Facebook Pixel

রফিকুল ইসলাম একজন গরিব কৃষক। তিনি রুবেলের নিকট থেকে ঋণ নিয়ে তার জমিতে টমেটো চাষ করেন। টমেটোর ফলন খুব ভালো হয়েছে। প্রতি কেজি টমেটো উৎপাদন করতে তার খরচ হয় ১৫ টাকা। কিন্তু রুবেলের নিকট তিনি টমেটো প্রতি কেজি ১৬ টাকা দরে বিক্রি করতে বাধ্য হন। রুবেল সে টমেটো বাজারে প্রতি কেজি ২৫ টাকা ধরে বিক্রি করেন। রফিকুল ইসলামের মতো কৃষকদের অবস্থার উন্নয়নে সরকার গ্রামাঞ্চলে ক্রয়কেন্দ্র ও কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ এবং কৃষকদের বিনা সুদে ঋণদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ক. বাংলাদেশে কৃষির উপখাতসমূহ কী? খ. 'বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি কৃষির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।'- ব্যাখ্যা করো। গ. রফিকুল ইসলামের সমস্যার প্রকৃতি বিশ্লেষণ করো। ঘ. রফিকুল ইসলামের মতো কৃষকদের অবস্থার উন্নয়নের গৃহীত সরকারি পদক্ষেপসমূহের যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: অর্থনীতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০২ঃ বাংলাদেশের কৃষি

উৎস: Board Exam Question RB 2017

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. বাংলাদেশে কৃষির উপখাতসমূহ হলো শস্য ও শাকসবজি, পশু সম্পদ, বনজ সম্পদ ও মৎস্য সম্পদ। খ. পরিবেশ দূষণের ফল হলো বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তন। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির দরুন সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে কৃষিক্ষেত্রের ওপর। জলবায়ুর পরিবর্তন মানবজীবন এবং সমগ্র প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। কৃষি উৎপাদনের ওপর তার প্রভাব সবচেয়ে মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এতে করে ফসল উৎপাদন হ্রাস, বন্যার ঝুঁকি বৃদ্ধি, বৃক্ষরাজি ও মৎস্য উৎপাদন ও প্রজনন ধ্বংস হচ্ছে। ফলে সামগ্রিকভাবে কৃষি উৎপাদন তথা খাদ্য উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে। খাদ্য উৎপাদন হ্রাস পাওয়ায় বাংলাদেশের মতো দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে তৈরি হচ্ছে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা। গ. রফিকুল ইসলামের সমস্যার প্রকৃতি হলো কৃষিপণ্যের বিপণনের সমস্যা। প্রথমত, টমেটো পচনশীল পণ্য হওয়ায় তা সংরক্ষণের সমস্যা রয়েছে। রফিকুল ইসলাম যখন ফসল সংগ্রহ করেন তখন তার দাম কম থাকে। তাই ঐ সময় ফসল বিক্রি না করে যদি গুদামে সংরক্ষণ করা যেত, তবে যখন দ্রব্যের দাম বাড়তো তখন বিক্রি করতে পারলে ন্যায্য মূল্য পাওয়া সম্ভব হতো। কিন্তু বাংলাদেশে টমেটো পচনশীল কৃষিপণ্য সংরক্ষণের তেমন গুদামঘর তৈরি হয়নি। তাছাড়া এ ধরনের পচনশীল পণ্য সাধারণ মানুষের পক্ষে সংরক্ষণ করাও সম্ভব নয়। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশে কৃষিপণ্যের বাজারে কৃষকের অবস্থান খুবই দুর্বল। আমাদের কৃষিপণ্যের প্রাথমিক বাজারে পণ্য বিক্রেতা কৃষকের সংখ্যা অগণিত। অন্যদিকে, ক্রেতা হিসেবে আছে অল্পসংখ্যক ফড়িয়া ও বেপারি। তদুপরি নগদ অর্থের তীব্র প্রয়োজনে কৃষক অবিলম্বে পণ্যসামগ্রী বিক্রি করতে বাধ্য হয়। পরিণতিতে রফিকুল ইসলামের মতো গরিব কৃষক কখনো তার পণ্যের ন্যায্য মূল্য পায় না। তৃতীয়ত, আমাদের দেশে কৃষিপণ্যের বাজারে কৃষক তার পণ্য প্রকৃত ক্রেতাদের নিকট বিক্রি করতে পারে না। প্রকৃত ক্রেতা ও কৃষক বা উৎপাদনকারীর মাঝে একদল দালাল শ্রেণির লোক থাকে। অর্থাৎ বাংলাদেশে কৃষিপণ্য খামার থেকে ভোক্তার হাতে পৌঁছানো পর্যন্ত মধ্যবর্তী ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য রয়েছে। ফড়িয়া, দালাল, মজুদদার, বেপারি, মহাজন ইত্যাদি মধ্যস্বত্বভোগীরা কৃষকদের আর্থিক সংকটের সুযোগে হাতিয়ে নেয় মোটা অঙ্কের মুনাফা। মুনাফার প্রায় সবটুকুই এ সকল দালালের হাতে চলে যায়। ফলে কৃষক তার পণ্যের মূল্যের একটি অংশ পায় মাত্র। আবার অনেক সময় এরা কৃষকদেরকে দ্রব্যের চাহিদা ও যোগান সম্পর্কে ভুল তথ্য দিয়ে কৃষকদেরকে তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত করে। ঘ. কৃষিপণ্য বিপণনে রাষ্ট্রীয় অংশগ্রহণ খুবই জরুরি। কেননা বাংলাদেশে কৃষিপণ্যের নিম্নমান, কৃষকদের দারিদ্র্য, বিপণন ব্যবস্থায় মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য, অনুন্নত পরিবহণ ব্যবস্থা, পণ্য গুদামজাতকরণ ও সংরক্ষণের অভাব ইত্যাদি সমস্যা কৃষিপণ্যের সুষ্ঠু বিপণন করার ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে আছে। কৃষকদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে তার সমাধান সম্ভব নয়। একমাত্র সরকারের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধমেই কৃষিপণ্যের বিদ্যমান সমস্যাগুলো দূর করে কৃষির দ্রুত উন্নয়নের পথ প্রশস্ত করা সম্ভব। নিচে বাংলাদেশে কৃষিপণ্য বিপণনের সরকারি পদক্ষেপসমূহ আলোচনা করা হলো- বাফার স্টক: বাফার স্টকের মাধ্যমে কৃষিপণ্যের ঊর্ধ্বগতি এবং নিম্নগতি রোধ করা যায়। যখন কৃষিতে বাম্পার ফলন হয় তখন সরকার কৃষিপণ্য গ্রামাঞ্চল থেকে ক্রয় করে তা সংরক্ষণ করলে কৃষিপণ্যের দামের নিম্নগতি রোধ হয়। আবার যখন কৃষি উৎপাদন কম হয় তখন বাফার স্টকের পণ্য বাজারে ছাড়লে পণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতি রোধ পায়। এভাবে সরকার রফিকুল ইসলামের মতো কৃষকদের অবস্থার উন্নয়নে সহায়তা করতে পারে। গুদামঘর নির্মাণ: কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য গ্রামে গুদামঘর থাকা দরকার। কিন্তু গুদামঘর নির্মাণ করা কৃষকদের জন্য কঠিন। তাই সরকারি উদ্যোগে গুদামঘর নির্মাণের মাধ্যমে ফসল সংরক্ষণ করা সম্ভব। কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ: কিছু কৃষিশস্য সহজেই পচে যায় বা নষ্ট হয়ে যায়। যেমন- টমেটো, আলু, পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ, পান, আদা ইত্যাদি। সরকারি উদ্যোগে যদি এ সকল ফসল সংরক্ষণ করা যায় তবে কৃষকদের স্বার্থরক্ষা পাবে। ঋণদান: কৃষকদের দারিদ্র্যের কারণে তাদের নিজস্ব মূলধন নেই। তাই কৃষকরা ঋণ করে বা বাকিতে বীজ, সার, সেচ, কীটনাশক ইত্যাদি ক্রয় করে থাকে। কৃষকরা মূলধনের অভাবের কারণে সঠিক সময়ে ও প্রয়োজনমাফিক ফসল উৎপাদন করতে পারে না। তাই তারা গ্রাম্য মহাজনদের কাছে চড়া সুদে ঋণ গ্রহণ করতে বাধ্য হয়। এ সকল কৃষকের জন্য সরকারি ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি ও পদ্ধতি সহজ করা দরকার। যাতে স্বল্প সময়ে, বিনা সুদে, সহজ শর্তে কৃষকরা ঋণ পায়। তাহলে রফিকুল ইসলামের মতো কৃষকদের অবস্থার উন্নয়ন হবে বলে আশা করা যায়।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenRajshahi Board (2017)

রফিকুল ইসলাম একজন গরিব কৃষক। তিনি রুবেলের নিকট থেকে ঋণ নিয়ে তার জমিতে টমেটো চাষ করেন। টমেটোর ফলন খুব ভালো হয়েছে। প্রতি কেজি টমেটো উৎপাদন করতে তার খরচ হয় ১৫ টাকা। কিন্তু রুবেলের নিকট তিনি টমেটো প্রতি কেজি ১৬ টাকা দরে বিক্রি করতে বাধ্য হন। রুবেল সে টমেটো বাজারে প্রতি কেজি ২৫ টাকা ধরে বিক্রি করেন। রফিকুল ইসলামের মতো কৃষকদের অবস্থার উন্নয়নে সরকার গ্রামাঞ্চলে ক্রয়কেন্দ্র ও কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ এবং কৃষকদের বিনা সুদে ঋণদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

ক.

বাংলাদেশে কৃষির উপখাতসমূহ কী?

খ.

'বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি কৃষির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।'- ব্যাখ্যা করো।

গ.

রফিকুল ইসলামের সমস্যার প্রকৃতি বিশ্লেষণ করো।

ঘ.

রফিকুল ইসলামের মতো কৃষকদের অবস্থার উন্নয়নের গৃহীত সরকারি পদক্ষেপসমূহের যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।