ক.
পৌরনীতি সম্পর্কে ই এম হোয়াইট তার 'The Philosophy of Citizenship' গ্রন্থে বলেন- 'পৌরনীতি হচ্ছে জ্ঞানের সেই শাখা যা নাগরিকতার অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ এবং স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবতার সাথে জড়িত সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করে।'
খ.
যে কোনো ধরনের অনৈতিকতা পরিহার করে নিয়মনীতি মেনে কোনো কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করাকে স্বচ্ছতা বলে।
স্বচ্ছতা হলো একটি বিমূর্ত ধারণা। কোনো কাজ কতটুকু নীতিসংগত বা বৈধ তা এর মাধ্যমে মানুষ উপলব্ধি করতে পারে। স্বচ্ছতা সুশাসনের একটি অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। একটি দেশের শাসনব্যবস্থায় প্রচলিত আইনকানুন, নীতি বা সিদ্ধান্ত যদি স্পষ্ট হয় তাহলে তা সহজেই জনগণের বোধগম্য হয়। এর ফলে শাসক-শাসিত, সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ও তা পালনকারীর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ থাকে না। এর ফলে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়। তাই স্বচ্ছতাকে সুশাসনের পূর্বশত বলা হয়।
গ.
উদ্দীপকে পৌরনীতি ও সুশাসনের ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে। নাগরিকতার বিজ্ঞান হিসেবে এটি মানুষ ও রাষ্ট্রের কার্যাবলি সংশ্লিষ্ট সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করে।
মানুষ যে সকল প্রতিষ্ঠান, অভ্যাস ও কার্যাবলি ও চেতনার মাধ্যমে সামাজিক দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করে পৌরনীতি সে সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। এছাড়া বিশ্বায়নের যুগে তথ্য ও প্রযুক্তির উন্নতির পাশাপাশি নানা ধরনের সমস্যা ও জটিলতাও বাড়ছে। তাই পৌরনীতির আলোচনার পরিধি বিস্তৃত হচ্ছে। পূর্বের ন্যায় এর বিষয়বস্তু শুধু রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নেই, বরং নাগরিকের কল্যাণ সংশ্লিষ্ট সকল ক্ষেত্রে বিস্তৃত হয়েছে।
উদ্দীপকের রবিন একাদশ শ্রেণির মানবিক বিভাগের ছাত্র। রাজনীতিবিদ বাবার সন্তান হিসেবে সেও চায় রাজনীতি ও জনসেবার মাধ্যমে দেশ ও জাতির কল্যাণে আত্মনিয়োগ করতে। এ ব্যাপারে তার আগ্রহ দেখে রবিনের বাবা তাকে নাগরিকতা সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞান তথা পৌরনীতি ও সুশাসনের জ্ঞান অর্জনের পরামর্শ দেন। প্রকৃতপক্ষে একজন মানুষ-শুধু রাষ্ট্রের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন না; বরং বিভিন্ন রকমের সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সদস্য হিসেবেও তাকে ভূমিকা রাখতে হয়। এক্ষেত্রে নাগরিকতা ও সামাজিক বিষয়াবলি পৌরনীতি ও সুশাসনের আলোচ্য বিষয়। এছাড়া নাগরিকদের প্রতি রাষ্ট্র প্রদত্ত সুযোগ-সুবিধা; রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের কর্তব্য এবং রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা সম্পর্কিত বিষয় নিয়েও এ শাস্ত্র আলোচনা করে।
তাই কোনো নাগরিক যদি সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করতে চায় তবে তার উচিত পৌরনীতি ও সুশাসনের বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানা।
ঘ.
রবিনের ইচ্ছার বাস্তবায়নে তার বাবা জনাব রহমান সাহেবের পরামর্শ যৌক্তিক।
একটি দেশকে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য বলিষ্ঠ নেতৃত্বের প্রয়োজন। সেই সাথে রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে নাগরিকের অংশগ্রহণ করা অপরিহার্য। এক্ষেত্রে পৌরনীতি ও সুশাসনের পাঠ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের সাথে পরিচিত হতে নাগরিককে সাহায্য করে। ফলে প্রাতিষ্ঠানিক বিভিন্ন কার্যাবলিতে নাগরিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পায়, যা সুযোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তুলতে সহায়ক হয়।
উদ্দীপকে রবিন একটি রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য। তার দাদা ও বাবা রাজনীতিতে সক্রিয়। একাদশ শ্রেণির ছাত্র রবিনও তাদের মতো সক্রিয় রাজনীতির মাধ্যমে দেশ ও জাতির কল্যাণে আত্মনিয়োগ করতে চায়। তার এ ইচ্ছা বাস্তবায়নে বাবা রহমান সাহেব পৌরনীতি ও সুশাসনকে পাঠ্যবিষয় হিসেবে নেওয়ার পরামর্শ দেন। মূলত রবিনের মতো নবীন প্রজন্মের সুনাগরিক হয়ে ওঠার পেছনে পৌরনীতি ও সুশাসনের জ্ঞান কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এ শাস্ত্র পাঠের ফলে তারা দায়িত্ববান, কর্তব্যপরায়ণ, স্বচ্ছ ও উদার মানসিকতাসম্পন্ন নাগরিকে পরিণত হবে। এছাড়া এ শাস্ত্র পাঠ তাদেরকে রাজনৈতিক অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা প্রদান করবে। সর্বোপরি ভবিষ্যত প্রজন্মকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠের বিকল্প নেই।
উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে তাই বলা যায়, রবিনের ইচ্ছার বাস্তবায়নের রহমান সাহেব যে পরামর্শ দিয়েছেন তার যৌক্তিক ভিত্তি রয়েছে।