Facebook Pixel

রহিম সাহেব ২৫ কোটি টাকা ব্যয় করে একটি শিল্প স্থাপন করেন। তার শিল্প প্রতিষ্ঠানে ২৫০ জন শ্রমিককে যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ দেওয়া হয়। রহিম সাহেবের বন্ধু জামাল সাহেব উৎপাদন ক্ষেত্রে বিশেষায়ন, সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে একটি কারখানা স্থাপন করেন যেখানে ৫০০ জন শ্রমিক কাজ করে এবং মূলধন এর পরিমাণ ৩৫ কোটি। এ শিল্পের বেশ কিছু সমস্যা সম্পর্কে অবগত হন। তিনি মনে করেন কারিগরি উন্নয়ন, উৎপন্ন পণ্যের গুণগত মান বৃদ্ধি, শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ, আইটেম বৃদ্ধি করতে পারলে এদেশের রপ্তানি আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। ক. কুটির শিল্প কী? খ. আমদানি বিকল্প শিল্প দেশীয় শিল্পের সংরক্ষণে ভূমিকা রাখে- ব্যাখ্যা করো। গ. রহিম সাহেবের শিল্প কোন ধরনের শিল্প? ব্যাখ্যা করো। ঘ. জামাল সাহেবের প্রতিষ্ঠিত শিল্পটি কীভাবে আরও সম্ভাবনাময় হয়ে উঠতে পারে?- ব্যাখ্যা করো।

বিষয়: অর্থনীতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ বাংলাদেশের শিল্প

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. যে শিল্প প্রতিষ্ঠানে প্রধানত পরিবারের সদস্যরা খণ্ডকালীন বা পূর্ণকালীন শ্রম দিয়ে পণ্য উৎপাদন করে এবং যার মূলধন ও শ্রমিকের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে খুব কম, তাকে কুটির শিল্প বলে। সাধারণত বাঁশ, বেত, মৃৎশিল্প বা হস্তশিল্প কুটির শিল্পের অন্তর্গত। খ. আমদানি বিকল্প শিল্প বলতে সেই সব শিল্পকে বোঝায় যা বিদেশে উৎপাদিত পণ্যের বিকল্প হিসেবে দেশে পণ্য উৎপাদন করে। এটি দেশীয় শিল্প সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে কারণ: পরনির্ভরশীলতা হ্রাস: বিদেশের ওপর নির্ভর না করে প্রয়োজনীয় পণ্য দেশেই তৈরি করা সম্ভব হয়। বাজার দখল: বিদেশের সস্তা পণ্যের সাথে প্রতিযোগিতার হাত থেকে দেশীয় শিল্পকে বাঁচাতে এটি ঢাল হিসেবে কাজ করে। কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি: দেশীয় উদ্যোক্তারা উৎসাহিত হয়, ফলে দেশীয় কলকারখানা বিকশিত হয় এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হয়। গ. রহিম সাহেবের শিল্পটি কেন মাঝারি শিল্প , সেটি আরও বিস্তারিতভাবে নিচে ব্যাখ্যা করা হলো। বাংলাদেশে কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান কোন ক্যাটাগরিতে পড়বে তা মূলত 'জাতীয় শিল্পনীতি' -এর মানদণ্ড অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। একটি শিল্পকে মাঝারি শিল্প হিসেবে চিহ্নিত করার দুটি প্রধান মাপকাঠি রয়েছে: ১. মূলধনের পরিমাণ (জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য)। ২. শ্রমিক সংখ্যা । নিচে উদ্দীপকের তথ্যের সাথে শিল্পনীতির (ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের জন্য) তুলনা দেওয়া হলো: ১. মূলধনের ভিত্তিতে বিশ্লেষণ: শিল্পনীতির নিয়ম: ম্যানুফ্যাকচারিং বা উৎপাদনমুখী শিল্পের ক্ষেত্রে যদি মূলধনের পরিমাণ ১৫ কোটি টাকার বেশি কিন্তু ৫০ কোটি টাকার নিচে হয়, তবে তাকে মাঝারি শিল্প বলা হয়। উদ্দীপকের তথ্য: রহিম সাহেব তার শিল্প প্রতিষ্ঠানে ২৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন। যেহেতু এই ২৫ কোটি টাকা ১৫ থেকে ৫০ কোটির সীমার মধ্যে অবস্থিত, তাই এটি মাঝারি শিল্পের শর্ত পূরণ করে। ২. শ্রমিক সংখ্যার ভিত্তিতে বিশ্লেষণ: শিল্পনীতির নিয়ম: উৎপাদনমুখী শিল্পে যদি শ্রমিক সংখ্যা ১২১ জন থেকে ৩০০ জন এর মধ্যে থাকে, তবে তাকে মাঝারি শিল্প হিসেবে গণ্য করা হয়। উদ্দীপকের তথ্য: রহিম সাহেবের প্রতিষ্ঠানে ২৫০ জন শ্রমিক কর্মরত আছেন। এই সংখ্যাটিও ১২১-৩০০ জনের নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে পড়ে। সমন্বিত সিদ্ধান্ত: যেহেতু রহিম সাহেবের প্রতিষ্ঠিত শিল্পটি মূলধনের দিক থেকে (২৫ কোটি টাকা) এবং শ্রমিক সংখ্যার দিক থেকে (২৫০ জন)—উভয় দিক থেকেই বাংলাদেশের শিল্পনীতির 'মাঝারি শিল্প' -এর নির্ধারিত শর্তগুলো পূরণ করেছে, তাই নিদ্বিধায় বলা যায় এটি একটি মাঝারি শিল্প। ঘ. জামাল সাহেবের প্রতিষ্ঠিত শিল্পটি (যা মূলধন ও শ্রমিকের সংখ্যার ভিত্তিতে একটি বৃহৎ শিল্পের পর্যায়ে পড়ে) আরও সম্ভাবনাময় করে তোলার জন্য উদ্দীপকে কিছু সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিচে সেগুলো বিশ্লেষণ করা হলো: ১. কারিগরি উন্নয়ন: আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার এবং প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটলে উৎপাদন খরচ কমবে এবং পণ্যের সূক্ষ্মতা বৃদ্ধি পাবে। ২. মান নিয়ন্ত্রণ: পণ্যের গুণগত মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ের করা গেলে তা শুধু দেশের বাজারে নয়, বিদেশের বাজারেও জনপ্রিয়তা পাবে। ৩. শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ: দক্ষ শ্রমিক যে কোনো শিল্পের প্রাণ। নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শ্রমিকদের দক্ষতা বাড়ালে সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং অপচয় কমবে। ৪. পণ্যের বৈচিত্র্যকরণ: একই ধরণের পণ্য না বানিয়ে নতুন নতুন আইটেম বা নকশা যোগ করলে বাজারের নতুন চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। ৫. রপ্তানি বৃদ্ধি: উপরের পদক্ষেপগুলো সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে, যা শিল্পটিকে টেকসই ও লাভজনক করে তুলবে। পরিশেষে বলা যায়, জামাল সাহেব যদি তার শিল্পে প্রযুক্তির ছোঁয়া এবং শ্রমিকের দক্ষতা নিশ্চিত করতে পারেন, তবে এটি দেশের অর্থনীতিতে একটি মাইলফলক হিসেবে পরিচিতি পাবে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

রহিম সাহেব ২৫ কোটি টাকা ব্যয় করে একটি শিল্প স্থাপন করেন। তার শিল্প প্রতিষ্ঠানে ২৫০ জন শ্রমিককে যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ দেওয়া হয়। রহিম সাহেবের বন্ধু জামাল সাহেব উৎপাদন ক্ষেত্রে বিশেষায়ন, সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে একটি কারখানা স্থাপন করেন যেখানে ৫০০ জন শ্রমিক কাজ করে এবং মূলধন এর পরিমাণ ৩৫ কোটি। এ শিল্পের বেশ কিছু সমস্যা সম্পর্কে অবগত হন। তিনি মনে করেন কারিগরি উন্নয়ন, উৎপন্ন পণ্যের গুণগত মান বৃদ্ধি, শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ, আইটেম বৃদ্ধি করতে পারলে এদেশের রপ্তানি আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

ক.

কুটির শিল্প কী?

খ.

আমদানি বিকল্প শিল্প দেশীয় শিল্পের সংরক্ষণে ভূমিকা রাখে- ব্যাখ্যা করো।

গ.

রহিম সাহেবের শিল্প কোন ধরনের শিল্প? ব্যাখ্যা করো।

ঘ.

জামাল সাহেবের প্রতিষ্ঠিত শিল্পটি কীভাবে আরও সম্ভাবনাময় হয়ে উঠতে পারে?- ব্যাখ্যা করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

A, B ও C তিনটি উৎপাদনশীল কারখানার (শ্রমঘন নয়) কিছু তথ্য দেওয়া হলো: ক. আমদানি বিকল্প শিল্প কী? খ. বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি...

EPZ কী ?

EPZ অর্থ-

PPI এর পূর্ণরূপ কোনটি?

PPP এর পূর্ণরূপ নিচের কোনটি?

'SME – এর পূর্ণরূপ নিচের কোনটি?

X দেশের কয়েক দশক পূর্ব হতে বর্তমান পর্যন্ত পাট ও পাটজাত দ্রব্য প্রধান রপ্তানি দ্রব্য। তবে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা, গুণগত ...

'X' দেশের রপ্তানী আয়ে সিংহভাগ আসে একটি শিল্প থেকে, যার অধিকাংশ শ্রমিক মহিলা। উক্ত শিল্পে উৎপাদিত পণ্যের আর্ন্তজাতিক বাজা...

'Y' দেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। দেশটি বেশির ভাগ শিল্পজাত দ্রব্য আমদানি করে। পূর্বে সকল মোটরসাইকেল বিদেশ থেকে আমদানি করা হতো।...

'Z' দেশের শিল্প কাঠামো ৫ প্রকার, মোট শ্রমশক্তি ২০.৪% শিল্প খাতে কাজ করে। মূলধনের অভাব, দক্ষ শ্রমিকের অভাব, ইত্যাদি সমস্য...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।