ক.
Anthropo শব্দের অর্থ হলো মানুষ।
খ.
সাংবাদিকের কাজকে সাংবাদিকতা পেশা বলা। সাধারণত সাংবাদিকতা হলো সাম্প্রতিক ঘটনার ওপর তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে গণমাধ্যম হিসেবে পত্রিকায় ও ম্যাগাজিনে লেখা অথবা রেডিও, টেলিভিশনে সংবাদ সম্পাদনা প্রকাশ করা। ব্যাপক অর্থে বিজ্ঞাপন, জনসংযোগকর্মী এবং গণযোগাযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত পেশাজীবী ব্যক্তিদের সাংবাদিকতা শব্দ দ্বারা সংজ্ঞায়িত করা যায়। 'Oxford Learners Dictionary' অনুযায়ী সংবাদপত্র, সাময়িকী, রেডিও ও টেলিভিশনের জন্য সংবাদ সংগ্রহ এবং লেখার কাজকে বলা হয় সাংবাদিকতা।
গ.
কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে রাশেদ পৌরনীতি ও সুশাসনের সাহায্য গ্রহণ করবে।
মানবজ্ঞানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শাখা হলো পৌরনীতি ও সুশাসন। শব্দগত অর্থে পৌরনীতি ও সুশাসন হলো নগররাষ্ট্রে বসবাসকারী নাগরিকদের আচরণ ও কার্যাবলি সংক্রান্ত বিজ্ঞান। সাধারণ অর্থে নাগরিক সমাজ ও রাষ্ট্রের আচরণ ও কার্যাবলি নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে যে শাস্ত্র আদর্শ নাগরিকতা এবং উন্নত ও অগ্রসর নাগরিক জীবন সম্বন্ধে জ্ঞানদান করে তাকে পৌরনীতি বলে। পৌরনীতি ও সুশাসন হলো এমন একটি সামাজিক বিজ্ঞান, যা রাষ্ট্রে 'নাগরিকদের আচার-আচরণ, কার্যাবলি আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব-কর্তব্য সম্পর্কে ধারাবাহিক পর্যালোচনা করে।
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বোঝা যায়, পৌরনীতি ও সুশাসন সুনাগরিক গঠনে সহায়ক। উদ্দীপকে উল্লিখিত রাশেদের এলাকার মানুষ অশিক্ষিত, অজ্ঞ, কুসংস্কারাচ্ছন্ন এবং তাদের ন্যূনতম নাগরিক জ্ঞান নেই। তাই আমরা বলতে পারি, রাশেদের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে পৌরনীতি ও সুশাসন সাহায্য করতে পারে।
ঘ.
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত বিষয় হলো পৌরনীতি ও সুশাসন। উক্ত বিষয়ের অর্থাৎ পৌরনীতি ও সুশাসনের সাথে সমাজকর্মের পার্থক্য নিচে আলোচনা করা হলো-
প্রথমত : প্রকৃতিগত দিক থেকে পৌরনীতি ও সুশাসন একটি তত্ত্বনির্ভর মৌলিক সামাজিক বিজ্ঞান। পক্ষান্তরে, সমাজকর্ম একটি সমন্বিত ব্যবহারিক সামাজিক বিজ্ঞান।
দ্বিতীয়ত : পৌরনীতি ও সুশাসন রাষ্ট্রকে একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করে। কিন্তু সমাজকর্ম রাষ্ট্রকে সামাজিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করে।
তৃতীয়ত : পৌরনীতি ও সুশাসন রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে। কিন্তু সমাজকর্ম সমাজের সামগ্রিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। এই পৌরনীতি ও সুশাসনের তুলনায় সমাজকর্মের পরিধি ব্যাপক ও বিস্তৃত।
চতুর্থত : পৌরনীতি ও সুশাসন সমাজকর্ম সম্পর্কিত নীতিনির্ধারণ করে। কিন্তু সমাজকর্ম তা সমাজসেবায় রূপান্তরিত করে।
পঞ্চমত : পৌরনীতি ও সুশাসনে রাষ্ট্রকে ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অন্যদিকে সমাজকর্মে রাষ্ট্রকে সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখা হয়।
ষষ্ঠত : পৌরনীতি ও সুশাসনের লক্ষ্যে রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করা এবং জনগণের সেবায় রাষ্ট্রের ভূমিকা পালনের ক্ষেত্র সৃষ্টি করা। অন্যদিকে সমাজকর্মের লক্ষ্য সমস্যাগ্রস্ত মানুষ এবং তাদের সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা পালন করা।
উপরিউক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, পৌরনীতি ও সুশাসন এবং সমাজকর্মের মধ্যে বিষয়গত কিছু পার্থক্য থাকলেও এরা উভয়ই একই বলয়ে আবর্তিত।