ক.
AIDS-এর পূর্ণরূপ হচ্ছে— Acquired Immuno Deficiency of Syndrome.
খ.
অটিজমের তিনটি লক্ষণ হলো—
১. কথা বলা বা ইশারার মাধ্যমে যোগাযোগে সীমাবদ্ধতা;
২. সামাজিক ও পারস্পরিক আচরণ, ভাববিনিময় এবং কল্পনাযুক্ত কাজকর্মের সীমাবদ্ধতা;
৩. একই ধরনের বা সীমাবদ্ধ কিছু কাজ বা আচরণের পুনরাবৃত্তি।
গ.
রনির মা-বাবা রনিকে সামাজিক সমস্যা মাদকাসক্তির দিকে ঠেলে দিয়েছে।
মাদকসক্তি বলতে ড্রাগ বা মাদকদ্রব্যের প্রতি প্রবল আকর্ষণ ও আগ্রহকে বোঝায়, যা ক্রমশ ব্যক্তির শারীরিক ও মানসিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া বার বার ড্রাগ গ্রহণের ফলে মনোবায়ু দৈহিক এমন অবস্থা সৃষ্টি হয়, যেক্ষেত্রে সে তা বর্জন করতে পারে না। এ অবস্থাকেই স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) উল্লেখ করেছে, “নেশা বা মাদকাসক্তি হচ্ছে ব্যক্তি ও সমাজের জন্য ক্ষতিকর এমন একটি মানসিক বা শারীরিক প্রতিক্রিয়া যা জীবিত প্রাণী ও মাদকের মিথস্ক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয়।
উদ্দীপকে রনি বন্ধুবান্ধবের সাথে মিশে যে ঔষুধের প্রতি অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়ে তা হলো মাদক বা ড্রাগ ৷
সুতরাং বলা যায়, রনির মা-বাবা সামাজিক সমস্যা মাদকাসক্তির দিকে তার সন্তানকে ঠেলে দেয়।
ঘ.
উদ্দীপকে সমস্যাটি অর্থাৎ মাদকাসক্তি প্রতিরোধযোগ্য বলে আমি মনে করি।
সমাজ থেকে মাদকাসক্তি দূরীকরণের জন্য প্রয়োজন মাদক সংক্রান্ত যথার্থ তথ্যাবলি। যেমন— মাদকাসক্তির কারণ, প্রকৃতি, ধরন, প্রভাব ও সমস্যা দূরীকরণের জন্য উপযুক্ত উপায়সংক্রান্ত তথ্য। সামাজিক গবেষণা পদ্ধতি প্রয়োগ করে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ ও বিচার বিশ্লেষণ করে বাস্তবমুখী ও কার্যকর কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। মাদকাসক্তির মতো ভয়ংকর সামাজিক সমস্যা মোকাবিলা করার জন্য প্রয়োজন সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ। এটি এমন একটি সমস্যা, যা একক মোকাবিলা অসম্ভব। সমন্বিত কার্যক্রম গ্রহণের মাধ্যমে এ সমস্যা সমাজ থেকে দূর করতে হবে। মাদকাসক্তির মোকাবিলা করার জন্য জনগণের সচেতনতা একান্ত প্রয়োজন। কেননা সাধারণ জনগণ যদি সচেতন হয় তাহলে সে সমস্যার অস্তিত্ব সমাজে বেশি দিন টিকে থাকে না। সামাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমে জনগণকে এ ব্যাপারে সচেতন করে তুলতে হবে। এজন্য বিভিন্ন সংবাদপত্র, রেডিও, টেলিভিশনে মাদকবিরোধী অনুষ্ঠান প্রচার; সভা, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও পথ নাটক ইত্যাদি আয়োজনের মাধ্যমে জনগণকে মাদকাসক্তির কুফল সম্পর্কে সচেতন করে তোলা যায়। তবে মাদকাসক্তি মোকাবিলায় সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারে পরিবার। এক্ষেত্রে পারিবারিক শিক্ষা ও পারিবারিক পরিবেশ সুসংহতকরণ এবং অনুকূল সামাজিক পরিবেশ তৈরির জন্য পরিবারের সদস্যদের সম্পর্কোন্নয়ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সর্বোপরি সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের যথাযথ জ্ঞান ও ব্যক্তিজীবনে এর অনুশীলন এবং মাদক সংশ্লিষ্ট আইনগুলোর যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে মাদকাসক্তির মতো সামাজিক ব্যাধিকে সমাজ থেকে নির্মূল করে সুস্থ সুন্দর সামাজিক পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব অতএব বলা যায়, মাদকাসক্তি সমস্যাটি প্রতিরোধযোগ্য ।