ক.
ইন্টারনেটের মাধ্যমে সরকারি বিভিন্ন তথ্য ও সেবা জনগণের নিকট পৌছানোকে ই-গভর্নেন্স বলে।
খ.
দুর্নীতি সুশাসনের বড় বাধা। দুর্নীতি নৈতিকতার বিচ্যুতিকে নির্দেশ করে। নীতি ও আইনবিরুদ্ধ অপরাধমূলক আচরণ হলো দুর্নীতি। ই- গভর্নেন্সে দুর্নীতির কোন সুযোগ নেই। কেননা, ই-গভর্নেন্সের ফলে প্রশাসনিক তথ্যগুলো অনলাইনে সংরক্ষিত থাকে। ফলে জনগণ খুব সহজেই প্রশাসন ও বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে কী কাজ হচ্ছে তা জানতে পারে। এ কারণে কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ লোকচক্ষুর অন্তরালে কিছুই করতে পারেন না। ফলে প্রশাসনিক জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়। এতে করে দুর্নীতি রোধ করা সম্ভব হয়।
গ.
উদ্দীপকে ই-গভর্নেন্স প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে। উদ্দীপকে বর্ণিত শিক্ষার অভাব ও তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানের অভাব ছাড়াও এ ব্যবস্থাটি
বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আরো অনেক সমস্যা রয়েছে। উদ্দীপকে উল্লেখ রয়েছে, রোহানের সরকার তথ্য ও প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যে কারণে সরকারের কাজের গতি বেড়েছে ও জটিলতা হ্রাস পেয়েছে। অর্থাৎ সে রাষ্ট্রে ই- গভর্নেন্স প্রচলিত আছে। ই-গভর্নেন্সের বাস্তবায়নের সমস্যা হিসেবে এখানে শিক্ষার অভাব ও তথ্য প্রযুক্তি জ্ঞানের অভাব, এ দুটো সমস্যার উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু ই-গভর্নেন্স বাস্তবায়নে উপযুক্ত সমস্যা দুটি ছাড়াও আরও বেশকিছু সমস্যা রয়েছে।
ই-গভর্নেন্স প্রতিষ্ঠা করা একটি ব্যয়বহুল পদ্ধতি। প্রাথমিকভাবে প্রতিটি দপ্তরে কম্পিউটার ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি স্থাপন, ওয়েবপেজ ও ওয়েবপোর্টাল চালু করা, এসবের উন্নয়ন করা সামগ্রিকভাবে ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। ই-গভর্নেন্সের পথে আর একটি বড় বাধা হলো দক্ষ জনবলের অভাব। দক্ষ জনবল সংকটের কারণে অনেক ক্ষেত্রেই ই-গভর্নেন্স চালু করা সম্ভব হয় না। যদি কোনো দেশের অধিকাংশ মানুষের কম্পিউটার অ্যাকসেস বা ব্যবহারে সুযোগ না থাকে তবে সেখানে ই-গভর্নেন্স অর্থহীন হয়ে পড়ে। দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি থাকায় আমরা প্রতিনিয়ত লোডশেডিংয়ের শিকার হই। যার দরুন নিরবচ্ছিন্নভাবে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিনির্ভর ই-গভর্নেন্স পরিচালনা বাধাগ্রস্ত হয়। স্থানীয় পর্যায়ে সরকারের কোনো প্রকল্পের প্রয়োজন অনুযায়ী সফটওয়্যার তৈরি করার মতো দক্ষ ও অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের অভাব রয়েছে। তাছাড়া ব্যবসার ক্ষেত্রে স্থানীয় কোম্পানিসমূহ দক্ষ ও অভিজ্ঞ প্রোগ্রামারকে পৃষ্ঠপোষকতাও করতে পারছে না। আর এ সমস্যাগুলোর জন্য ই-গভর্নেন্সের বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
ঘ.
ই-গভর্নেন্স বাস্তবায়নের জন্য রোহানের দেশে সরকার বহুবিধ পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।
উদ্দীপকে আলোচিত রাষ্ট্রে ই-গভর্নেন্স চালু হওয়ায় নাগরিক সেবাসহ যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনায় গতি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং জটিলতা হ্রাস পেয়েছে। তবে এক্ষেত্রে সরকারকে বহু সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। এ সকল সমস্যা উত্তরণের মাধ্যমে ই-গভর্নেন্স বাস্তবায়নের জন্য সরকারের পাশপাশি বেসরকারি পর্যায়েও বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
ই-গভর্নেন্স বাস্তবায়নে রোহানের দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ঘটাতে হবে। বড় শহরগুলো থেকে শুরু করে গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত ই-গভর্নেন্স সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য তথ্য সেবা কেন্দ্রগুলো উন্নত ও আধুনিক করতে হবে। প্রযুক্তি ও কারিগর দক্ষতাসম্পন্ন জনসংখ্যার বৃদ্ধি করতে হবে। ই-গভর্নেন্স বাস্তবায়নে প্রয়োজন কম্পিউটার ইন্টারনেট সংযোগ ও এর যথাযথ ব্যবহার। গ্রাম ও শহর উভয় অঞ্চলেই নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের মাধ্যমে জনগণকে ই-গভর্নেন্সের সেবা প্রাপ্তির নিশ্চয়তা দিতে হবে। এটি বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহকে উৎসাহ প্রদান করতে হবে। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ ও সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তৎপর হতে হবে। সরকারি তথ্য ও সেবাপ্রাপ্তির সুবিধা সকলের জন্য উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে। বিভিন্ন সেমিনার, বক্তৃতা ইত্যাদি বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করে জনগণের নিকট ই- গভর্নেন্স সম্পর্ক তথ্য পৌঁছে দিতে হবে। শুধু ই-গভর্নেন্স ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমেই ই-গর্ভনেন্স ব্যবস্থার বাস্তবায়ন ঘটে না। এটির বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে ই-গভর্নেন্স মনিটরিং ব্যবস্থার দিকে যত্নবান হতে হবে। ই-গভর্নেন্স বাস্তবায়নে এটির কার্যক্রমে ইংরেজি ভাষা ব্যবহারের পরিবর্তে নিজ দেশের ভাষায় প্রযুক্তি ব্যবহারের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সর্বোপরি এ ব্যবস্থাকে সফল করতে হলে ব্যাপক জনসচেতনতা গড়ে তুলতে হবে।
পরিশেষে বলা যায় যে, দেশে ই-গভর্নেন্স ব্যবস্থা বাস্তবায়নের জন্য রোহানের সরকারকে জনগণের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তির জ্ঞান ও শিক্ষার প্রসারের পাশাপাশি উপর্যুক্ত পদক্ষেপগুলোও গ্রহণ করতে হবে।