ক.
সংস্কৃত ভাষায় নগরকে 'পুর' বা 'পুরী' বলা হয়।
খ.
আইনের শাসন বলতে আইনের চোখে সবার সমান হওয়া এবং সব কিছুর ওপরে আইনের প্রাধান্যের স্বীকৃতিকে বোঝায়।
আইনের শাসনের অর্থ হচ্ছে: ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি এবং ছোট-বড় নির্বিশেষে সবাই আইনের কাছে সমান। যে কেউ আইন ভঙ্গ করলে তাকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা হবে এটাই আইনের শাসনের বিধান। আইনের শাসন ব্যক্তির সাম্য ও স্বাধীনতার রক্ষাকবচ।
গ.
উদ্দীপকে রাফির বাবা সুনাগরিক হওয়ার জন্য পৌরনীতি ও সুশাসন বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন, যার বিষয়বস্তু ব্যাপক ও বিস্তৃত।
উদ্দীপকে দেখা যায়, রাফি একাদশ শ্রেণির মানবিক শাখার ছাত্র। তার বাবা তাকে সুনাগরিকের গুণাবলি অর্জন এবং নাগরিক অধিকার ভোগ ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালনের জন্য নাগরিকতা সংশ্লিষ্ট বিষয় নির্বাচন করতে পরামর্শ দিলেন। উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়বস্তুর মধ্যে পৌরনীতি ও সুশাসন সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার যাবতীয় দিক সম্পর্কে আলোচনা করে বিধায় রাফি সুনাগরিক হওয়ার জন্য এ বিষয়টি বেছে নিয়েছে।
মানুষ যেসব প্রতিষ্ঠান, অভ্যাস ও কার্যাবলি এবং চেতনার মাধ্যমে সামাজিক দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করে, পৌরনীতি ও সুশাসন সেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। বিশ্বায়নের যুগে পৌরনীতি ও সুশাসনের আলোচনার পরিধি বিস্তৃত হচ্ছে। আগের মতো এর বিষয়বস্তু শুধু রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নেই, বরং নাগরিকের কল্যাণসংশ্লিষ্ট সবদিকে বিস্তৃত হয়েছে। সুনাগরিকের গুণাবলি এবং নাগরিকের দায়িত্ব ও কর্তব্য পৌরনীতি ও সুশাসনের গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়। পৌরনীতি ও সুশাসন রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গঠন, কার্যাবলি ও লক্ষ্য-উদ্দেশ্য নিয়ে আলোচনা করে। নাগরিকের অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ এবং স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দিক নিয়ে পৌরনীতি ও সুশাসন পর্যালোচনা করে। সর্বোপরি নাগরিকতা সংশ্লিষ্ট যাবতীয় বিষয় পৌরনীতি ও সুশাসনের বিষয়বস্তুর অন্তর্ভুক্ত।
ঘ.
‘উদ্দীপকের দু'টি বিষয় তথা পৌরনীতি ও সুশাসন এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর'— বক্তব্যটি যথার্থ ।
‘পৌরনীতি ও সুশাসন’ এবং ‘রাষ্ট্রবিজ্ঞান’ সামাজিক বিজ্ঞানের একই শাখার দু'টি অংশ। রাষ্ট্রবিজ্ঞান নাগরিকের রাজনৈতিক সংগঠন, সরকারের বিভিন্ন বিভাগের গঠন, ক্ষমতা ও কার্যাবলি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে । আবার রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে রাষ্ট্র, সরকার, সরকারের বিভিন্ন অঙ্গ, নির্বাচকমণ্ডলী, রাজনৈতিক দল ইত্যাদি পৌরনীতি ও সুশাসনেও আলোচিত হয়। সুতরাং উভয়ের আলোচ্য বিষয় কার্যত এক ও অভিন্ন ।
উদ্দীপকে দেখা যায়, একাদশ শ্রেণির ছাত্র রাফির বাবা তাকে নাগরিকতা সংশ্লিষ্ট একটি বিষয় পাঠ্য হিসেবে নেওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বিষয়ের সাথে ঘনিষ্ঠ একটি বিষয়ে অনার্স পড়ার সুযোগ রয়েছে। অর্থাৎ তিনি বিষয়বস্তুগত দিক থেকে বিষয় দুটির মধ্যে সম্পর্কের কথা বলেছেন। পৌরনীতি ও সুশাসনের সাথে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বিষয়বস্তুগত ঘনিষ্ঠ মিল রয়েছে। উভয় শাস্ত্রেই সাধারণ কিছু বিষয় আলোচনা করা হয়। যেমন— সংবিধান, রাষ্ট্র, রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সরকার, প্রশাসন, স্বাধীনতা, আইন, সাম্য, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি। তবে পৌরনীতি ও সুশাসন অপেক্ষা রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বিষয়বস্তু ব্যাপক এবং তার পরিসর দিন দিন আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বস্তুত, পৌরনীতি ও সুশাসন নাগরিকতা বিষয়ক এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান রাষ্ট্র সম্পর্কিত বিজ্ঞান । আর নাগরিক ও রাষ্ট্র একটি অবিচ্ছেদ্য ধারণা। রাষ্ট্রের অন্যতম উপাদান নাগরিক। নাগরিক ছাড়া রাষ্ট্র হতে পারে না। আবার রাষ্ট্র ছাড়া নাগরিকের ধারণা অর্থহীন। এ হিসেবে পৌরনীতি ও সুশাসন এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, পৌরনীতি ও সুশাসন এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর।