ক.
কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে কৃত্রিমভাবে গবেষণাগারে যন্ত্রপাতির সাহায্যে উৎপাদিত ঘটনাবলির সুনিয়ন্ত্রিত প্রত্যক্ষণকে পরীক্ষণ (Experiment) বলে।
খ.
কোনো পরিবর্তনীয় ঘটনাকে কোনো কার্যের কারণ বলে চিহ্নিত করলে কাকতলীয় অনুপপত্তি (Fallacy of 'Post hoc ergo propter hoc') ঘটে।
যেকোনো পূর্ববর্তী ঘটনাকে কারণ বলে চিহ্নিত করা যায় না। কারণ ও কার্যের মধ্যে একটা অনিবার্য সম্পর্ক থাকে। তাই কারণ কোনো পরিবর্তনীয় ঘটনা হতে পারে না। আর কোনো পরিবর্তনীয় ঘটনাকে কারণ বলে ধারণা করলে কাকতলীয় অনুপপত্তি ঘটে। যেমন: বলা হলো, ধূমকেতুর উদয় রাজার মৃত্যুর কারণ। এখানে কাকতলীয় অনুপপত্তি ঘটেছে। কারণ ধূমকেতুর উদয় একটি পরিবর্তনীয় ঘটনা। যার সাথে রাজার মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক নেই।
গ.
গ্রাম্য চিকিৎসকের রোগ নির্ণয়ের পদ্ধতি আমার পাঠ্যবইয়ের নিরীক্ষণের দিকটিকে নির্দেশ করে।
কোনো একটি বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে প্রাকৃতিক পরিবেশে কোনো ঘটনাকে সুনিয়ন্ত্রিতভাবে প্রত্যক্ষণ করাকে নিরীক্ষণ (Observation) বলে। অর্থাৎ নিরীক্ষণও এক ধরনের প্রত্যক্ষণ, তবে তা প্রাকৃতিক পরিবেশে সুনিয়ন্ত্রিতভাবে এবং পরিকল্পিতভাবে সম্পন্ন হয়। যেমন: রাস্তার পাশে একটা মৃতদেহ পড়ে আছে। খবর পেয়ে একজন সাংবাদিক ছুটে এলেন। মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনের জন্য তিনি মৃত্যুর সাথে যুক্ত অবস্থাদি মনোযোগ সহকারে প্রত্যক্ষ করলেন। এক্ষেত্রে মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকের এই উদ্দেশ্যমূলক ও সুনিয়ন্ত্রিত প্রত্যক্ষণই নিরীক্ষণ।
উদ্দীপকে রহিমা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ল। তার হাত-পা অবশ হয়ে গেল। এ অবস্থায় গ্রাম্য চিকিৎসক কোনো পরীক্ষা ছাড়াই শুধু তাকে দেখে ওষুধ দিলেন। গ্রাম্য চিকিৎসকের রোগ নির্ণয়ের এই পদ্ধতিটি পাঠ্যবইয়ের নিরীক্ষণের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। নিরীক্ষণের ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে একটা বিষয়কে প্রত্যক্ষ করা হয়। তাই গ্রাম্য চিকিৎসকের রোগ নির্ণয়ের এই পদ্ধতিটিকে নিরীক্ষণ বলা যায়।
ঘ.
উদ্দীপকে বর্ণিত রোগীর চিকিৎসায় নিরীক্ষণ ও পরীক্ষণ নামক দুটি পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে, যার মধ্যে পরীক্ষণ পদ্ধতি অধিকতর গ্রহণযোগ্য।
প্রাকৃতিক পরিবেশে প্রাকৃতিক বস্তু ও ঘটনাবলির প্রত্যক্ষণ হলো নিরীক্ষণ। আর কৃত্রিম পরিবেশে কৃত্রিমভাবে উৎপাদিত ঘটনাবলির প্রত্যক্ষণ হলো পরীক্ষণ। তাই পরীক্ষণের ঘটনা পরীক্ষকের ওপর নির্ভরশীল, কিন্তু নিরীক্ষণের ঘটনা প্রকৃতি নির্ভর। পরীক্ষণের ক্ষেত্রে ঘটনার পুনরাবৃত্তি সম্ভব নয়। সবকিছু মিলিয়ে পরীক্ষণে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়। কিন্তু নিরীক্ষণে তা পাওয়া যায় না।
উদ্দীপকে রহিমা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে তাকে গ্রাম্য চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। গ্রাম্য চিকিৎসক কোনো পরীক্ষা ছাড়াই শুধু তাকে দেখে ওষুধ দিলেন।। এতে সে সুস্থ না হলে পরবর্তীতে তাকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রহিমাকে বিভিন্ন পরীক্ষা করিয়ে বললেন, রহিমা ব্রেন স্টোক করেছে। গ্রাম্য ডাক্তার শুধুমাত্র নিরীক্ষণের মাধ্যমে চিকিৎসা করায় তার চিকিৎসায় রোগী সুস্থ হয়নি। কিন্তু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বিভিন্ন পরীক্ষণের মাধ্যমে রহিমাকে চিকিৎসা করায় একটা নিশ্চিত সিদ্ধান্ত দিতে পেরেছে এবং সঠিক রোগ নির্ণয় করতে পেরেছে।
প্রত্যক্ষণের ক্ষেত্রে নিরীক্ষণ ও পরীক্ষণ উভয়েরই প্রয়োজন। কিন্তু নিশ্চিত সত্য লাভ করতে হলে পরীক্ষণ পদ্ধতি অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে উদ্দীপকে গ্রাম্য চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের চিকিৎসা থেকেই পরীক্ষণের গুরুত্ব অনুধাবন করা যায়।