ক.
বাংলাদেশের আইনসভার নাম জাতীয় সংসদ।
খ.
যুক্তফ্রন্ট বলতে ১৯৫৪ সালে অনুষ্ঠিত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী একটি রাজনৈতিক জোটকে বোঝায়।
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগকে পরাজিত করার লক্ষ্যে জোটবদ্ধ হয়ে ভোটে অংশগ্রহণ করার জন্য এই পরিস্থিতিতে ১৯৫৩ সালের নভেম্বর মাসে ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে 'যুক্তফ্রন্ট' জোট গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। এ জোট পাঁচটি রাজনৈতিক দল নিয়ে গঠিত হয়। দলগুলো হলো- আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক-শ্রমিক পার্টি, নেজাম-ই-ইসলামি পার্টি, গণতন্ত্রী দল এবং খিলাফত-ই-রব্বানি। নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের প্রতীক ছিল নৌকা।
গ.
উদ্দীপকের রাষ্ট্র-A: নীতিটি অর্থাৎ ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারও সাথে শত্রুতা নয়' হলো বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতি।
এই নীতির ওপর ভিত্তি করেই বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি পরিচালিত হচ্ছে। সমস্যা সমাধানে আলাপ-আলোচনার কোনো বিকল্প নেই। আলাপ-আলোচনা যেকোনো বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান দিতে পারে। তাই শত্রুতা নয় বরং মিত্রতার বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে পারস্পরিক অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হলে কার্যকর ফলাফল আশা করা যায়।
বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতির মূলকথা হলো পৃথিবীর সকল জাতির সাথে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তোলা। অন্যদিকে নিজেদের অধিকার ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায়ও বাংলাদেশ পুরোপুরি সচেতন । বর্তমান বিশ্বের অধিকাংশ দেশ স্বার্থগত কারণে নানা ধরনের দ্বন্দ্ব-সংঘাতে জড়িত। এসব দেশ যদি শক্তি প্রয়োগ নীতি পরিহার করে বাংলাদেশের মতো শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নীতি গ্রহণ করে তবে দেশের ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই একটি উপযুক্ত ও কার্যকর সমাধান পেতে পারে।
ঘ.
রাষ্ট্র-B তে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানটি হলো জাতিসংঘ (UN), যা ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত হয়।
স্বাধীনতার পর ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি সার্বভৌম ও স্বীকৃত রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ফোরামে বাংলাদেশ সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে এবং বৈশ্বিক শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নমূলক বিষয়ে মতামত প্রদান করে।
বাংলাদেশ জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ অবদানকারী দেশ। আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বেসামরিক সদস্যরা দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে।
জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা যেমন UNICEF, UNDP, WHO ইত্যাদির মাধ্যমে বাংলাদেশে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, দারিদ্র্য বিমোচন, নারী উন্নয়ন ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রদান করা হয়। এসব সহযোগিতা দেশের সার্বিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখছে।
এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশ হিসেবে বাংলাদেশ জাতিসংঘের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সহায়তা ও সচেতনতা অর্জনে কাজ করছে। রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট মোকাবেলায়ও জাতিসংঘ বাংলাদেশের পাশে রয়েছে এবং মানবিক সহায়তা প্রদান করছে।
সার্বিকভাবে, জাতিসংঘের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক পারস্পরিক সহযোগিতা, উন্নয়ন, মানবিক সহায়তা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত।