Facebook Pixel

রহিমা বেগম ও তার স্বামী গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে চাকরি করে। রহিমা লক্ষ করেন, কর্মস্থলে নারী ও পুরুষের কর্মের পরিবেশ, সুযোগ-সুবিধা ও বাস্তবতা ভিন্ন। একই কাজ করেও সে স্বামীর চেয়ে বেতন ও পদোন্নতিতে কম সুযোগ পায়। বাড়িতে এসে তার স্বামী আরাম আয়েস করলেও রহিমা তা পারে না। খাবার-দাবার গরম করা, বাচ্চাদের খোঁজখবর নেওয়াসহ সংসারের যাবতীয় কাজকর্ম তাকেই সামলাতে হয়। তার স্বামীর মতে, এসব নাকি মহিলাদের কাজ। ক. প্রগতি কী? খ. সামাজিক নিয়ন্ত্রণে ধর্মের ভূমিকা ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে রহিমা বেগমের ক্ষেত্রে কোন ধরনের সামাজিক অসমতার চিত্র ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দীপকের বাস্তবতা সামাজিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে অন্তরায়- বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৮ঃ সামাজিক স্তরবিন্যাস ও অসমতা

উৎস: Board Exam Question RB 2025, Board Exam Question Combined 2025

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. প্রগতি হলো কোনো কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের অভিমুখে অগ্রসর হওয়া। খ. ধর্মীয় চেতনা সামাজিক নিয়ন্ত্রণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকরী বাহন। প্রতিটি ধর্মেরই সর্বজনীন আবেদন থাকে যা মানুষকে ন্যায়ের পথে এগিয়ে যেতে এবং অন্যায় থেকে দূরে থাকতে উৎসাহ যোগায়। পৃথিবীতে প্রচলিত প্রায় সব ধর্মেই ইহজগতে সৎকর্মের মাধ্যমে পরজগতে অনন্ত সুখের ধারণা দেওয়া হয়েছে। সাথে সাথে অসৎ কর্মে শাস্তিও বর্ণিত আছে সে সম্পর্কেও বলা হয়েছে। ফলে পরজগতে সুখের প্রত্যাশা ও শান্তির ভয় মানুষকে অনেক ক্ষেত্রেই নিয়ন্ত্রিত আচার-আচরণ করতে অনুপ্রাণিত করে। গ. উদ্দীপকে রহিমা বেগমের ক্ষেত্রে লিঙ্গভিত্তিক সামাজিক অসমতার চিত্র ফুটে উঠেছে। প্রকৃতিগতভাবে মানুষ নারী ও পুরুষ-এ দুই ভাগে বিভক্ত। নারী ও পুরুষভেদে যে সামাজিক অসমতা তা মনুষ্য সৃষ্ট নয়। এ অসমতা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক। প্রাকৃতিক কারণে এই অসমতার উদ্ভব হলেও সমাজজীবনে এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে। পুরুষ ও নারীর লিঙ্গ ভেদাভেদের দোহাই দিয়ে সমাজ নারী ও পুরুষের সম্পর্কের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করেছে। সুদূর অতীতে শিকারি সমাজে সন্তানধারণ, লালন-পালন, গৃহস্থলির কাজের সাথে নারীরা অধিকভাবে যুক্ত হয়ে যাওয়ায় ক্রমে এগুলোকে নারীর কাজ হিসেবে ধরে নারীকে গৃহবন্দি করে ফেলা হয় এবং নারীর ওপর পুরুষের প্রাধান্য সৃষ্টি হয়। নারী ও পুরুষের এই অসমতার ভিত্তিতে সৃষ্টি হয়, পারিবারিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক নানা বৈষম্য যা কালক্রমে পুরুষশাসিত সমাজের জন্ম দেয়। যেমনটি উদ্দীপকেও পরিলক্ষিত হয়। উদ্দীপকে দেখা যায়, রহিমা বেগম ও তার স্বামী একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে চাকরি করে। কিন্তু সেখানে নারী ও পুরুষের কর্মের পরিবেশ, সুযোগ-সুবিধা ও বাস্তবতা ভিন্ন। একই কাজ করেও রহিমা তার স্বামীর চেয়ে বেতন ও পদোন্নতিতে কম সুযোগ পায়। আবার বাড়িতে এসে তার স্বামী আয়েস করলেও রহিমা তা পারে না। খাবার-দাবার গরম করা, বাচ্চাদের খোঁজখবর নেওয়াসহ সংসারের যাবতীয় কাজ তাকেই সামলাতে হয়। তার স্বামীর মতে এসব মহিলাদের কাজ। এসব বিষয় পাঠ্যবইয়ের জেন্ডার বা লিঙ্গভিত্তিক অসমতার ধারণার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। সুতরাং বলা যায়, রহিমা বেগমের ক্ষেত্রেও সামাজিক অসমতার লিঙ্গভিত্তিক উপাদানটির চিত্র ফুটে উঠেছে। ঘ. উদ্দীপকের বাস্তবতা অর্থাৎ লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য সামাজিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে অন্তরায়। এ বিষয়টির সাথে আমি একমত পোষণ করি। বর্তমান পৃথিবীতে অর্ধেক মানুষ নারী। তাই নারীকে অবহেলা বা বঞ্চিত করে বিশ্বব্যাপী সার্বিক ও যথাযথ উন্নয়ন আশা করা যায় না। কিন্তু জেন্ডারের ভিত্তিতে সৃষ্ট সামাজিক বৈষম্যের কারণে নারীরা সমাজের সকল স্তরেই উপেক্ষিত হচ্ছে। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্রসহ সকল ক্ষেত্রেই তারা বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। উদ্দীপকের রহিমা বেগমের ক্ষেত্রেও জেন্ডার বৈষম্যের নেতিবাচক প্রভাব লক্ষ করা যায়। যেমন- কর্মপরিবেশ, সুযোগ-সুবিধা, বেতন ও পদোন্নতি, সংসারের কাজকর্ম, ছেলেমেয়েদের খোঁজখবর রাখা ইত্যাদি। এসব বৈষম্য দেশের সার্বিক উন্নয়নকে পিছিয়ে দিচ্ছে। মূলত সমাজ উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হলো নারী-পুরুষ উভয়ই। নারীকে পিছনে। রেখে সমাজ কখনো উন্নয়নের শীর্ষে পৌঁছাতে পারে না। তাই অগ্রগতি, ও উন্নয়নের জন্য নারী-পুরুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা দরকার। এর সাথে। সাথে দরকার সমাজে বিরাজিত জেন্ডার বা লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য দূর করা। তাহলেই সমাজের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব হবে বলে আমি মনে করি। নতুবা জেন্ডার বৈষম্য সমাজের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenRajshahi Board (2025)Combined Board (2025)

রহিমা বেগম ও তার স্বামী গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে চাকরি করে। রহিমা লক্ষ করেন, কর্মস্থলে নারী ও পুরুষের কর্মের পরিবেশ, সুযোগ-সুবিধা ও বাস্তবতা ভিন্ন। একই কাজ করেও সে স্বামীর চেয়ে বেতন ও পদোন্নতিতে কম সুযোগ পায়। বাড়িতে এসে তার স্বামী আরাম আয়েস করলেও রহিমা তা পারে না। খাবার-দাবার গরম করা, বাচ্চাদের খোঁজখবর নেওয়াসহ সংসারের যাবতীয় কাজকর্ম তাকেই সামলাতে হয়। তার স্বামীর মতে, এসব নাকি মহিলাদের কাজ।

ক.

প্রগতি কী?

খ.

সামাজিক নিয়ন্ত্রণে ধর্মের ভূমিকা ব্যাখ্যা কর।

গ.

উদ্দীপকে রহিমা বেগমের ক্ষেত্রে কোন ধরনের সামাজিক অসমতার চিত্র ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

উদ্দীপকের বাস্তবতা সামাজিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে অন্তরায়- বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।