ক.
সাধারণভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হলো একটি যন্ত্রকে মানুষের মতো বুদ্ধিমত্তা দিয়ে সেটিকে চিন্তাশক্তি, বুদ্ধি কিংবা বিশ্লেষণ করানোর ক্ষমতা দেওয়ার ধারণা। অর্থাৎ কোনো ঘটনা বা পরিস্থিতির সাপেক্ষে কোনো যন্ত্র (যেমন- কম্পিউটার) কী ধরনের সিদ্ধান্ত নিবে তার সক্ষমতা পরিমাপণ পদ্ধতিকে বলা হয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।
খ.
ন্যানোটেকনোলজি 1 থেকে 100 ন্যানোমিটার স্কেলে নিপুণভাবে পদার্থের গঠন পরিবর্তন ও উন্নতমানের সামগ্রী তৈরিতে সহায়তা করে। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে উৎপাদিত ন্যানোটিউব ও কার্বন ফাইবার দিয়ে তৈরি সামগ্রী অধিক টেকসই, দীর্ঘস্থায়ী এবং উচ্চ তাপ ও ঘর্ষণ সহনশীল হয়। ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীতে ন্যানো সেন্সর ও চিপ ব্যবহারের ফলে ডিভাইসের আকার ছোটো হওয়ার পাশাপাশি এর কার্যক্ষমতা ও ডেটা সংরক্ষণের সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। এছাড়া খাদ্য ও ওষুধ শিল্পে ন্যানো-কোটিং ব্যবহার করার মাধ্যমে পণ্যের গুণগত মান রক্ষা ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে। এভাবেই ন্যানোটেকনোলজি উন্নতমানের সামগ্রী তৈরিতে সাহায্য করছে।
গ.
উদ্দীপকে রাফসানের ব্যাংকে ব্যবহৃত নিরাপত্তা ব্যবস্থাটি হলো মূলত বায়োমেট্রিক্স প্রযুক্তি। এই প্রযুক্তিতে মানুষের শারীরিক বা আচরণগত বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে কোনো ব্যক্তিকে অনন্যভাবে শনাক্ত করা হয়। নিচে এই ব্যবস্থার শনাক্তকরণ পদ্ধতি কীভাবে কাজ করে তা ব্যাখ্যা করা হলো-
বায়োমেট্রিক্স ব্যবস্থায় সঠিক ব্যক্তিকে শনাক্ত করার প্রক্রিয়াটি সাধারণত দুটি প্রধান ধাপে সম্পন্ন হয়। প্রথম ধাপটি হলো রেজিস্ট্রেশন বা এনরোলমেন্ট। এই পর্যায়ে গ্রাহকের কোনো নির্দিষ্ট জৈবিক বৈশিষ্ট্য যেমন- হাতের রেখা বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট একটি সেন্সর ডিভাইসের মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়। সংগৃহীত এই ডেটা ব্যাংকের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কেন্দ্রীয় ডেটাবেজে সংরক্ষিত থাকে।
দ্বিতীয় ধাপটি হলো ভেরিফিকেশন বা শনাক্তকরণ। যখনই কোনো গ্রাহক ব্যাংকিং সেবা নিতে যান, তাকে পুনরায় নিরাপত্তা ডিভাইসে নিজের ডেটা ইনপুট দিতে হয়। ব্যবস্থাটি তখন বর্তমান ইনপুট থেকে প্রাপ্ত ডেটার সাথে ডেটাবেজে সংরক্ষিত গ্রাহকের ডেটার তুলনা করে। দুটি ডেটা পুরোপুরি মিলে গেলে তবেই নিরাপত্তা ব্যবস্থাটি সঠিক ব্যক্তিকে শনাক্ত করে ব্যাংকের সেবায় তার প্রবেশাধিকার দেয়। অন্যথায়, ডেটার অসামঞ্জস্যতা দেখা দিলে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাটি ব্যাংকিং সেবা প্রদান বন্ধ রাখে। এই ব্যবস্থাটি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য কারণ পাসওয়ার্ড বা কার্ড হারিয়ে যাওয়ার ভয় থাকলেও মানুষের জৈবিক বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করা বা নকল করা প্রায় অসম্ভব।
ঘ.
উদ্দীপকে রাফসান ও মারুফ সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। রাফসান ব্যাংকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বায়োমেট্রিক্স প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। অন্যদিকে মারুফ DNA ডেটা বিশ্লেষণ ও সংরক্ষণের জন্য বায়োইনফরমেটিক্স প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। এই দুটি প্রযুক্তির মধ্যকার মৌলিক পার্থক্যগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
বায়োমেট্রিক্স হলো মূলত এমন একটি প্রযুক্তি যা মানুষের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য যেমন- DNA, ফিঙ্গারপ্রিন্ট, চোখের রেটিনা বা কণ্ঠস্বর বিশ্লেষণ করে কারো পরিচয় যাচাই করে। এটি মূলত দুই ধাপে কাজ করে। তথ্য সংগ্রহ এবং পরবর্তীতে প্রয়োজন অনুযায়ী তা মিলিয়ে দেখা। সরকারি, বেসরকারি বিভিন্ন ক্ষেত্রে মানুষের পরিচয় শনাক্তকরণের জন্য এই প্রযুক্তিটি ব্যবহৃত হয়। তাছাড়া এই প্রযুক্তিটি খুব বেশি ব্যায়বহুল না হওয়ায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এই প্রযুক্তির ব্যবহার আজকাল খুব স্বাভাবিক একটি ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে।
অন্যদিকে বায়োইনফরমেটিক্স হলো ফলিত গণিত, তথ্য বিজ্ঞান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রসায়নের একটি সমন্বিত রূপ যা জীববিজ্ঞানের জটিল সমস্যাগুলোর সমাধানে কাজ করে। এটি বায়োলজিক্যাল ডেটা বিশ্লেষণ করার জন্য কম্পিউটার প্রযুক্তি, ইনফরমেশন থিওরি এবং গাণিতিক জ্ঞানকে ব্যবহার করে। মলিকুলার জেনেটিক্সের ভিজ্যুয়ালাইজেশনে এই প্রযুক্তিটি ব্যবহৃত হয়। তাছাড়া বিপুল পরিমাণ পুনরাবৃত্তিমূলক বা অপুনরাবৃত্তিমূলক তথ্যের বিশ্লেষণে এই প্রযুক্তি অপরিহার্য। প্যাটার্ন রিকগনিশন ও অ্যালগরিদমিক ডেটা মাইনিং এর কাজে বায়োইনফরমেটিক্স ব্যবহার করা হয়। তবে এই প্রযুক্তিটি জটিল হওয়ার কারণে বায়োমেট্রিক্সের তুলনায় অনেক ব্যায়বহুল।
সুতরাং দেখা যাচ্ছে, বায়োমেট্রিক্স প্রযুক্তি যেখানে পরিচয় শনাক্তকরণ ও নিরাপত্তার কাজে ব্যবহৃত হয়, সেখানে বায়োইনফরমেটিক্স প্রযুক্তি জৈবিক তথ্যের বিশাল ভাণ্ডার বিশ্লেষণ ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার সাথে সংশ্লিষ্ট, অর্থাৎ এরা উভয়েই সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি প্রযুক্তি।