ক.
যুক্তিবিদ্যার জনক হলেন গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল।
খ.
সত্যের আদর্শ বা মানদণ্ডের ভিত্তিতে নিজস্ব বিষয়বস্তু মূল্যায়ন করে বিধায় যুক্তিবিদ্যা আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান।
যে বিজ্ঞান কোনো আদর্শের ভিত্তিতে নিজস্ব বিষয়বস্তুর মূল্যায়ন করে তাকে আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান বলে। যুক্তিবিদ্যা সত্যের আদর্শের ভিত্তিতে বৈধ যুক্তি পদ্ধতির নিয়মাবলি আবিষ্কার করে এবং এই নিয়মাবলির আলোকে সেগুলোর মূল্য নিরূপণ করে। সুতরাং যুক্তিবিদ্যা সত্যের আদর্শের ভিত্তিতে বিষয়বস্তুর মূল্যায়ন করে । তাই যুক্তিবিদ্যা একটি আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান৷
গ.
উদ্দীপকে যুক্তিবিদ্যা সম্পর্কে পাঠ্য তাত্ত্বিক ও ব্যাবহারিক দিককে নির্দেশ করে। যুক্তিবিদ্যা তাত্ত্বিকভাবে বিভিন্ন নিয়ম-কানুন শিক্ষা দেয় এবং ঐ নিয়ম-কানুন গুলোকে বাস্তবে প্রয়োগ করে সত্য অর্জনের প্রচেষ্টা চালায় । যুক্তিবিদ্যাকে যুক্তিবিজ্ঞান বলে অভিহিত করা হয়। কেননা যুক্তিবিদ্যার প্রধান আলোচ্য বিষয় হলো যুক্তি । এসব যুক্তি কতকগুলো নিয়ম বা নীতি নির্ভর । যুক্তিবিদ্যায় সেসব নিয়ম প্রয়োগ করে বৈধ ও অবৈধ যুক্তির পার্থক্য করে এবং ভুল যুক্তিগুলোকে চিহ্নিত করে বর্জন করে। আবার, যুক্তিবিদ্যার তাত্ত্বিক দিক বাস্তবক্ষেত্রে প্রয়োগযোগ্য এবং চিন্তা ক্ষেত্রে সুষ্ঠুভাবে প্রয়োগের মাধ্যমে সত্যকে আবিষ্কার করতে সহায়তা করে। তাই যুক্তিবিদ্যার তাত্ত্বিক ও ব্যাবহারিক উভয় দিকই বিদ্যমান রয়েছে। "
উদ্দীপকে রিপন তার বক্তব্যে ডা. শিহাবকে খুব ভালো শৈল্য চিকিৎসক হিসেবে অভিহিত করে। আর রিনা তার বক্তব্যে ডা. শিহাবের তাত্ত্বিক ... ব্যাবহারিক উভয় দিকই সমৃদ্ধ বলে অভিহিত করেছে। এখানে উদ্দীপকে তাত্ত্বিক 'নিয়ম-কানুন ও বাস্তবক্ষেত্রে সেগুলোর প্রয়োগ নির্দেশিত হয়েছে। আর যুক্তিবিদ্যার দিক থেকে বিবেচনা করলে উদ্দীপকের মাধ্যমে যুক্তিবিদ্যার তাত্ত্বিক নিয়মকানুন ও বাস্তব ক্ষেত্রে সেগুলোর প্রয়োগ নির্দেশিত হয়েছে।
ঘ.
উদ্দীপকে পাঠ্যবইয়ে যুক্তিবিদ্যা নির্দেশ করে। যুক্তিবিদ্যার তাত্ত্বিক দিক যেমন রয়েছে তেমনি এটির বাস্তব ক্ষেত্রে প্রয়োগও রয়েছে।
যুক্তিবিদ্যাকে বৈধ ও অবৈধ যুক্তির পার্থক্যকরণের বিদ্যা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। অর্থাৎ, অবৈধ যুক্তি থেকে বৈধ যুক্তিকে পৃথক করার পদ্ধতি ও নীতিসমূহের একটি বিশেষ বিদ্যা হলো যুক্তিবিদ্যা। যুক্তিবিদ্যার প্রধান আলোচ্য বিষয় হলো যুক্তি। শুদ্ধযুক্তি প্রদান যুক্তিবিদ্যার লক্ষ্য। সঠিক যুক্তির জন্য যুক্তিবিদ্যা তাত্ত্বিকভাবে কিছু নিয়ম-কানুন প্রণয়ন করে। কোন কোন পন্থা অবলম্বন করলে ভুল যুক্তি পরিহার করে সঠিক যুক্তি প্রদান করা যায় নিয়মগুলো সে সম্পর্কে জ্ঞান দান করে। আবার, এই নিয়মগুলোর ভিত্তিতে সঠিক যুক্তি প্রদান করতে গেলে বাস্তবে এর ব্যবহার প্রয়োজন হয়। 'কেননা নিয়মগুলোর ব্যাবহারিক ক্ষেত্রে প্রয়োগই নিয়মগুলোর কার্যকারিতা এবং বৈধ ও অবৈধ যুক্তির পার্থক্যকরণ স্পষ্ট করে। তাই যুক্তিবিদ্যার যেমন তাত্ত্বিক ও ব্যাবহারিক উভয় ক্ষেত্রেই বিদ্যমান।
উদ্দীপকের রিপন ডা. শিহাবকে খুব ভালো শল্য চিকিৎসক হিসেবে উল্লেখ করেছে। আর রিপন ও ডা. শিহাবের তাত্ত্বিক ও ব্যাবহারিক দিক উভয়ই সমৃদ্ধ বলে বক্তব্য প্রদান করেছে। উদ্দীপকের মাধ্যমে যুক্তিবিদ্যার তাত্ত্বিক দিক ও ব্যাবহারিক দিকের নির্দেশ পাওয়া যায়। যুক্তিবিদ্যার তাত্ত্বিক ও ব্যাবহারিক দিক যুক্তি প্রদানের ক্ষেত্রে ছাড়াও বাস্তব জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যায়। যুক্তিবিদ্যার জ্ঞান যুক্তির আলোকে যুক্তিবিদ্যার বিভিন্ন বিষয় দেখার মানসিকতা তৈরি করে। এর ফলে আমরা কুসংস্কার থেকে মুক্ত হতে পারি। বিভিন্ন পেশায় সরাসরি যুক্তির ব্যবহার রয়েছে। যেমন— আইন, কূটনীতি ইত্যাদি। যুক্তিবিদ্যার জ্ঞান এক্ষেত্রে সঠিকভাবে দ্রুত যুক্তি প্রদানে সহায়তা করে ।
পরিশেষে বলা যায়, যুক্তিবিদ্যার চর্চা শুদ্ধ চিন্তার অভ্যাস সাধনে সহায়তা করে। এছাড়াও যুক্তিবিদ্যা আমাদের চিন্তার ক্ষেত্রকে প্রসারিত করতে ও জ্ঞানের প্রতি আগ্রহী হতে সহায়তা করে।