বিশ্লেষণ করা হলো।
করিম বলেছে, "এদের মধ্যে সুসম্পর্ক রয়েছে।" এখানে করিম প্রাকৃতিক ঘটনাসমূহের মধ্যকার সুসম্পর্ক বা কার্যকারণ শৃঙ্খলের বিষয়টি তুলে ধরেছে। কার্যকারণ নিয়ম হলো আরোহের আকারগত ভিত্তির একটি মৌলিক অংশ। এই নিয়মের মূলকথা হলো, জগতের প্রতিটি ঘটনারই একটি কারণ আছে। বিনা কারণে কোনো কার্য সংঘটিত হতে পারে না। প্রতিটি ঘটনা তার পূর্ববর্তী ঘটনার সাথে এমনভাবে যুক্ত থাকে যে, পূর্ববর্তী ঘটনাটি ঘটলে পরবর্তী ঘটনাটি ঘটে এবং পূর্ববর্তী ঘটনাটি না ঘটলে পরবর্তী ঘটনাটি ঘটে না।
কার্যকারণ নিয়মের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ নিচে আলোচনা করা হলো:
১. কারণ ও কার্যের আবশ্যিক সম্পর্ক: জগতের প্রতিটি ঘটনার পেছনে একটি নির্দিষ্ট কারণ থাকে। কারণ ছাড়া কোনো ঘটনা বা কার্য ঘটা অসম্ভব।
২. অপরিবর্তনীয়তা: একই কারণ সর্বদা একই কার্য উৎপন্ন করে। যদি কারণ অপরিবর্তিত থাকে, তবে কার্যও অপরিবর্তিত থাকবে।
৩. আরোহের ভিত্তি: কার্যকারণ নিয়ম আরোহ অনুমানের সিদ্ধান্তকে সার্বিক রূপ দিতে সাহায্য করে। বিশেষ বিশেষ দৃষ্টান্তের মধ্যে কার্যকারণ সম্পর্ক আবিষ্কারের মাধ্যমেই আমরা একটি সার্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারি।
উদ্দীপকের করিমের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রকৃতির ঘটনাগুলোর মধ্যে যে সুসম্পর্ক রয়েছে, তা আসলে কার্যকারণ সম্পর্ক। প্রকৃতিতে কোনো ঘটনাই বিচ্ছিন্ন বা আকস্মিক নয়, বরং প্রতিটি ঘটনাই একে অপরের সাথে কার্যকারণ শৃঙ্খলে আবদ্ধ। সুতরাং, করিমের বক্তব্যটি যুক্তিবিদ্যার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ 'কার্যকারণ নিয়ম'-কে নির্দেশ করে এবং আরোহ অনুমানের সত্যতা প্রতিষ্ঠায় এর ভূমিকা অপরিহার্য।