(ক)
ওয়ান স্টপ সার্ভিস বলতে এমন এক ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে বোঝায় যেখানে একজন গ্রাহক একজন ব্যাংক কর্মকর্তার কাছ থেকেই তার প্রয়োজনীয় যাবতীয় ব্যাংকিং সেবা লাভ করতে পারেন।
(খ)
স্বয়ংক্রিয় নিকাশঘর বা Automated Clearing House (ACH) হলো একটি ইলেকট্রনিক ব্যবস্থা যার মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর মধ্যকার আন্তঃলেনদেন বা চেক ক্লিয়ারিং প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হয়। আগে নিকাশঘরে হাতে কলমে চেক যাচাই ও নিষ্পত্তির কাজ করা হতো, যা ছিল অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ এবং এতে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা ছিল বেশি। বর্তমানে ACH-এর মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে দেনা-পাওনা নিষ্পত্তি করা যায়। ফলে আন্তঃব্যাংকিং লেনদেন অনেক সহজ, দ্রুত এবং সাশ্রয়ী হয়েছে।
(গ)
উদ্দীপকে রহিমা মোবাইল ব্যাংকিং পদ্ধতিতে তার বাবাকে টাকা পাঠায়।
মোবাইল ফোন ব্যবহার করে যখন ব্যাংকিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়, তখন তাকে মোবাইল ব্যাংকিং বলে। এর মাধ্যমে গ্রাহক ব্যাংকের শাখায় না গিয়েও অর্থ স্থানান্তর, জমা বা উত্তোলনের মতো সেবা লাভ করতে পারেন। গ্রাহকের নির্দিষ্ট পিন (PIN) ব্যবহারের মাধ্যমে লেনদেনের সত্যতা যাচাই করা হয়, যা এই পদ্ধতিকে নিরাপদ করে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, রহিমা তার বাবার চিকিৎসা খরচের টাকা পাঠানোর জন্য তার বান্ধবীর পরামর্শে একটি তারবিহীন ই-প্রযুক্তি ব্যবহার করে। এর ফলে সে ব্যাংকে না গিয়েও গ্রামে টাকা পাঠাতে পারে এবং সাথে সাথে প্রাপ্তির সংবাদ পায়। তারবিহীন ই-প্রযুক্তি এবং তাৎক্ষণিক লেনদেনের এই বৈশিষ্ট্যগুলো মোবাইল ব্যাংকিং-এর পরিচায়ক। সুতরাং, রহিমা মোবাইল ব্যাংকিং পদ্ধতি ব্যবহার করে তার বাবাকে টাকা পাঠিয়েছে।
(ঘ)
হ্যাঁ, আমি মনে করি উদ্দীপকে রহিমার অনুসৃত মোবাইল ব্যাংকিং পদ্ধতিটি বর্তমানে অধিক জনপ্রিয়।
বর্তমান যুগে প্রযুক্তির উৎকর্ষতার ফলে ব্যাংকিং সেবা এখন মানুষের হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। মোবাইল ব্যাংকিং-এর জনপ্রিয়তার প্রধান কারণগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. সহজলভ্যতা: গ্রাহককে ব্যাংকের শাখায় যেতে হয় না, যেকোনো স্থান থেকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে লেনদেন করা যায়।
২. দ্রুততা: টাকা পাঠানো এবং প্রাপ্তির সংবাদ তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়, যা উদ্দীপকে রহিমার ক্ষেত্রে দেখা গেছে।
৩. নিরাপত্তা: নির্দিষ্ট পিন (PIN) ব্যবহারের ফলে লেনদেন অধিক নিরাপদ হয় এবং অননুমোদিত প্রবেশ রোধ করা যায়।
৪. আর্থিক অন্তর্ভুক্তি: গ্রামের সাধারণ মানুষ, যাদের প্রথাগত ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট নেই, তারাও এই সেবার মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনের সুযোগ পায়।
৫. বহুমুখী সেবা: শুধু টাকা পাঠানো নয়, ইউটিলিটি বিল পরিশোধ, মোবাইল রিচার্জ এবং ক্ষুদ্র সঞ্চয়ের মতো কাজগুলোও খুব সহজে করা যায়।
উদ্দীপকে রহিমা যেভাবে তার বাবার চিকিৎসা খরচের টাকা দ্রুত এবং স্বস্তির সাথে পাঠাতে পেরেছে, তা প্রমাণ করে যে এই পদ্ধতিটি সাধারণ মানুষের জীবনকে সহজ করেছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে এই সেবার গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেশি। তাই বর্তমান সময়ে রহিমার অনুসৃত মোবাইল ব্যাংকিং পদ্ধতিটি অধিক জনপ্রিয়।