Facebook Pixel

রোহান এর রাষ্ট্রের সরকার সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালিত করার চেষ্টা করছে। এতে সরকারের কাজের গতি বেড়েছে, জটিলতা হ্রাস পেয়েছে। কিন্তু রোহান মনে করে শিক্ষার অভাব, তথ্য প্রযুক্তির জ্ঞানের অভাব ইত্যাদি সমস্যার কারণে পুরোপুরি বাস্তবায়ন হচ্ছে না। তবে রোহান আশাবাদী সরকার আরও কিছু উদ্যোগ নিলে এটি সফল হবে। ক. ই-গভর্নেন্স কী? খ. ই-গভর্নেন্স কেন দুর্নীতি রোধে সহায়ক? গ. উদ্দীপকে বর্ণিত সমস্যাগুলো ছাড়াও উক্ত ব্যবস্থাটি বাস্তবায়নে আরো সমস্যা রয়েছে- ব্যাখ্যা করো। ঘ. এটি বাস্তবায়নের জন্য রোহানের সরকারের আরও কী কী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করো? বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০২ঃ সুশাসন

উৎস: Board Exam Question DiB 2017

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. ইন্টারনেটের মাধ্যমে সরকারি বিভিন্ন তথ্য ও সেবা জনগণের নিকট পৌছানোকে ই-গভর্নেন্স বলে। খ. দুর্নীতি সুশাসনের বড় বাধা। দুর্নীতি নৈতিকতার বিচ্যুতিকে নির্দেশ করে। নীতি ও আইনবিরুদ্ধ অপরাধমূলক আচরণ হলো দুর্নীতি। ই- গভর্নেন্সে দুর্নীতির কোন সুযোগ নেই। কেননা, ই-গভর্নেন্সের ফলে প্রশাসনিক তথ্যগুলো অনলাইনে সংরক্ষিত থাকে। ফলে জনগণ খুব সহজেই প্রশাসন ও বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে কী কাজ হচ্ছে তা জানতে পারে। এ কারণে কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ লোকচক্ষুর অন্তরালে কিছুই করতে পারেন না। ফলে প্রশাসনিক জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়। এতে করে দুর্নীতি রোধ করা সম্ভব হয়। গ. উদ্দীপকে ই-গভর্নেন্স প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে। উদ্দীপকে বর্ণিত শিক্ষার অভাব ও তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানের অভাব ছাড়াও এ ব্যবস্থাটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আরো অনেক সমস্যা রয়েছে। উদ্দীপকে উল্লেখ রয়েছে, রোহানের সরকার তথ্য ও প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যে কারণে সরকারের কাজের গতি বেড়েছে ও জটিলতা হ্রাস পেয়েছে। অর্থাৎ সে রাষ্ট্রে ই- গভর্নেন্স প্রচলিত আছে। ই-গভর্নেন্সের বাস্তবায়নের সমস্যা হিসেবে এখানে শিক্ষার অভাব ও তথ্য প্রযুক্তি জ্ঞানের অভাব, এ দুটো সমস্যার উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু ই-গভর্নেন্স বাস্তবায়নে উপযুক্ত সমস্যা দুটি ছাড়াও আরও বেশকিছু সমস্যা রয়েছে। ই-গভর্নেন্স প্রতিষ্ঠা করা একটি ব্যয়বহুল পদ্ধতি। প্রাথমিকভাবে প্রতিটি দপ্তরে কম্পিউটার ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি স্থাপন, ওয়েবপেজ ও ওয়েবপোর্টাল চালু করা, এসবের উন্নয়ন করা সামগ্রিকভাবে ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। ই-গভর্নেন্সের পথে আর একটি বড় বাধা হলো দক্ষ জনবলের অভাব। দক্ষ জনবল সংকটের কারণে অনেক ক্ষেত্রেই ই-গভর্নেন্স চালু করা সম্ভব হয় না। যদি কোনো দেশের অধিকাংশ মানুষের কম্পিউটার অ্যাকসেস বা ব্যবহারে সুযোগ না থাকে তবে সেখানে ই-গভর্নেন্স অর্থহীন হয়ে পড়ে। দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি থাকায় আমরা প্রতিনিয়ত লোডশেডিংয়ের শিকার হই। যার দরুন নিরবচ্ছিন্নভাবে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিনির্ভর ই-গভর্নেন্স পরিচালনা বাধাগ্রস্ত হয়। স্থানীয় পর্যায়ে সরকারের কোনো প্রকল্পের প্রয়োজন অনুযায়ী সফটওয়‍্যার তৈরি করার মতো দক্ষ ও অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের অভাব রয়েছে। তাছাড়া ব্যবসার ক্ষেত্রে স্থানীয় কোম্পানিসমূহ দক্ষ ও অভিজ্ঞ প্রোগ্রামারকে পৃষ্ঠপোষকতাও করতে পারছে না। আর এ সমস্যাগুলোর জন্য ই-গভর্নেন্সের বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ঘ. ই-গভর্নেন্স বাস্তবায়নের জন্য রোহানের দেশে সরকার বহুবিধ পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। উদ্দীপকে আলোচিত রাষ্ট্রে ই-গভর্নেন্স চালু হওয়ায় নাগরিক সেবাসহ যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনায় গতি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং জটিলতা হ্রাস পেয়েছে। তবে এক্ষেত্রে সরকারকে বহু সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। এ সকল সমস্যা উত্তরণের মাধ্যমে ই-গভর্নেন্স বাস্তবায়নের জন্য সরকারের পাশপাশি বেসরকারি পর্যায়েও বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ই-গভর্নেন্স বাস্তবায়নে রোহানের দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ঘটাতে হবে। বড় শহরগুলো থেকে শুরু করে গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত ই-গভর্নেন্স সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য তথ্য সেবা কেন্দ্রগুলো উন্নত ও আধুনিক করতে হবে। প্রযুক্তি ও কারিগর দক্ষতাসম্পন্ন জনসংখ্যার বৃদ্ধি করতে হবে। ই-গভর্নেন্স বাস্তবায়নে প্রয়োজন কম্পিউটার ইন্টারনেট সংযোগ ও এর যথাযথ ব্যবহার। গ্রাম ও শহর উভয় অঞ্চলেই নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের মাধ্যমে জনগণকে ই-গভর্নেন্সের সেবা প্রাপ্তির নিশ্চয়তা দিতে হবে। এটি বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহকে উৎসাহ প্রদান করতে হবে। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ ও সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তৎপর হতে হবে। সরকারি তথ্য ও সেবাপ্রাপ্তির সুবিধা সকলের জন্য উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে। বিভিন্ন সেমিনার, বক্তৃতা ইত্যাদি বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করে জনগণের নিকট ই- গভর্নেন্স সম্পর্ক তথ্য পৌঁছে দিতে হবে। শুধু ই-গভর্নেন্স ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমেই ই-গর্ভনেন্স ব্যবস্থার বাস্তবায়ন ঘটে না। এটির বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে ই-গভর্নেন্স মনিটরিং ব্যবস্থার দিকে যত্নবান হতে হবে। ই-গভর্নেন্স বাস্তবায়নে এটির কার্যক্রমে ইংরেজি ভাষা ব্যবহারের পরিবর্তে নিজ দেশের ভাষায় প্রযুক্তি ব্যবহারের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সর্বোপরি এ ব্যবস্থাকে সফল করতে হলে ব্যাপক জনসচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। পরিশেষে বলা যায় যে, দেশে ই-গভর্নেন্স ব্যবস্থা বাস্তবায়নের জন্য রোহানের সরকারকে জনগণের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তির জ্ঞান ও শিক্ষার প্রসারের পাশাপাশি উপর্যুক্ত পদক্ষেপগুলোও গ্রহণ করতে হবে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenDinajpur Board (2017)

রোহান এর রাষ্ট্রের সরকার সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালিত করার চেষ্টা করছে। এতে সরকারের কাজের গতি বেড়েছে, জটিলতা হ্রাস পেয়েছে। কিন্তু রোহান মনে করে শিক্ষার অভাব, তথ্য প্রযুক্তির জ্ঞানের অভাব ইত্যাদি সমস্যার কারণে পুরোপুরি বাস্তবায়ন হচ্ছে না। তবে রোহান আশাবাদী সরকার আরও কিছু উদ্যোগ নিলে এটি সফল হবে।

ক.

ই-গভর্নেন্স কী?

খ.

ই-গভর্নেন্স কেন দুর্নীতি রোধে সহায়ক?

গ.

উদ্দীপকে বর্ণিত সমস্যাগুলো ছাড়াও উক্ত ব্যবস্থাটি বাস্তবায়নে আরো সমস্যা রয়েছে- ব্যাখ্যা করো।

ঘ.

এটি বাস্তবায়নের জন্য রোহানের সরকারের আরও কী কী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করো? বিশ্লেষণ করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।