ক.
সমাজবিজ্ঞানের জনক অগাস্ট কোঁৎ সর্বপ্রথম Sociology শব্দটি ব্যবহার করেন।
খ.
নৃবিজ্ঞান হলো মানুষ সম্পর্কিত বিজ্ঞান। নৃবিজ্ঞানের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো 'Anthropology' যার উৎপত্তি গ্রিক শব্দ 'Anthropos'-এবং 'Logos' থেকে। গ্রিক শব্দ 'Anthropos'-এর অর্থ হচ্ছে মানুষ এবং 'Logos' শব্দের অর্থ হচ্ছে পাঠ। সুতরাং 'Anthropology' শব্দের অর্থ হলো মানুষ সম্পর্কিত পাঠ বা মানববিজ্ঞান। মানুষ সম্পর্কিত বিজ্ঞানভিত্তিক পাঠই হচ্ছে নৃবিজ্ঞান। অর্থাৎ মানুষের উৎপত্তি, দৈহিক গঠন এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্রমবিকাশ সম্পর্কে যে শাস্ত্র বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা করে তাই নৃবিজ্ঞান।
গ.
উদ্দীপকের মি. আব্দুল হাফিজ সামাজিক বিজ্ঞানের অন্যতম একটি শাখা মনোবিজ্ঞান বিষয়ে পাঠদান করছেন।
মনোবিজ্ঞানের ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Psychology' শব্দটি গ্রিক শব্দ 'Psyche' ও 'Logos' থেকে উদ্ভূত। এ দুটো শব্দের অর্থ যথাক্রমে 'আত্মা' এবং 'বিজ্ঞান'। তাই আভিধানিক অর্থে Psychology বা মনোবিজ্ঞান বলতে মন সম্পর্কীয় বিজ্ঞানকে বোঝায়। মূলত যে বিজ্ঞান মানুষ বা প্রাণীর মন তথা তার আচার-আচরণ নিয়ে আলোচনা করে তাকেই মনোবিজ্ঞান বলা হয়। এ প্রসঙ্গে মনোবিজ্ঞানী জন. বি. ওয়াটসন বলেন, “মনোবিজ্ঞান হচ্ছে এমন একটি বিজ্ঞান যা মানুষ ও প্রাণীর আচরণ নিয়ে আলোচনা করে।” সমাজকর্ম অভিধান অনুযায়ী, “যে বিজ্ঞান মানসিক ও শারীরিক ক্রিয়ার পারস্পরিক সম্পর্ক বিশেষ করে যা ব্যক্তিত্বকে প্রভাবিত করে, তার অনুধ্যান করে, তাকে মনোবিজ্ঞান বলে।" সুতরাং বলা যায়, মনোবিজ্ঞান হলো এমন একটি বিজ্ঞান যা মানুষ ও প্রাণীর আচার-আচরণ এবং মানসিক প্রক্রিয়া সম্বন্ধে বিজ্ঞানসম্মত অনুধ্যান করে। অন্যকথায় বিভিন্ন অবস্থা বা পরিবেশে মানুষ ও অন্যান্য প্রাণী কী ধরনের আচরণ করে বা ভবিষ্যতে করতে পারে এবং কেন আচরণ করে, তার আলোচনাই মনোবিজ্ঞান। মানুষের বেলায় তাদের আবেগ, অনুভূতি, আচরণ, শিক্ষণ, অভিজ্ঞতা, প্রেষণা, হতাশা, উপযোজন প্রভৃতি মনোবিজ্ঞানের বিষয়বস্তু। এছাড়া সমাজস্থ ব্যক্তি, দল, সমষ্টি, সামাজিক পরিবেশ, রীতিনীতি, আদর্শ, মূল্যবোধ প্রভৃতি নিয়েও মনোবিজ্ঞান আলোচনা করে থাকে।
উদ্দীপকে আমরা দেখি, মি. আব্দুল হাফিজ যে বিষয়ে পাঠদান করছেন সেটির আলোচ্য বিষয় হলো আবেগ, প্রত্যক্ষণ, প্রেষণা, শিক্ষণ, ব্যক্তিত্ব; যা মনোবিজ্ঞানের বিষয়বস্তুর সদৃশ।
অতএব বলা যায়, মি. আবদুল হাফিজের পাঠদানকৃত বিষয়টি মনোবিজ্ঞান।
ঘ.
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত বিষয় দুটি হলো যথাক্রমে মনোবিজ্ঞান ও সমাজকর্ম। বিষয় দুটির পারস্পরিক সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়।
সমাজকর্ম হলো মানুষের সন্তোষজনক জীবনমান ও সামাজিক সম্পর্ক লাভের জন্য সুসংগঠিত সাহায্যকারী পেশা। মানুষের এ সন্তোষজনক জীবন লাভে মানর প্রকৃতি ও আচরণ একটি সক্রিয় উপাদান। তাছাড়া সমাজকর্মের প্রধান লক্ষ্য ব্যক্তি, দল, পরিবার ও সমজের বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলা করা। এজন্য সমাজকর্মীদের অবশ্যই সমস্যার কারণ, উৎস, প্রভাব, উপাদান প্রভৃতি উদ্ঘাটন করতে হয়; যার মূলে রয়েছে মনস্তাত্ত্বিক উপাদানের শক্তিশালী প্রভাব। এজন্য সমাজকর্মীদের ব্যক্তির যাবতীয় দিক, যেমন- আবেগ, অনুভূতি, মূল্যবোধ, দৃষ্টিভঙ্গি, ব্যক্তিত্ব, অভ্যন্তরীণ ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ইত্যাদি এবং পরিবেশের যাবতীয় উপাদান সম্পর্কে জ্ঞান থাকা বাঞ্ছনীয়। এসব জ্ঞান প্রধানত মনোবিজ্ঞানের মাধ্যমেই সমাজকর্মীরা পেয়ে থাকেন। তাই বর্তমান সময়ে সমস্যা বিশ্লেষণে সমাজকর্মীরা মনোবিজ্ঞানের জ্ঞানের ওপর নির্ভরশীল। আমরা জানি, সমাজকর্মে প্রয়োগকৃত বিভিন্ন চিকিৎসা বহুলাংশে মনোবিজ্ঞানের জ্ঞাননির্ভর। বিশেষ করে ব্যক্তি সমাজকর্মে ব্যক্তির সমস্যা সমাধান ও আচরণ সংশোধনের জন্য প্রয়োগকৃত জ্ঞান মনোবিজ্ঞানের আলোচ্য বিষয়। তাছাড়া ব্যক্তির মানসিক ক্ষমতা বা সুপ্ত প্রতিভা নির্ধারণের জন্য মনোবিজ্ঞানের কিছু নিজস্ব কৌশল ও প্রক্রিয়া আছে। সমাজকর্মে এসব কৌশল ও প্রক্রিয়া অবলম্বন করে সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তির মানসিক ক্ষমতা নির্ণয় সাপেক্ষে প্রতিভার বিকাশ সাধন করা হয়। ফলে বিভিন্ন জটিল আর্থসামাজিক পরিবেশ ও পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে সমাজকর্ম ব্যক্তিকে সামঞ্জস্য বিধানে সক্ষম করে তোলে। মনোবিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা সমাজকর্মের বিভিন্ন অনুশীলন ক্ষেত্রের সাথেও গভীরভাবে সম্পর্কিত। তাই সমাজকর্মে মনোবিজ্ঞানের জ্ঞানের বহুমুখী প্রয়োগ লক্ষ করা যায়। যেমন-চিকিৎসা সমাজকর্ম, বিদ্যালয় সমাজকর্ম, শিশুকল্যাণ, শ্রমকল্যাণ, অপরাধ সংশোধন প্রভৃতি ক্ষেত্রে মনোবিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখাকে প্রয়োজন অনুসারে প্রয়োগ করা হয়।
সুতরাং সার্বিক আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, সমাজকর্মের পদ্ধতিগুলোর সুষ্ঠু প্রয়োগ ও বাস্তবায়নে মনোবিজ্ঞানের জ্ঞান অত্যাবশ্যকীয়।