Facebook Pixel

রাশিদা বেগম 'বাংলাদেশ নারী অধিকার নামক' সংগঠনের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। তিনি আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, ভারতীয় উপমহাদেশে এমন একটি সময় ছিল যখন কন্যা সন্তানকে জীবন্ত কবর দেয়া হতো। নারীদের কোন অধিকার ছিল ন। একজন পুরুষ একই সাথে একাধিক স্ত্রী রাখতে পারত। তাদের কোন কেন্দ্রীয় শাসনব্যবস্থা ছিল না। তারা একে অপরের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত থাকত। এসব সংঘর্ষ 'ভারতীয়দের দিন' নামে পরিচিত। তারা 'জোর যার মুল্লুক তার' নীতিতে বিশ্বাসী ছিল। ক. 'ইয়েমেন' শব্দের অর্থ কি ? খ. উটকে 'মরুভূমির জাহাজ' বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকের রাশিদা বেগমের বক্তব্যে কোন সমাজে নারীর অবস্থা ফুটে উঠেছে?ব্যাখ্যা কর। ঘ. উক্ত যুগের রাজনৈতিক অবস্থা পর্যালোচনা কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ প্রাক-ইসলামি আরব

উৎস: Board Exam Question CB 2022

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. ইয়েমেন শব্দের অর্থ সুখী। খ. মরু অঞ্চলের যাতায়াতের প্রধান বাহন হওয়ার উটকে মরুভূমির জাহাজ বলা হয়। আরবের অধিকাংশ অঞ্চলে মরুভূমি। আর উত্তপ্ত মরু অঞ্চলে উট চলাচলের একমাত্র উপযোগী প্রাণী। উট একবার পানি পান করে দীর্ঘদিন ধরে রাখতে পারে। তাই মরুবাসীরা খাদ্য, পানীয় সংগ্রহ ও যোগাযোগ প্রদান বহন এবং ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যম হসাবে উটকে ব্যবহার করে। তাই উটকে মরুভূমির জাহাজ বলা হয়। গ. উদ্দীপকের রাশিদা বেগমের বক্তব্যে প্রাক আরব সমাজে নারীর অবস্থা ফুটে উঠেছে। নিম্নে তা ব্যাখ্যা করা হলো: উদ্দীপকের রাশিদা বেগমের আলোচনায় যে সমাজের কথা উঠে এসেছে সেখানে নারীদের কোন সামাজিক মর্যাদা ছিল না। তারা কন্যা সন্তানকে জীবন্ত কবর দিত। তাছাড়া নারীদের ছিল না কোন অধিকার। একজন পুরুষ একই সাথে একাধিক স্ত্রী রাখতে পারত। প্রাক আরব যুগেও নারীদের অবস্থান ছিল এরকম। তৎকালীন আরব সমাজ ছিল অত্যন্ত কলুষিত। নারীদের ছিল না কোন সামাজিক মর্যাদা। নারীদের দেওয়া হতো না কোন সম্মান। বাজারে বিক্র করা হতো নারীদের। তাদেরকে গণ্য করা হতো ভোগ্যপণ্য হিসেবে। এছাড়াও তারা কন্যা শিশুদের এতটাই ঘৃণ্য চোখে দেখতে যে, কোন কন্যা শিশু জন্ম নিলে তাকে জীবন্ত কবর দেয়া হতো। প্রাক ইসলাম সময়ে আরববাসীরা নারীদের প্রতি যে পরিমান অন্যায় করত, তা অন্য সব যুগের মানুষের বর্বরতাকে হার মানায়। নারীদের অধিকার হনন, সম্মান মর্যাদা হনন এবং অন্যান্য বিশৃঙ্খলা ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে তৎকালীন আরববাসী এতটাই মগ্ন ছিল যে আজও সেই সময়কালকে জাহেলিয়া যুগ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। মূর্খতা, বর্বরতা, অশ্লীলতায় ছিল সমগ্র আরব নিমজ্জিত। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের রাশিদা বেগমের বক্তব্যে প্রাক আরব সমাজে নারীর অবস্থা ফুটে উঠেছে। ঘ. উক্ত যুগ তথা প্রাক আরব যুগের রাজনৈতিক অবস্থা নিম্নে পর্যালোচনা করা হলো: তৎকালীন সময়ে কেন্দ্রীয় কোন শাসনব্যবস্থা না থাকায় আরবরা গোত্রীয় ব্যবস্থায় শাসন ব্যবস্থা পরিচালনা করতো। সকল গোত্রের এক একটি নির্দিষ্ট এলাকা ছিল যা জিরা নামে পরিচিত ছিল। প্রত্যেক গোত্রই তাদের গোত্রের জন্য একজন দলপতি নির্বাচিত করত। উক্ত দলপতি শেখ নামে পরিচিত হতো। তবে শেখের কোন নির্দিষ্ট মেয়াদকাল ছিল না। যুদ্ধ, সন্ধি, ব্যবসায়িক যোগাযোগসহ সকল ক্ষেত্রেই শেখের সিদ্ধান্তই ছিল চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। তাদের মধ্যে গোত্র চেতনা এতটাই প্রবল ছিল যে, তারা নিজ গোত্রের বাহিরের সবকিছুকে বিজাতীয়, ঘৃণার পাত্র ও শত্রু মনে করত। এর ফলে পুরুষানুক্রমে গোত্রে গোত্র শত্রুতা ও কলহ সঞ্জীবিত থাকে। পানির নহর, গবাদি পশু, তৃণভূমিসগ বিভিন্ন তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করেও অন্যান্য গোত্রের সাথে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে যেত। পুরোপুরি অজ্ঞ থাকায় তখন কোন সুষ্ঠু বিচার ব্যবস্থা ছিল না। এ সময় আরবে সব জায়গায় জোর যার মুল্লুক তার নীতি প্রচলিত ছিল। রক্তের বদলে রক্ত, চোখের বদলে চোখ, দাঁতের বদলে দাঁত ইত্যাদি নীতিতে তারা বিশ্বাসী ছিল। মক্কার নেতৃত্বে আরব গোত্রপতিদের সাথে ব্যবসায়ীদের শান্তি চুক্তি হওয়ায় তখনকার সময়ে আরব একটি কমনওয়েলথ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। একই সাথে একটি গোত্রে গড়ে উঠছিল। এছাড়াও মক্কা নাগরিক এবং তীর্থযাত্রীদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য মক্কা একটি সমিতি গঠন করা হয়েছিল। তাছাড়া আল-মালা নামে কি রাজনৈতিক সংগঠন ছিল। তারা গোত্র গুলোর মধ্যে শান্তি-শৃঙ্খলা ভারসাম্য মৈত্রী ইত্যাদি বজায় রাখতে চেষ্টা করত। কিন্তু তাদের কোন নির্বাহী ক্ষমতা ছিল না শুধুমাত্র পরামর্শ দিতে পারতো। তাই তখন সব ক্ষেত্রেই অরাজকতা লেগে থাকতো। উপর্যুক্ত আলোচনা সাপেক্ষে তাই বলা যায়, প্রাক-ইসলামী যুগের রাজনৈতিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত বিশৃঙ্খলাময়।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenCumilla Board (2022)

রাশিদা বেগম 'বাংলাদেশ নারী অধিকার নামক' সংগঠনের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। তিনি আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, ভারতীয় উপমহাদেশে এমন একটি সময় ছিল যখন কন্যা সন্তানকে জীবন্ত কবর দেয়া হতো। নারীদের কোন অধিকার ছিল ন। একজন পুরুষ একই সাথে একাধিক স্ত্রী রাখতে পারত। তাদের কোন কেন্দ্রীয় শাসনব্যবস্থা ছিল না। তারা একে অপরের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত থাকত। এসব সংঘর্ষ 'ভারতীয়দের দিন' নামে পরিচিত। তারা 'জোর যার মুল্লুক তার' নীতিতে বিশ্বাসী ছিল।

ক.

'ইয়েমেন' শব্দের অর্থ কি ?

খ.

উটকে 'মরুভূমির জাহাজ' বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।

গ.

উদ্দীপকের রাশিদা বেগমের বক্তব্যে কোন সমাজে নারীর অবস্থা ফুটে উঠেছে?ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

উক্ত যুগের রাজনৈতিক অবস্থা পর্যালোচনা কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

আইয়্যামে জাহেলিয়া শব্দের অর্থ কী?

‘আরব’ শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?

অথৈদের সমাজে পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তসমূহ গ্রহণের ক্ষমতা নারীর জন্য সংরক্ষিত। পুরুষদের সুনির্দিষ্ট অধিকার থাকলেও ...

অলিম্পিক খেলা প্রচলিত হয়েছিল কেন?

আইয়ামে জাহেলিয়া বলতে বোঝায়- i. অজ্ঞতার যুগ ii. বর্বরতার যুগ iii. অন্ধকার যুগ নিচের কোনটি সঠিক?

'আইয়ামে জাহেলিয়া' বলতে বোঝায়— i. অজ্ঞতার যুগ ii. তমসার যুগ iii. অন্ধকারের যুগ নিচের কোনটি সঠিক?

আইয়্যামে জাহিলিয়া যুগে আরবদের কবিতার মূল বিষয়বস্তু ছিল— 1. নারী ii. বংশ গৌৱৰ ii. যুদ্ধ নিচের কোনটি সঠিক?

আইয়ামে জাহিলিয়া যুগের আরবে রাজনৈতিক ব্যবস্থা কোনটি?

আইয়ামে জাহিলিয়ায় কোন প্রথা ব্যাপক ছিল?

আইয়‍্যামে জাহেলিয়া যুগে আরবদের কবিতার মূল বিষয়বস্তু ছিল- i. নারী ii. বংশ গৌরব iii. যুদ্ধ নিচের কোনটি সঠিক?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।