ক.
এফ, আই, গ্লাউড F. I. Gloud এর মতে, "যেসব প্রতিষ্ঠান, অভ্যাস, কার্যাবলি ও চেতনার দ্বারা মানুষ রাষ্ট্রীয় বা রাজনৈতিক সমাজের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন এবং অধিকার ভোগ করতে পারে, তার অধ্যয়নই হচ্ছে পৌরনীতি।"
খ.
মানবসভ্যতার আদি ও অকৃত্রিম সংগঠন হলো পরিবার।
অ্যারিস্টটলের মতে, পরিবার হলো রাষ্ট্রের আদিরূপ। সময়ের ধারাবাহিকতায় পরিবারের সম্প্রসারণ ঘটেছে এবং গড়ে উঠেছে রাষ্ট্র ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান। কেননা, পরিবার থেকেই মানুষের ব্যক্তিত্ব ও মনুষ্যত্বের বিকাশ লাভ করে। যুগে যুগে মানব ইতিহাসে আদি শিক্ষালয় হিসেবেও পরিবারই মুখ্য ছিল। মানুষের সভ্যতা গড়ে উঠেছে পরিবারের উপর ভিত্তি করেই। তাই পরিবারকে বলা হয় সভ্যতার একক।
গ.
উদ্দীপকে উল্লেখিত জ্ঞানের সেই বিশেষ শাখাটি পৌরনীতি ও সুশাসন নামে পরিচিত, যার পরিধি ও বিষয়বস্তু ব্যাপক।
পৌরনীতি ও সুশাসনের পরিধি ও বিষয়বস্তুর ক্ষেত্রে দেখা যায়, এটি নাগরিকতার উদ্ভব, বিকাশ, বিবর্তন, সুনাগরিকতা, নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। সমাজের মৌলিক প্রতিষ্ঠান যেমন- পরিবার ও রাষ্ট্রের উৎপত্তি, বিকাশ, কার্যাবলি প্রভৃতি পৌরনীতি ও সুশাসনের আলোচনার অন্তর্ভুক্ত। এটি নাগরিকের অতীত, বর্তমান এবং সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি নাগরিকতার স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিক নিয়েও আলোচনা করে। পৌরনীতি ও সুশাসন রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক অগ্রগতি সম্পর্কেও আলোচনা করে। পাশাপাশি রাজনৈতিক দল, গণতন্ত্র, সরকার, নির্বাচন, জনমত প্রভৃতি বিষয়গুলোও পৌরনীতি ও সুশাসনে আলোচিত হয়। এছাড়া আন্তর্জাতিক নাগরিকতা, বিশ্বগ্রাম, আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্ক ইত্যাদি বিষয়গুলোও পৌরনীতি ও সুশাসনের আলোচ্য বিষয়।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, একাদশ শ্রেণির মানবিক শাখার ছাত্র রহিমের ইচ্ছা রাজনীতি ও সমাজ সেবার মাধ্যমে দেশ ও জাতির কল্যাণে আত্মনিয়োগ করা। তাই সে সুযোগ পেলে তার বাবার সাথে নাগরিকের অধিকার, রাষ্ট্র, সংবিধান ও সুশাসন নিয়ে আলোচনা করে। ছেলের আগ্রহ দেখে রহিমের বাবা এ বিষয়ে আরও জ্ঞান অর্জনের জন্য তাকে নাগরিকতা সংশ্লিষ্ট বিষয়টি পাঠ্য হিসেবে নেওয়ার পরামর্শ দেয়। উদ্দীপকের এসব তথ্য পৌরনীতি ও সুশাসন বিষয়কেই নির্দেশ করে। কেননা নাগরিক জীবনের সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পৌরনীতি ও সুশাসনই আলোচনা করে থাকে।
ঘ.
রহিমের ইচ্ছানুযায়ী রাজনীতি ও জনসেবার মাধ্যমে দেশ ও জাতির কল্যাণে আত্মনিয়োগ করতে রহমান সাহেবের পরামর্শ হিসেবে পৌরনীতি ও সুশাসন বিষয় অধ্যয়নের যৌক্তিকতা অত্যাবশ্যক।
পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠ নাগরিকের আত্মসংযম, বিবেক, বুদ্ধিমত্তা ইত্যাদি গুণাবলি শিক্ষা দেয় এবং নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি করে। সামাজিক পরিবেশের সাথে নাগরিক জীবনকে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে পৌরনীতি ও সুশাসনের যৌক্তিকতা লক্ষণীয়। তাই উন্নত সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবন গঠন করার জন্য পৌরনীতি ও সুশাসনের শিক্ষা অত্যাবশ্যক। উক্ত বিষয়টি পাঠের মাধ্যমে নাগরিকরা তাদের অধিকার ও দায়িত্ব কর্তব্য সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে পারে। পৌরনীতি ও সুশাসনের যৌক্তিকতা আলোচনায় আমরা জানতে পারি যে, নাগরিকরা গণতান্ত্রিক রীতিনীতি, মূল্যবোধ প্রভৃতি সম্পর্কে শিক্ষা লাভ করে। এছাড়া রহিমের ইচ্ছানুযায়ী রাজনীতি ও জনসেবার মাধ্যমে দেশ ও জাতির কল্যাণে আত্মনিয়োগের বিষয়ে সুযোগ্য নেতৃত্ব গঠনে সহায়তা করবে।
উদ্দীপকে বর্ণিত রহমান সাহেবের পরামর্শ দেওয়া পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ তথা আইনসভার জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা সম্পর্কে জানতে পারবে। যেহেতু আইন বিভাগের কার্যাবলি পৌরনীতি ও সুশাসনের আলোচ্য বিষয় সেহেতু বলা যায়, রহিমের পঠিত বিষয়টি হলো পৌরনীতি ও সুশাসন। সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হলে পৌরনীতি ও সুশাসনের যৌক্তিকতা অত্যাবশ্যক।
উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, একজন আদর্শ রাজনীতিবিদ ও জনপ্রতিনিধি হয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে আত্মনিয়োগ করতে পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠের কোনো বিকল্প নেই। তাই প্রত্যেক নাগরিকের পৌরনীতি ও সুশাসনের জ্ঞান থাকা আবশ্যক।