Facebook Pixel

রফিক ও ফারুক দুই বন্ধু। তারা দুজনেই বাংলাদেশের নাগরিক। দীর্ঘদিন পর সম্প্রতি তারা দুজনেই বিদেশ থেকে ফিরেছে। রফিক তাঁর অর্জিত অর্থ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। অন্যদিকে ফারুক বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয়-বিক্রয় কাজে যুক্ত হয়েছে। কিন্তু সে যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট হতে অনুমতি গ্রহণ করেনি। এই কারণে আইন প্রয়োগকারী বাহিনী তাকে গ্রেফতার করেছে। ক. বি.এস.ই.সি কী? খ. মুদ্রাবাজারের অংশগ্রহণকারী কারা? গ. উদ্দীপকে জনাব রফিকের বিনিয়োগের জন্য কোন ধরনের আর্থিক বাজার উপযোগী? ব্যাখ্যা কর। ঘ. তুমি কি মনে কর উদ্দীপকের আইন প্রয়োগকারী বাহিনী সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে? তোমার মতামত দাও।

বিষয়: ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০২ঃ আর্থিক বাজারের আইনগত দিকসমূহ

উৎস: Board Exam Question DB 2017

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) বি.এস.ই.সি. (BSEC) এর পূর্ণরূপ হলো বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন। এটি বাংলাদেশের পুঁজিবাজার বা শেয়ারবাজারের প্রধান নিয়ন্ত্রক সংস্থা। (খ) মুদ্রাবাজার হলো আর্থিক বাজারের সেই অংশ যেখানে স্বল্পমেয়াদি (১ বছর বা তার কম সময়ের জন্য) অর্থ ও আর্থিক সম্পদের লেনদেন হয়। মুদ্রাবাজারের প্রধান অংশগ্রহণকারীরা হলেন: ১. কেন্দ্রীয় ব্যাংক: এটি মুদ্রাবাজারের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ এবং নেতৃত্ব প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। ২. বাণিজ্যিক ব্যাংক: এরা ব্যক্তি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন ধরনের ঋণ সুবিধার মাধ্যমে অর্থ সরবরাহ করে। ৩. আর্থিক প্রতিষ্ঠান: বিভিন্ন সঞ্চয় ও বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাজারে তহবিল সরবরাহ করে। ৪. বিমা কোম্পানি ও বিনিয়োগ ব্যাংক: এরাও বাজারে তহবিল সরবরাহকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। (গ) উদ্দীপকে জনাব রফিকের বিনিয়োগের জন্য পুঁজিবাজার (Capital Market) উপযোগী। পুঁজিবাজার হলো আর্থিক বাজারের সেই অংশ যেখানে দীর্ঘমেয়াদি (১ বছরের বেশি সময়ের জন্য) অর্থ ও আর্থিক সম্পদের লেনদেন হয়। এই বাজারে মূলত সরকারি বন্ড, কোম্পানির শেয়ার এবং ঋণপত্রের লেনদেন হয়ে থাকে। উদ্দীপকের আলোকে দেখা যায় যে, জনাব রফিক তাঁর অর্জিত অর্থ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। শেয়ার হলো পুঁজিবাজারের প্রধান হাতিয়ার, যার মাধ্যমে কোম্পানিগুলো দীর্ঘমেয়াদি মূলধন সংগ্রহ করে এবং বিনিয়োগকারীরা উক্ত কোম্পানির শেয়ার ক্রয়ের মাধ্যমে বিনিয়োগ করতে পারে। যেহেতু জনাব রফিক শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে চাচ্ছেন, তাই তাঁর জন্য পুঁজিবাজারই সবচেয়ে উপযোগী আর্থিক বাজার। (ঘ) হ্যাঁ, আমি মনে করি উদ্দীপকের আইন প্রয়োগকারী বাহিনী সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। বৈদেশিক বিনিময় নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৪৭ এর ৩ নং ধারা অনুযায়ী, বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রা পরিচালনার একক ক্ষমতা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের। কেন্দ্রীয় ব্যাংক হতে লাইসেন্স প্রাপ্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ব্যতীত অন্য কেউ বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয়-বিক্রয় করতে পারে না। লাইসেন্স ছাড়া বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। উদ্দীপকের ফারুক একজন বাংলাদেশি নাগরিক, যিনি বিদেশ থেকে ফিরে যথাযথ কর্তৃপক্ষের (বাংলাদেশ ব্যাংক) অনুমতি বা লাইসেন্স গ্রহণ না করেই বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয়-বিক্রয় কাজে যুক্ত হয়েছেন। তাঁর এই কর্মকাণ্ড বৈদেশিক বিনিময় নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৪৭ এর পরিপন্থী। বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয়-বিক্রয় করতে হলে তাঁকে প্রথমে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হতো, যা তিনি করেননি। সুতরাং, আইন লঙ্ঘন করার কারণে আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর তাঁকে গ্রেফতার করার সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ সঠিক এবং আইনানুগ।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenDhaka Board (2017)

রফিক ও ফারুক দুই বন্ধু। তারা দুজনেই বাংলাদেশের নাগরিক। দীর্ঘদিন পর সম্প্রতি তারা দুজনেই বিদেশ থেকে ফিরেছে। রফিক তাঁর অর্জিত অর্থ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। অন্যদিকে ফারুক বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয়-বিক্রয় কাজে যুক্ত হয়েছে। কিন্তু সে যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট হতে অনুমতি গ্রহণ করেনি। এই কারণে আইন প্রয়োগকারী বাহিনী তাকে গ্রেফতার করেছে।

ক. বি.এস.ই.সি কী?

খ. মুদ্রাবাজারের অংশগ্রহণকারী কারা?

গ. উদ্দীপকে জনাব রফিকের বিনিয়োগের জন্য কোন ধরনের আর্থিক বাজার উপযোগী? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. তুমি কি মনে কর উদ্দীপকের আইন প্রয়োগকারী বাহিনী সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে? তোমার মতামত দাও।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।