ক.
স্বাধীনতা হলো এমন সুযোগ-সুবিধা ও পরিবেশ, যেখানে কেউ কারও ক্ষতি না করে সবাই নিজেদের অধিকার ভোগ করে।
খ.
নৈতিকতা হলো সমাজের বিবেকের সাথে সংগতিপূর্ণ কতকগুলো ধ্যান-ধারণা ও আদর্শের সমষ্টি বা সমাজস্বীকৃত আচরণবিধি।
নৈতিকতা মূলত একধরনের মানসিক অবস্থা যা কাউকে অপরের মঙ্গল কামনা এবং ভালো কাজের অনুপ্রেরণা দিয়ে থাকে। নৈতিকতা মানুষের মনে উদ্ভব ও বিকশিত হয় এবং এটিকে লালন করে সমাজ। সত্য কথা বলা, গুরুজনকে মান্য করা, অসহায়কে সাহায্য করা, চুরি, দুর্নীতি থেকে বিরত থাকা এগুলো মানুষের নৈতিকতারই বহিঃপ্রকাশ।
গ.
উদ্দীপকে রফিক স্যার বিভিন্ন ধরনের মূল্যবোধ নিয়ে আলোচনা করেন।
সমাজকাঠামোর অবিচ্ছেদ্য উপাদান হলো মূল্যবোধ। যে চিন্তা-ভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের সামগ্রিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত করে তাকেই মূল্যবোধ বলা হয়।
সামাজিক মূল্যবোধ হলো সেসব রীতি-নীতির সমষ্টি, যা ব্যক্তি সমাজের নিকট হতে আশা করে এবং যা সমাজ ব্যক্তির নিকট হতে লাভ করে। যেমন- সামাজিক শিষ্টাচার, সততা, ন্যায়বিচার, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, শৃঙ্খলাবোধ, আত্মত্যাগ প্রভৃতি। যে চিন্তা-ভাবনা, লক্ষ্য উদ্দেশ্য ও সংকল্প রাজনৈতিক আচার ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রণ করে তার সমষ্টিই হলো "রাজনৈতিক মূল্যবোধ। যেমন- রাজনৈতিক সততা ও সহনশীলতা, পরমতসহিষ্ণুতা, নির্বাচনে জয়-পরাজয় মেনে নেওয়া প্রভৃতি।
আবার যেসব ধর্মীয় অনুশাসন, আচার-আচরণ, ধর্মীয় কর্মকান্ডকে নিয়ন্ত্রণ করে তা-ই ধর্মীয় মূল্যবোধ। যেমন- সকল ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন, অন্য ধর্মমতকে সহ্য করা, অন্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মাচরণে বাধা না দেওয়া প্রভৃতি। এছাড়াও আরো একটি মূল্যবোধ হলো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেসব, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের সামগ্রিক আচার- আচরণ ও দৈনন্দিন কর্মকান্ডকে নিয়ন্ত্রণ করে তাই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ। যেমন- শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা, সাহস।
ঘ.
উক্ত মূল্যবোধসমূহ সাধারণ নাগরিকদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সচেতন করার মাধ্যমে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে।
সুনাগরিকের কতগুলো গুণ রয়েছে। তিনি নিজের প্রজ্ঞা ও দক্ষতার দ্বারা রাষ্ট্র ও সমাজের যেকোনো সমস্যা সমাধানে আত্মনিয়োগ করেন। রাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থে নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থ ত্যাগ করে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির ঊর্ধ্বে থেকে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও বিবেকবোধ দ্বারা ন্যায়- অন্যায়, উচিত-অনুচিত অনুধাবন করে যেকোনো বিষয়ে যথাযথ সিদ্ধান্ত 'গ্রহণ করতে পারেন।
সামাজিক মূল্যবোধ মানুষের বিচারের মানদণ্ড। সামাজিক মূল্যবোধের মাপকাঠিতে মানুষের কাজের ভালো-মন্দের বিচার হয়। সামাজিক মূল্যবোধসম্পন্ন একজন মানুষ শিষ্টাচার, সত্যবাদিতা, ন্যায়বিচার, শ্রমের মর্যাদা, শৃঙ্খলাবোধ, আত্মত্যাগ প্রভৃতি গুণাবলির অধিকারী হয়। যা তাকে সুনাগরিক হতে সহায়তা করে। বর্তমান রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় প্রতিটি নাগরিকই রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। রাজনৈতিক আদর্শ, আনুগত্য, পরমতসহিষ্ণুতা, রাজনৈতিক সহনশীলতা, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ প্রভৃতি রাজনৈতিক মূল্যবোধের চর্চা একজন নাগরিককে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে। ধর্মবিশেষে ধর্মীয় মূল্যবোধ ভিন্ন হয়ে থাকে। তবে ধর্মীয় মূল্যবোধকে সম্মান করা এবং মেনে চলা প্রত্যেক অনুসারীদের কর্তব্য। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ চর্চার ফলে শাসনব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, দায়িত্বশীলতা, সহনশীলতা, নাগরিক মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। এসব দেখে একজন সাধারণ নাগরিক দায়িত্ব ও কর্তব্যপরায়ণ হয়ে উঠে। যা সুনাগরিক তৈরিতে সাহায্য করে।
পরিশেষে বলা যায় যে, উক্ত মূল্যবোধসমূহ সুনাগরিক তৈরিতে সহায়তা করে।