ক.
জ্ঞান-বিজ্ঞানের ধারা দুইটি।
খ.
মনোবিজ্ঞান সামাজিক বিজ্ঞানের একটি অন্যতম শাখা হিসেবে বিবেচিত।
মনোবিজ্ঞান সমাজের মানুষ বা প্রাণীর সামগ্রিক আচার-আচরণ সম্পর্কে বিজ্ঞানভিত্তিক অধ্যয়ন করে। যার মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক বিষয়াবলি, আচরণ, শিক্ষণ, সামাজিকীকরণ, অভিজ্ঞতা, প্রেষণা, উপযোজন প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। এছাড়া সমাজে বসবাসরত ব্যক্তি, দল, সমষ্টি, সামাজিক পরিবেশ, রীতিনীতি, আদর্শ মূল্যবোধ প্রভৃতি নিয়েও মনোবিজ্ঞান আলোচনা করে। আর এ সকল বিষয় সামাজিক বিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত। এ কারণেই মনোবিজ্ঞানকে সামাজিক বিজ্ঞান বলা হয়।
গ.
উদ্দীপকে রিফাতের গবেষণার সাথে জড়িত বিষয়টি হচ্ছে নৃবিজ্ঞান।
নৃ-বিজ্ঞান সামাজিক বিজ্ঞানের একটি অন্যতম শাখা। এর প্রধান আলোচ্য বিষয় হচ্ছে মানুষ। মানুষের উৎপত্তি, দৈহিক গঠন, সংস্কৃতি, পরিবার, রাষ্ট্র, ধর্ম প্রভৃতির পাশাপাশি বিভিন্ন প্রথা ও প্রতিষ্ঠানের উৎপত্তি এবং ক্রমবিকাশ নিয়ে নৃবিজ্ঞান আলোচনা করে।
বিষয়বস্তুর ব্যাপকতার কারণে নৃবিজ্ঞানকে দৈহিক এবং সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞান এই দু'ভাগে ভাগ করা হয়। দৈহিক নৃবিজ্ঞান মানুষের উৎপত্তি, বিকাশ ও দৈহিক গঠনপ্রণালী নিয়ে আলোচনা করে। পৃথিবীর বিভিন্ন মানবগোষ্ঠীর বর্ণ পরিচয় এবং তাদের ওপর পরিবেশের প্রভাব নিয়ে দৈহিক নৃবিজ্ঞান পরীক্ষা- নিরীক্ষা চালায়। আর সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞানে মানুষের অর্জিত ব্যবহার নিয়ে গবেষণা করা হয়। আদিম মানুষের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বিষয় সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞানের গবেষণার বিষয়।
উদ্দীপকে রিফাত তার গবেষণায় ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জীবনযাপনের সমস্যাগুলো তুলে ধরতে চায়। এজন্য তাকে ঐ জাতিগোষ্ঠীর উৎপত্তি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্রমবিকাশ সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করতে হচ্ছে। সুতরাং বলা যায়, রিফাতের গবেষণার সাথে জড়িত বিষয়টি হলো নৃবিজ্ঞান।
ঘ.
একজন সমাজকর্মীর জন্য উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত জন্ম ও মৃত্যুহার সম্পর্কিত বিষয় তথা জনবিজ্ঞানের জ্ঞানের আবশ্যকতা রয়েছে বলে আমি মনে করি।
জনবিজ্ঞান জনসংখ্যা এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা ও গবেষণা করে। এ বিজ্ঞানের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হলো জন্ম ও মৃত্যুহার, জনসংখ্যার স্থানান্তর, বিবাহ, জনসংখ্যার আকৃতি, গঠন, কাঠামো, বণ্টন, জনসংখ্যা সমস্যা সমাধান প্রভৃতি।
উদ্দীপকে রিফাতকে তার গবেষণার জন্য ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্ম ও মৃত্যুহার, স্থানান্তর, জনসংখ্যার কাঠামো ও বণ্টন সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করতে হচ্ছে। যা সমাজবিজ্ঞানের অন্যতম শাখা জনবিজ্ঞানকে নির্দেশ করছে। জনবিজ্ঞানের জ্ঞান একজন সমাজকর্মীকে নানাভাবে সহায়তা করে। পেশাদার সমাজকর্মীদেরকে সমাজ এবং সমাজের মানুষের সামাজিক সমস্যা সমাধানে কাজ করতে হয়। সামাজিক সমস্যাগুলো পরস্পর সংশ্লিষ্ট। এক্ষেত্রে জনসংখ্যা বৃদ্ধিজনতি সমস্যা কীভাবে অন্য সমস্যা সৃষ্টিতে সহায়তা করে তা জনবিজ্ঞান পাঠ করে জানা যায়। বিশেষ করে পারিবারিক বিশৃঙ্খলা, দারিদ্র্য ও বেকারত্ব সৃষ্টিতে জনসংখ্যার ভূমিকা সম্পর্কে জনবিজ্ঞান আলোচনা করে। আর এসব সমস্যা সমাধান করতে সমাজকর্মীকে অবশ্যই জনবিজ্ঞান পাঠ করতে হয়। দেশের মোট জনসংখ্যা, নারী প্রতি প্রজনন ক্ষমতা, মৃত্যুহার, জন্মহার, প্রসূতি মৃত্যুহার, শিশু মৃত্যুহার প্রভৃতি জনসংখ্যা চলকের অস্বাভাবিকতার কারণ ও সমাধান ব্যবস্থা সম্পর্কে সমাজকর্মীরা জনবিজ্ঞান থেকেই জ্ঞান অর্জন করে। এছাড়া সমাজকর্মীদের শিশুকল্যাণ, যুবকল্যাণ, নারীকল্যাণ, প্রবীণকল্যাণ, সমষ্টি উন্নয়ন প্রভৃতি ক্ষেত্রে কাজ করতে বয়সকাঠামো, জনসংখ্যা বণ্টন, লিঙ্গভেদ প্রভৃতি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা প্রয়োজন। জনবিজ্ঞান থেকে সমাজকর্মীরা এ সব বিষয়ে ধারণা পায়।
পরিশেষে বলা যায়, জনসংখ্যা সম্পর্কিত সমস্যা মোকাবিলায় একজন সমাজকর্মীর জন্য উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত বিষয় তথা জনবিজ্ঞানের জ্ঞান অর্জন করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।