ক.
‘Civics' শব্দের অর্থ নাগরিক।
খ.
নাগরিক ও নাগরিক জীবনের সাথে জড়িত সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করে বলে পৌরনীতিকে নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান বলা হয় । নাগরিক জীবনের সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় যেমন— নাগরিকের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ জীবনের সাথে জড়িত ঘটনাবলি ও কার্যকলাপ এ শাস্ত্রে আলোচিত হয়। নাগরিক জীবনের ধর্মীয়, নৈতিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক তথা সার্বিক দিকের আলোচনা পৌরনীতি ও সুশাসনের বিষয়বস্তু। তাই পৌরনীতিকে নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান বলা হয়।
গ.
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়টি হলো পৌরনীতি ও সুশাসন । পৌরনীতি পাঠের মাধ্যমে অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে সঠিক ধারণা লাভ করা যায়। অধিকার কী, একের অধিকার কীভাবে অন্যের কর্তব্য হয় এবং একের প্রতি অন্যের কর্তব্য কী ও কীভাবে তা পালন করতে হয় এ শিক্ষা পৌরনীতি পাঠের মাধ্যমে জানা যায়। পৌরনীতি পাঠের মাধ্যমে নাগরিকগণ সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে। বুদ্ধি, বিবেক, আত্মসংযম ও শৃঙ্খলাবোধসম্পন্ন নাগরিক রাষ্ট্রের সম্পদস্বরূপ। পৌরনীতি পাঠের মাধ্যমেই নাগরিকগণ এরূপ গুণসম্পন্ন হয়ে উঠতে পারেন। পৌরনীতি পাঠের মাধ্যমে পরিবার, পরিবেশ, সমাজ, রাষ্ট্র, সরকার, সংবিধান, রাজনৈতিক দল প্রভৃতি সম্বন্ধে জ্ঞান লাভ করা যায়। এ সকল বিষয়ে জ্ঞান লাভ করে মানুষ সচেতন হয় এবং এসব প্রতিষ্ঠানে অংশগ্রহণের গুরুত্ব উপলব্ধি করে।
তাছাড়া পৌরনীতি পাঠের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটে; স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভূমিকা পালনের পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে পারে। অর্থাৎ উন্নত নাগরিক জীবন লাভ করার জন্য পৌরনীতি পাঠ করা একান্ত আবশ্যক।
ঘ.
উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়টি অর্থাৎ পৌরনীতি ও সুশাসন নানাভাবে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখে।
সরকারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং জনগণের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে শাসনকার্য পরিচালনাই হচ্ছে সুশাসন । সুশাসন হচ্ছে এমন একটি ব্যবস্থা যার মাধ্যমে সরকার ও জনগণের মধ্যে সুসম্পর্ক স্থাপনের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। সুশাসনের মাধ্যমেই নাগরিকগণ তাদের আগ্রহ বা আকাঙ্ক্ষাকে প্রকাশ ও অধিকার ভোগ করতে পারে এবং চাহিদাগুলো মেটাতে পারে। অর্থাৎ রাষ্ট্র ও নাগরিকের উন্নয়নের জন্য পরিচালিত ব্যবস্থাই হচ্ছে সুশাসন । সুশাসনের বৈশিষ্ট্যগুলো হলো জনগণের অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, দায়িত্বশীলতা, দক্ষতা প্রভৃতি। আর সুশাসনের এ বৈশিষ্ট্যগুলো কার্যকর করার জন্য পৌরনীতি ও সুশাসনের জ্ঞান থাকা আবশ্যক। কেননা পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠের মাধ্যমে নাগরিকের মধ্যে অধিকার ও কর্তব্যের প্রতি সচেতনতা বাড়ে, গণতান্ত্রিক চেতনা জাগ্ৰত হয়, দেশপ্রেম বৃদ্ধি পায় এবং ধীরে ধীরে সুযোগ্য নেতৃত্ব গড়ে ওঠে। এ বিষয়গুলো চর্চার মধ্য দিয়েই রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয় । পৌরনীতি ও সুশাসনের জ্ঞান সুনাগরিকতার গুণাবলি অর্জনে সহায়তা করে । অধিকার কী, একজনের অধিকার কীভাবে অন্যের কর্তব্য হয় এবং কীভাবে তা পালন করতে হয়, তার পরিপূর্ণ শিক্ষা পৌরনীতি ও সুশাসন থেকে জানা যায়। আর সেই শিক্ষায় শিক্ষিত নাগরিকদের পক্ষেই কেবল সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখা সম্ভব।
পরিশেষে বলা যায়, পৌরনীতি ও সুশাসন নাগরিক জীবনের সাথে জড়িত সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। আর সুশাসন নাগরিক জীবনের সর্বাঙ্গীন কল্যাণ নিশ্চিত করে। তাই পৌরনীতি ও সুশাসনের জ্ঞান ব্যতীত সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।