Facebook Pixel

রহমতপুর ও মিরপুর দু ' টো পাশাপাশি গ্রাম। ধনসম্পদে পরিপূর্ণ হওয়ায় এ গ্রাম দুটোর মধ্যে বিরোধ লেগে থাকতো। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোও দুটি শিবিরে বিভক্ত হয়। কিন্তু বিভিন্ন কারণের প্রেক্ষিতে মিরপুর গ্রাম ভেঙে গেলে রহমতপুর গ্রাম অপ্রতিহত ক্ষমতার অধিকারী হয় । তাকে বাধা দেওয়ার মত কোন শক্তি থাকে না । ক. কত সালে কোরিয়া যুদ্ধ শুরু হয় ? খ. বার্লিন অবরোধ বলতে কী বোঝ ? গ. উদ্দীপকে বর্ণিত মিরপুর গ্রামের সাথে তোমার পঠিত কোন দেশের মিল রয়েছে ? উক্ত দেশের পতন আলোচনা করো । ঘ. উক্ত রাষ্ট্রের পতন কীভাবে দ্বি - মেরু কেন্দ্ৰিক বিশ্ব ব্যবস্থা থেকে এক মেরু কেন্দ্রিক বিশ্ব ব্যবস্থায় রূপান্তরে ভূমিকা রাখে বর্ণনা করো।

বিষয়: ইতিহাস ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৭ঃ স্নায়ুযুদ্ধঃ পুঁজিবাদ ও সমাজতান্ত্রিক বিশ্বের দ্বন্দ্ব

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. ১৯৫০ সালে কোরিয়া যুদ্ধ শুরু হয়। খ. স্নায়ুযুদ্ধকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন পশ্চিম জার্মানির সাথে বার্লিনের যোগাযোগ বন্ধ করে দিলে যে অবরোধ সৃষ্টি হয় তাকেই বার্লিন অবরোধ বলে। স্নায়ুযুদ্ধকালীন জার্মানি দু অংশে বিভক্ত হলে ১৯৪৮ সালে রাশিয়া বা সোভিয়েত সরকার হঠাৎ পশ্চিম বার্লিনের সাথে সংযোগকারী সড়কপথ , রেলপথ এবং খালের ওপর দিয়ে পশ্চিম জার্মানির অধিবাসীদের যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এর ফলে পশ্চিম বার্লিনের ২ মিলিয়ন মানুষ সংকটে পরে। দীর্ঘ ১১ মাস এ অবরোধ অব্যাহত ছিল। পশ্চিম বার্লিনের ওপর সোভিয়েত সরকারের এ অবরোধকেই বার্লিন অবরোধ বলে। গ. উদ্দীপকে বর্ণিত মিরপুর গ্রামের সাথে আমার পঠিত রাশিয়া বা ভূতপূর্ব সোভিয়েত ইউনিয়নের মিল রয়েছে। উদ্দীপকে দেখা যায় , রহমতপুর ও মিরপুর দুটি সম্পদশালী বিরোধী গ্রামের বিরোধকে কেন্দ্র করে পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোও দুটি শিবিরে বিভক্ত হয়। কিন্তু বিভিন্ন কারণে মিরপুর গ্রাম ভেঙে যায়। মিরপুর গ্রামের এ পরিস্থিতির সাথে আমার পঠিত স্নায়ুযুদ্ধকালীন রাশিয়ার মিল রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধপরবর্তী সময়ে দুটি পরাশক্তির উত্থান ঘটে। এ দুটি পরাশক্তি হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন ( রাশিয়ার পূর্বসূরি ) । আদর্শগতভাবে এ দুটি রাষ্ট্র ছিল সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছিল পুঁজিবাদী আদর্শের অনুসারী। অপরদিকে , সোভিয়েত ইউনিয়ন ছিল পুঁজিবাদের শত্রু সমাজতন্ত্রের সূতিকাগার। ১৯১৭ সালে রুশ সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের পথ ধরে সোভিয়েত ইউনিয়নে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠিত হয় । সোভিয়েত ইউনিয়ন যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রকে আদৌ গণতন্ত্র বলে স্বীকার করত না। কারণ তাদরে মতে , এ পুঁজিবাদী গণতন্ত্র হলো ধনীদের যন্ত্র এবং জনগণের গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে আক্রমণ। একইভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আবার সাম্যবাদকে দোষারোপ করে। রাশিয়ার সমাজতান্ত্রিক আদর্শের সম্প্রসারণকে যুক্তরাষ্ট্র নিজের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ মনে করত। ফলে উদ্ভব হয় স্নায়ুযুদ্ধের। স্নায়ুযুদ্ধের ফলাফল হচ্ছে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন। সোভিয়েত ইউনিয়নের ভারসাম্যহীন প্রতিরক্ষা নীতি , অতি কেন্দ্রিকতা , সমজতন্ত্রের কিছু মৌলিক সমস্যা এবং পশ্চিমাদের তুলনায় দুর্বল নীতি ও কৌশল প্রভৃতির কারণে দেশটির ভাঙ্গন অবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠে এবং ১৮৮৯ - ৯০ সময়কালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে ১৫টি রাষ্ট্রের উদ্ভব ঘটে। ঘ. উক্ত রাষ্ট্র অর্থাৎ সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন দ্বি - মেরু কেন্দ্রিক বিশ্ব ব্যবস্থা থেকে এক মেরু কেন্দ্রিক বিশ্ব ব্যবস্থায় রূপান্তরে ভূমিকা রাখে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পূর্বেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন আদর্শগত কারণে পরস্পর প্রতিপক্ষে পরিণত হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি পুঁজিবাদী রাষ্ট্র। অপরদিকে , পুঁজিবাদকে উৎখাত করে রুশ বিপ্লবের মাধ্যমেই সোভিয়েত ইউনিয়নের উত্থান ঘটেছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তরকালে সোভিয়েত কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক যোসেফ স্ট্যালিন কর্তৃক পূর্ব ইউরোপের প্রতি গৃহীত রুশনীতি এবং এর প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস . টুম্যান কর্তৃক ' টুম্যান ডকট্রিন ' ঘোষণা করা হলে স্নায়ুযুদ্ধ তীব্র আকার ধারণ করে। পরবর্তীতে ইউরোপে সমাজতন্ত্রের বিস্তার রোধে মার্কিন পররাষ্ট্র সচিব জর্জ মার্শাল তার ' মার্শাল পরিকল্পনা ' প্রকাশ করেন। মার্শাল পরিকল্পনার বিরুদ্ধে সর্বাপেক্ষা মারাত্মক পদক্ষেপ হিসেবে সোভিয়েত ইউনিয়ন বার্লিন অবরোধ করলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্ররা চিন্তিত হয়ে পড়ে । সোভিয়েত আগ্রাসন থেকে ইউরোপীয় দেশগুলোকে রক্ষা করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার ইউরোপীয় মিত্রদের নিয়ে NATO জোট গঠন করে। এর প্রতিক্রিয়ায় কমিউনিস্ট দেশগুলো সোভিয়েত রাশিয়ার নেতৃত্বে Warsaw নামক সামরিক জোট গঠন করে। এভাবে স্নায়ুযুদ্ধ চরম পর্যায়ে উপনীত হয় এবং বিশ্বব্যাপী আতঙ্ক ও উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থার সৃষ্টি হয়। এহেন পরিস্থিতির অবসান ঘটে ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মধ্য দিয়ে। সোভিয়েতের পতনের ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে মোকাবিলা করার জন্য কার্যত কোনো আদর্শ , দেশ বা সংস্থার অস্তিত ছিল না। ফলে বিশ্ব দ্বি - মেরু রাজনৈতিক পরাশক্তি বলয়ের বিভক্তি থেকে এক পরাশক্তি বলয়ের রাজনৈতিক বিশ্বব্যবস্থায় প্রবেশ করে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

রহমতপুর ও মিরপুর দু'টো পাশাপাশি গ্রাম। ধনসম্পদে পরিপূর্ণ হওয়ায় এ গ্রাম দুটোর মধ্যে বিরোধ লেগে থাকতো। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোও দুটি শিবিরে বিভক্ত হয়। কিন্তু বিভিন্ন কারণের প্রেক্ষিতে মিরপুর গ্রাম ভেঙে গেলে রহমতপুর গ্রাম অপ্রতিহত ক্ষমতার অধিকারী হয় । তাকে বাধা দেওয়ার মত কোন শক্তি থাকে না ।

ক.

কত সালে কোরিয়া যুদ্ধ শুরু হয়?

খ.

বার্লিন অবরোধ বলতে কী বোঝ?

গ.

উদ্দীপকে বর্ণিত মিরপুর গ্রামের সাথে তোমার পঠিত কোন দেশের মিল রয়েছে? উক্ত দেশের পতন আলোচনা করো ।

ঘ.

উক্ত রাষ্ট্রের পতন কীভাবে দ্বি-মেরু কেন্দ্ৰিক বিশ্ব ব্যবস্থা থেকে এক মেরু কেন্দ্রিক বিশ্ব ব্যবস্থায় রূপান্তরে ভূমিকা রাখে বর্ণনা করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।