ক.
কোরিয়া যুদ্ধ সংঘটিত হয় ১৯৫০ সালে।
খ.
পূর্ব ইউরোপীয় দেশসমূহে সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠিত হলে এর প্রসার রোধে ১৯৪৭ সালের ১২ মার্চ প্রেসিডেন্ট ট্রুম্যান তার ট্রুম্যান ডকট্রিন' কংগ্রেসের সামনে উপস্থাপন করেন। কংগ্রেসে তিনি বলেন, 'মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির উদ্দেশ্য হলো এমন একটি আন্তর্জাতিক পরিবেশ তৈরি করা, যার ফলে সবজাতি স্বাধীনভাবে বল প্রয়োগ ছাড়াই বসবাস করতে পারবে।
গ.
উদ্দীপকের ব্যক্তিদের আদর্শগত দ্বন্দ্ব হলো স্নায়ুযুদ্ধ। নিচে পাঠ্যবইয়ের আলোকে স্নায়ুযুদ্ধের কারণ বর্ণনা করা হলো-
সমাজতন্ত্র প্রসারের ভীতি : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভেবেছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত এবং অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত ইউরোপ ধীরে ধীরে সাম্যবাদের দিকে ধাবিত হতে পারে। তাই যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার প্রতি কঠোর নীতি গ্রহণ করে। ফলে যুদ্ধ যুদ্ধ ভাব তৈরি হয়।
গ্রিসের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব : ব্রিটেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্যে গ্রিসের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে হস্তক্ষেপ করলে রাশিয়া বিরূপ মনোভাব পোষণ করে। ফলে স্নায়ুযুদ্ধের অবস্থা সৃষ্টি হয়।
ইরান সমস্যা : দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মিত্রবাহিনী ইরান দখল করে । তখন উত্তর ইরান সোভিয়েত ইউনিয়নের অধীনে ছিল। কথা ছিল ছয় মাসের মধ্যে মিত্রশক্তি ইরান থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করবে। কিন্তু তাঁ না হওয়ায় দুই শক্তির মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
জার্মানির কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি : দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর রাশিয়া জার্মানির কাছে ১০,০০০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে অস্বীকৃতি জানায়। ফলে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সন্দেহের ঢেউ জাগতে থাকে ।
উপসাগরীয় বিরোধ : পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে জ্বালানি শক্তিকে কেন্দ্র করে রাশিয়া ও ব্রিটেনের মধ্যে দ্বন্দ্ব বাধে। এটি স্নায়ুযুদ্ধকে প্রসারিত করেছিল।
এছাড়াও সোভিয়েত-তুরস্ক দ্বন্দ্ব, আণবিক বোমা সমস্যা প্রভৃতি স্নায়ুযুদ্ধের ক্ষেত্র তৈরি করেছিল।
ঘ.
যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সামরিক পদক্ষেপ বিশ্বকে বিভক্ত করেছিল— কথাটি সঠিক এবং যুক্তিযুক্ত।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে সংঘটিত স্নায়ুযুদ্ধ কোনো সাধারণ যুদ্ধ ছিল না। এ যুদ্ধ এমন এক ধরনের উত্তেজনা যার উপস্থিতিতে রাষ্ট্রসমূহে প্রতিটি পক্ষ নিজের শক্তি বৃদ্ধি করার জন্য এবং অপর পক্ষের শক্তি খর্ব করার জন্য কৌশল অবলম্বন করতে থাকে ।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন পরস্পরবিরোধী আদর্শের জের ধরে স্নায়ুযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে । তবে দুটি দেশই প্রত্যক্ষ কোনো যুদ্ধে লিপ্ত হয়নি । এ সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পুঁজিবাদ ও সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতৃত্বে সমাজতান্ত্রিক দেশগুলো সামরিক ও অর্থনৈতিক জোট গঠন করে শক্তির ভারসাম্য রক্ষা করে। ফলে ভেতরে ভেতরে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হতে থাকলেও কখনো সম্মুখ যুদ্ধে আসেনি। উভয় রাষ্ট্রই একে অপরকে প্রভাব বিস্তারে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সোভিয়েত ইউনিয়নের কমিউনিজম বিস্তার রোধে বিভিন্ন নীতি যথা: মার্শাল পরিকল্পনা, ট্রুমান নীতি গ্রহণ করে, যেটি স্নায়ুযুদ্ধকে যথেষ্ট উসকে দিয়েছিল। প্রকাশ্য সামরিক হস্তক্ষেপের পরিবর্তে দুই পরাশক্তিই পরোক্ষভাবে পরস্পরকে দুর্বল করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখে। অর্থাৎ কম ঝুঁকিপূর্ণ শান্তিপূর্ণ দ্বন্দ্ব চলে। উদাহরণস্বরূপ ১৯৬৯ সালের বার্লিন সংকট, কোরিয়া সংকট এবং কিউবা সংকটের কথা বলা যায়। এ সময় দুই দেশের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা শুরু হলে স্নায়ুযুদ্ধের উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে ।
পরিশেষে বলা যায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রত্যক্ষ কোনো যুদ্ধে লিপ্ত না হলেও তাদের মধ্যে যুদ্ধভাব বজায় ছিল। আর তাদের সামরিক পদক্ষেপের কারণেই মূলত বিশ্বকে বিভক্ত করেছিল।