ক.
আমলাতন্ত্রের জনক হলেন ম্যাক্স ওয়েবার।
খ.
আমলাতন্ত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো নিরপেক্ষতা। উদারনৈতিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক দল সরকার গঠন করতে পারে। কিন্তু যে সরকারই ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হোক না কেন, সরকারের নীতিসমূহকে বাস্তবে রূপায়িত করা আমলাদের কর্তব্য। এভাবে আমলাদের দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে থাকতে হয়। একেই বলা হয় আমলাতন্ত্রের রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা।
গ.
উদ্দীপকের রহিমা বেগম 'ক' প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন এবং তিনি' স্থায়ীভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত। তার চাকরির বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় বলা যায়, তিনি একজন সরকারি আমলা। সরকারি আমলা দেশ ও জনগণের সেবায় সর্বদা নিয়োজিত থাকেন এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রদর্শনে বদ্ধপরিকর। আমলারা মেধার ভিত্তিতে চাকরিতে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। স্থায়িত্ব আমলাতন্ত্রের প্রথম ও প্রধান বৈশিষ্ট্য। 'এ ব্যবস্থায় যারা কর্মরত থাকে তারা সরকারের স্থায়ী ও বেতনভুক্ত কর্মচারী। তারা একটি নির্দিষ্ট বয়সসীমা পর্যন্ত কর্মরতভাবে পদে আসীন থাকে। এ ব্যবস্থায় নিম্নস্তরের কর্মচারীরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আদেশ-নির্দেশ মেনে চলেন। সাধারণত দেখা যায়, আমলারা তাদের কাজের জন্য সর্বদা দায়িত্বশীল থাকেন। নিম্নস্তরের কর্মচারীরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে যেমন দায়ী থাকে তেমনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আবার মন্ত্রিপরিষদের নিকট দায়ী থাকেন। যে কারণে আমলারা দায়িত্বশীলতার সাথে তাদের কর্মসম্পাদন করে থাকে। উদারনৈতিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সরকারের বিপুল পরিমাণ জনকল্যাণকর কার্যাদি সম্পাদনে দায়িত্ব আমলাদের ওপর ন্যস্ত থাকে। তাই স্বাভাবিকভাবেই আমলারাও জনকল্যাণ সাধনকেই তাদের প্রধান কাজ হিসেবে গ্রহণ করে। অতএব বলা যায়, রাহিমা বেগমের চাকরির ধরন উপরিউক্ত বৈশিষ্ট্যের অনুরূপ।
ঘ.
উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানের কর্মকতাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কতিপয় কৌশল রয়েছে। উদ্দীপকের রহিমা বেগম একজন সরকারি আমলা। তারা মনে করেন সে, স্থায়ী চাকরিজীবী হলেও তাদেরকে জবাবদিহিতা করতে হবে। জনগণের কাছে সরাসরি জবাবদিহিতা না করলেও তারা তাদের ঊর্ধ্বতনের কাছে জবাবদিহি করেন। রাষ্ট্রের শাসক হিসেবে ভূমিকা পালন করে রাজনৈতিক নেতৃত্ব। তাই রাজনৈতিক নেতৃত্বকে আমলাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর কৌশল অবলম্বন করতে হবে। প্রয়োজনে আইন সংশোধন করে আমলাতান্ত্রিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। আমলাতান্ত্রিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে না পারলে সুশাসন কখনো আলোর মুখ দেখবে না। পাশাপাশি আমলাতান্ত্রিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য অন্যান্য যে সকল কৌশল রয়েছে সেগুলো প্রয়োগ করতে হবে। প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে ই-গভর্নেন্সে রূপান্তর করতে পারলে আমলাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সহজ হবে এবং নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি পাবে। আমলারা যাতে স্বচ্ছতা ও নিয়মনিষ্ঠা পালন করে এবং দলীয় প্রভাব ও হস্তক্ষেপের উর্ধ্বে থেকে নাগরিকদের সেবা প্রদান করতে সক্ষম হয় তা নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি আমলাদের আর্থিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করতে হবে। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে সরকারি আমলাদের তুলনায় বেসরকারি প্রশাসনের কর্মকর্তারা অধিক আর্থিক সুবিধা ভোগ করছে। এ বৈষম্য দূর করতে হবে। আমলাদের সম্পদ বিবরণী প্রতিবছরই প্রকাশ করার ব্যবস্থা করতে হবে। আমলাদেরকে যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নীতি প্রণয়নে ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সিদ্ধহস্ত করে তুলতে হবে। আমলাদের দুর্নীতি ও তাদের কর্মে
গাফিলতির ক্ষেত্রে নাগরিক অংশগ্রহণকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। উপরিউক্ত কৌশলসমূহ বাস্তবায়ন করার মাধ্যমেই উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা বা আমলাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায়।