(ক)
এনজিও (NGO) হলো নন-গভর্নমেন্টাল অর্গানাইজেশন (Non-Governmental Organization) বা বেসরকারি সাহায্য সংস্থা।
(খ)
কোনো বিশেষ নেতা যখন তাঁর বক্তব্য ও কাজের মাধ্যমে জনগণকে প্রবলভাবে আকৃষ্ট, অনুপ্রাণিত ও উদ্বুদ্ধ করতে সক্ষম হন, তখন সেই নেতৃত্বকে সম্মোহনী নেতৃত্ব বলা হয়।
সম্মোহনী নেতৃত্বের মূল বৈশিষ্ট্য হলো এর জাদুকরী প্রভাব। এই ধরনের নেতা তাঁর ব্যক্তিত্ব, চারিত্রিক দৃঢ়তা, সাহসিকতা এবং বাগ্মিতার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে মুগ্ধ করতে পারেন এবং তাঁদের মনে অন্ধ আনুগত্য তৈরি করতে সক্ষম হন। এই নেতৃত্বের ফলে জনগণ আবেগাপ্লুত হয়ে নেতার আদর্শকে অনুসরণ করে। উদাহরণস্বরূপ, মহাত্মা গান্ধী, মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্ব ছিল সম্মোহনী নেতৃত্বের প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
(গ)
উদ্দীপকে রহিম যে সংগঠনের সদস্য, সেটি হলো একটি রাজনৈতিক দল। কারণ রহিমের সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য হলো জনগণের মতামতের ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা গ্রহণ করা এবং দেশের স্বার্থে কাজ করা, যা একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
রাজনৈতিক দলের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
১. সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য: রাজনৈতিক দল কিছু নির্দিষ্ট আদর্শ ও লক্ষ্যের সমন্বয়ে গঠিত হয় এবং সেই লক্ষ্য অর্জনে কাজ করে।
২. রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা অর্জন: রাজনৈতিক দলের প্রধান লক্ষ্য থাকে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে, বিশেষ করে নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করা।
৩. জনসমর্থন লাভ: রাজনৈতিক দল জনপ্রিয় কর্মসূচি প্রণয়ন করে এবং জনমতের ভিত্তিতে ব্যাপক সমর্থন লাভের চেষ্টা করে।
৪. সাংগঠনিক কাঠামো: রাজনৈতিক দল একটি সুসংগঠিত রূপ ধারণ করে, যেখানে সদস্যরা সম-আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকে।
৫. জাতীয় স্বার্থ রক্ষা: রাজনৈতিক দল সমাজের সামগ্রিক কল্যাণ এবং জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণের চেষ্টা করে।
৬. নির্বাচনমুখী সংগঠন: রাজনৈতিক দল মূলত নির্বাচনমুখী হয় এবং নির্বাচনের মাধ্যমে শাসনকার্য পরিচালনার সুযোগ খোঁজে।
(ঘ)
উদ্দীপকে বর্ণিত রহিমের সংগঠনটি হলো রাজনৈতিক দল এবং করিমের সংগঠনটি হলো চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী। এই দুই সংগঠনের মধ্যে মৌলিক কিছু পার্থক্য বিদ্যমান।
রহিমের সংগঠনের উদ্দেশ্য হলো জনগণের মতামতের ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা গ্রহণ এবং দেশের সামগ্রিক স্বার্থে কাজ করা। অন্যদিকে, করিমের সংগঠনের উদ্দেশ্য হলো মিছিল-মিটিংয়ের মাধ্যমে সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করে কেবল নিজস্ব বা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করা।
রাজনৈতিক দল ও চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর মধ্যে প্রধান পার্থক্যগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
১. লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য: রাজনৈতিক দলের লক্ষ্য থাকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে শাসনকার্য পরিচালনা করা। কিন্তু চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর লক্ষ্য ক্ষমতা দখল করা নয়, বরং সরকারের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে নিজেদের স্বার্থ উদ্ধার করা।
২. জাতীয় বনাম গোষ্ঠী স্বার্থ: রাজনৈতিক দল সাধারণত বৃহৎ জাতীয় কল্যাণের কথা চিন্তা করে। বিপরীতে, চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী কেবল তাদের নির্দিষ্ট সদস্য বা শ্রেণির স্বার্থের কথা চিন্তা করে।
৩. নির্বাচনে অংশগ্রহণ: রাজনৈতিক দল সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে এবং প্রার্থী মনোনয়ন দেয়। কিন্তু চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে না, বরং তারা কোনো নির্দিষ্ট দলের হয়ে সমর্থন দিতে পারে।
৪. কার্যপদ্ধতি: রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম সাধারণত প্রকাশ্য এবং প্রত্যক্ষ হয়। অন্যদিকে, চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর কার্যক্রম অনেক সময় অপ্রকাশ্য বা পরোক্ষ হতে পারে।
৫. সাংগঠনিক শক্তি: সাংগঠনিক কাঠামোর দিক থেকে রাজনৈতিক দল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী এবং বিস্তৃত হয়।
উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, রহিম ও করিমের সংগঠন দুটি ভিন্ন উদ্দেশ্য ও কার্যপদ্ধতিতে পরিচালিত হয়, তাই এই দুটি সংগঠনের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান।