ক.
ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৭৬৫ সালে বাংলার দেওয়ানি লাভকরেন।
খ.
দ্বৈতশাসন বলতে বাংলায় রবার্ট ক্লাইভের উদ্যোগে ইংরেজ কোম্পানি ও দেশীয় নবাবের সমন্বয়ে প্রবর্তিত শাসনব্যবস্থাকে বোঝায়।
দ্বৈতশাসন ব্যবস্থায় দেশীয় নবাবের হাতে বিচার ও শাসন বিভাগের দায়িত্ব থাকে। অন্যদিকে, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ওপর রাজস্ব এবং দেশরক্ষার দায়িত্ব ন্যস্ত হয়। ক্লাইভের এ শাসন নীতির উদ্দেশ্য ছিল এদেশের আর্থিক ক্ষমতা নিজেদের কব্জায় নেওয়া ও দেশীয় শাসকবর্গের বিরুদ্ধে জনসাধারণকে বিক্ষুব্ধ করে তোলা। বলা হয়, দ্বৈতশাসন ব্যবস্থায় বাংলার নবাবের ছিল ক্ষমতাহীন দায়িত্ব এবং কোম্পানি পেয়েছিল দায়িত্বহীন ক্ষমতা।
গ.
উদ্দীপকের সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের মিল আছে।
পলাশীর যুদ্ধের একশ বছর পর ভারতের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে প্রধানত সিপাহিদের নেতৃত্বে যে ব্যাপক সশস্ত্র বিদ্রোহ সংঘটিত হয়, তা ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম বা সিপাহি বিদ্রোহ নামে পরিচিত। সেনাবাহিনীতে এনফিল্ড নামে একটি নতুন রাইফেলের প্রচলন প্রত্যক্ষভাবে এ বিদ্রোহ ডেকে আনে। এনফিল্ড রাইফেলের কার্তুজে চর্বি মিশ্রিত থাকতো এবং বন্দুকে ভরার আগে তা দাঁত দিয়ে কাটতে হতো। সেনাদের মাঝে গুজব রটে যে, কার্তুজে শুকর ও গরুর চর্বি মিশ্রিত রয়েছে। আর হিন্দু-মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের সিপাহিদের ধর্ম নষ্ট করার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে এ কাতুর্জের প্রচলন করা হয়েছে। এর ফলশ্রুতিতে তারা বিদ্রোহ করে। পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুর সেনানিবাসে এ বিদ্রোহের সূচনা করেন সিপাহি মঙ্গল পাণ্ডে। দ্রুত এই বিদ্রোহ প্রায় পুরো ভারতে ছড়িয়ে পড়ে। ১৮৫৭সালের এ বিদ্রোহের ফলেই ভারতে ইংরেজদের কোম্পানি শাসনের অবসান ঘটে এবং সরাসরি ব্রিটিশ সরকারের শাসন প্রবর্তিত হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীতে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়, তারা কিছু দাবি আদায়ের জন্য বিদ্রোহী হয়ে ওঠে। প্রেসিডেন্ট তাদের দমন করে সেনাবাহিনীতে ব্যাপক সংস্কার করেন। এ ঘটনা উপরে আলোচিত ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ.
উল্লিখিত বিদ্রোহ অর্থাৎ সিপাহি বিদ্রোহের ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী-উক্তিটি যথার্থ।
সিপাহি বিদ্রোহই ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে ভারতীয়দের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম। এ বিদ্রোহ দমনের পর ব্রিটিশ সরকার এমন কিছু পদক্ষেপ নেয় যা ভারতে তাদের শাসনের ধরনে ব্যাপক পরিবর্তন আনে। ভারতের রাজনীতি, সমাজসহ সর্বক্ষেত্রে এসব পরিবর্তন সুদূরপ্রসারী প্রভাব রেখেছিল।
সিপাহি 'বিদ্রোহ ভারতে ব্রিটিশ সরকারের নীতি ও শাসনকার্যের ব্যাপারে বিরাট পরিবর্তন আনে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল কোম্পানির শাসনের অবসান। ১৮৫৮ খ্রিষ্টাব্দে মহারানি ভিক্টোরিয়ার এক ঘোষণাপত্র দ্বারা ভারত প্রত্যক্ষভাবে ব্রিটিশ সরকারের কর্তৃত্বাধীনে আসে। ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ভারতে অধিকতর সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আইন পাস করে। ভারতের জন্য একজন 'ভারত সচিবের' পদ সৃষ্টি করা হয়। ব্রিটিশ সরকার ভারতীয়দের কাছে অজনপ্রিয় পুরনো রাজ্য বিস্তার নীতি থেকে সরে যায়। মহারানীর ঘোষণাপত্রে 'স্বত্ববিলোপ নীতি' পরিত্যক্ত হয়। এছাড়া জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে যোগ্যতা অনুযায়ী সবাইকে উচ্চ রাজপদে নিযুক্তির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।, মহাবিদ্রোহের পর ভারতীয় সমাজে বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রমে সাবধানতা অবলম্বন করা হয়। এ বিদ্রোহের পরিণতিতেই মুঘল সাম্রাজ্যের সম্পূর্ণ বিলুপ্তি ঘটে। ব্রিটিশ সরকার হিন্দু ও মুসলমানদের ঐক্যের শক্তি অনুধাবন করতে পেরে কুখ্যাত 'ভাগ কর ও শাসন কর' (Divide and Rule) নীতি অনুসরণ শুরু করে। এটি কালক্রমে হিন্দু-মুসলিম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ব্যাপক ক্ষতি করে।
উপরের আলোচনার পরিপ্রক্ষিতে বলা যায়, সিপাহি বিদ্রোহ সফল না হলেও ভারতে পরবর্তীকালে সংঘটিত সকল আন্দোলনে প্রেরণা যুগিয়েছিল। ভারতের সমাজ ও রাজনীতিতে এর প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী।