Facebook Pixel

রহিম আহমেদ একাদশ শ্রেণির মানবিক শাখার একজন শিক্ষার্থী। সে তার বন্ধুর সাথে আলাপচারিতায় দুটি প্রসঙ্গে সংক্ষিপ্ত বর্ণনা করল- প্রথম প্রসঙ্গ: সমাজবদ্ধ মানুষের রাজনৈতিক জীবনের নানাদিক আলোচনা করাই এর কাজ। এর আলোচনা নাগরিক, নগররাষ্ট্র তথা আধুনিক রাষ্ট্রকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়। আইন ও শাসনব্যবস্থা এর অন্যতম আলোচ্য বিষয়। দ্বিতীয় প্রসঙ্গ: আইনের শাসন এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। সরকারের গৃহীত নীতির বৈধতা এটি প্রতিষ্ঠার জন্য আবশ্যক। এটি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বিচার বিভাগের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক. কোন প্রতিষ্ঠান সুশাসনের ধারণা প্রবর্তন করে? খ. সাম্য প্রতিষ্ঠা কেন প্রয়োজন? গ. উদ্দীপকের প্রথম প্রসঙ্গে যে বিষয়ের প্রতি ঈঙ্গিত প্রদান করা হয়েছে তা অধ্যয়নের গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর। ঘ. দ্বিতীয় প্রসঙ্গে যে বিষয়ের বৈশিষ্ট্যের প্রতি নির্দেশ করা হয়েছে উদ্দীপকে কি তার সকল বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে বলে তুমি মনে কর? মতামত দাও।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০২ঃ সুশাসন

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. বিশ্বব্যাংক সুশাসনের ধারণা প্রবর্তন করে। খ. সাম্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রত্যেক মানুষ সমানভাবে নাগরিক অধিকার ও স্বাধীনতা ভোগের সুযোগ লাভ করে। এজন্য সাম্য প্রতিষ্ঠা প্রয়োজন। সাম্য বলতে বোঝায়, যেখানে মানুষে মানুষে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না এবং সকলেই সমান মর্যাদা লাভ করবে। সাম্য একদিকে যেমন নাগরিকদের মধ্যে সমতা এনে দেয় তেমনি নাগরিক জীবনকে পরিপূর্ণরূপে বিকশিত হতে সহায়তা করে। তাই যেকোনো রাষ্ট্রের নাগরিকদের জীবনকে পরিপূর্ণরূপে বিকশিত করার জন্য সাম্য প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। গ. উদ্দীপকের প্রথম প্রসঙ্গে যে বিষয়ের ইঙ্গিত করা হয়েছে তা হলো পৌরনীতি ও সুশাসন। কেননা উদ্দীপকের প্রথম প্রসঙ্গটিতে বলা হয়েছে সমাজবদ্ধ মানুষের রাজনৈতিক জীবনের নানাবিধ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা এর প্রধান কাজ। নাগরিক, নগররাষ্ট্র তথা আধুনিক রাষ্ট্রকে কেন্দ্র করেই এটি আবর্তিত হয়। আইন ও শাসনব্যবস্থা এর মূল আলোচ্য বিষয়। যা মূলত 'পৌরনীতি ও সুশাসনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠের গুরুত্ব অত্যধিক। এটি জ্ঞানের এমন একটি শাখা যা পাঠের মাধ্যমে একজন আদর্শ ও. দেশপ্রেমিক সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠা সম্ভব হয়। পৌরনীতি নাগরিক জীবন সম্পর্কে সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদান করে বিধায় সভ্য সমাজের প্রত্যেক সদস্যের পৌরনীতি ও সুশাসন বিষয়ে জ্ঞানার্জন অত্যাবশ্যক। পৌরনীতি ও সুশাসন সুস্থ, সুন্দর ও আদর্শ সমাজজীবন গঠনের শিক্ষাদান করে। এর পাঠ নাগরিকতার অতীত ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে পূর্বাভাস দেয়। বুদ্ধিসম্পন্ন, বিবেকবান ও আত্মসংযমী হওয়ার জন্য পৌরনীতির জ্ঞান অত্যাবশ্যক। বিভিন্ন সংগঠনের বিস্তারিত বিশ্লেষণ, সমস্যা নির্ণয় ও তার সমাধান খুঁজে পেতে পৌরনীতির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। নাগরিক সচেতনতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিকাশে পৌরনীতির পাঠ বিকল্পহীন। তাছাড়া নাগরিকদের অধিকার সচেতন করা, তাদের কর্তব্য সম্পর্কে অবগত করাসহ নাগরিক জীবনের সাথে সম্পর্কিত প্রতিটি স্তরে পৌরনীতির জ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ। সর্বোপরি যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি, দেশপ্রেম, মূল্যবোধ, সুনাগরিকতাসহ জীবনের যাবতীয় এ ক্ষেত্রসমূহে পৌরনীতি ও সুশাসনের, গুরুত্ব অপরিসীম। ঘ. উদ্দীপকে দ্বিতীয় প্রসঙ্গে যে বিষয়ের বৈশিষ্ট্যের প্রতি নির্দেশ করা হয়েছে তা হলো সুশাসন। উদ্দীপকে সুশাসনের সকল বৈশিষ্ট্য ফুটে ওঠেনি। উদ্দীপকে আইনের শাসন, সরকারের নীতির বৈধতা নিশ্চিত এবং বিচার বিভাগের ভূমিকার বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে, যা সুশাসনের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এছাড়াও সুশাসনের আরও কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য রয়েছে যেমন- স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, অংশগ্রহণমূলক কার্যক্রম, দক্ষতা ইত্যাদি বিষয় উদ্দীপকে ফুটে ওঠেনি। সুশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো স্বচ্ছতা। স্বচ্ছতার অর্থ হলো পরিষ্কার, স্পষ্ট ও নির্ভুল। সরকারি কার্যক্রম, সিদ্ধান্ত এক নীতিমালার ব্যাপারে জনগণের কাছে সুস্পষ্ট তথ্য প্রদান করাই হচ্ছে স্বচ্ছতা। স্বচ্ছতা সুশাসনের ভিত্তি যা দুর্নীতির সুযোগ হ্রাস করে। জবাবদিহিতা সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে দুর্নীতি হ্রাস পায় এবং শাসনের ক্ষেত্রে গতি ও দক্ষতা বৃদ্ধি পায়। সুশাসনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বা বৈশিষ্ট্য হলো অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া। অংশগ্রহণ এর অর্থ হলো রাজনৈতিক ও শাসন কাজে জনগণের অংশগ্রহণের সুযোগ, নীতি প্রণয়নে নাগরিকের। সম্পৃক্ততা এবং তা বাস্তবায়নে জনগণকে সম্পৃক্ত করা। রাষ্ট্রীয় কাজে জনগণের অংশগ্রহণ সুশাসনকে গতিশীলতা দান করে। দক্ষতা হলো সুশাসনের একটি মৌলিক উপাদান। এর অর্থ হলো প্রাপ্ত সম্পদের ও উপকরণের সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত সুবিধা অর্জন করা। দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি দেশের সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। এছাড়া স্বাধীন গণমাধ্যম, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, দায়িত্বশীলতা, নৈতিক মূল্যবোধ, সততা সুশাসনের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ও বৈশিষ্ট্য হিসেবে পরিচিত। এসবের সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমেই সুশাসন প্রত্যয়টি পরিপূর্ণ রূপ লাভ করে উদ্দীপকে সুশাসনের যেসব বৈশিষ্ট্যের কথা বলা হয়েছে তা সুশাসনের সকল বৈশিষ্ট্যের প্রতিনিধিত্ব করে না। কেননা আইনের শাসন, স্বাধীন বিচার বিভাগ ও সরকারে নীতির বৈধতা ছাড়া সুশাসনের অন্যান্য বৈশিষ্ট্য যেমন- স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, জনগণের অংশগ্রহণ, সমতা ও অন্তর্ভুক্তি এসব বিষয় উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়নি। তাই বলা যায়, সুশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য আইনের শাসন তুলে ধরা হলেও এর সব বৈশিষ্ট্য উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়নি।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

রহিম আহমেদ একাদশ শ্রেণির মানবিক শাখার একজন শিক্ষার্থী। সে তার বন্ধুর সাথে আলাপচারিতায় দুটি প্রসঙ্গে সংক্ষিপ্ত বর্ণনা করল-
প্রথম প্রসঙ্গ: সমাজবদ্ধ মানুষের রাজনৈতিক জীবনের নানাদিক আলোচনা করাই এর কাজ। এর আলোচনা নাগরিক, নগররাষ্ট্র তথা আধুনিক রাষ্ট্রকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়। আইন ও শাসনব্যবস্থা এর অন্যতম আলোচ্য বিষয়।
দ্বিতীয় প্রসঙ্গ: আইনের শাসন এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। সরকারের গৃহীত নীতির বৈধতা এটি প্রতিষ্ঠার জন্য আবশ্যক। এটি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বিচার বিভাগের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ক.

কোন প্রতিষ্ঠান সুশাসনের ধারণা প্রবর্তন করে?

খ.

সাম্য প্রতিষ্ঠা কেন প্রয়োজন?

গ.

উদ্দীপকের প্রথম প্রসঙ্গে যে বিষয়ের প্রতি ঈঙ্গিত প্রদান করা হয়েছে তা অধ্যয়নের গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

দ্বিতীয় প্রসঙ্গে যে বিষয়ের বৈশিষ্ট্যের প্রতি নির্দেশ করা হয়েছে উদ্দীপকে কি তার সকল বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে বলে তুমি মনে কর? মতামত দাও।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।