ক.
কোরিয়া যুদ্ধ সংঘটিত হয় ১৯৫০ সালে।
খ.
Warsaw জোট গঠনের মূল উদ্দেশ্য ছিল NATO এর বিপরীতে ইউরোপে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করা।
১৯৫৫ সালে পশ্চিম জার্মানির NATO-তে একীভূত হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়ার নেতৃত্বাধীন সমাজতান্ত্রিক দেশগুলো Warsaw চুক্তি স্বাক্ষর করে। মধ্য ও পূর্ব ইউরেপের ৮টি সমাজতান্ত্রিক দেশ এ সম্মিলিত প্রতিরক্ষা চুক্তির অংশ ছিল। NATO এর বিপরীতে এ জোট গঠনকে স্নায়ুযুদ্ধের অন্যতম মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
গ.
উদ্দীপকের রূপনগর গ্রামের সৈয়দ ও খান বংশের মধ্যে বিরাজমান অবস্থা স্নায়ুযুদ্ধের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
স্নায়ুযুদ্ধ এমন এক প্রকার যুদ্ধাবস্থাকে নির্দেশ করে যা প্রত্যক্ষ যুদ্ধও নয়, আবার শাস্তিও নয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন বিশ্বের দুই প্রধান পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়। আদর্শগতভাবে এ দুটি রাষ্ট্র ছিল সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছিল পুঁজিবাদী ব্যবস্থার সমর্থক এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন ছিল সমাজতান্ত্রিক আদর্শে বিশ্বাসী। নিজেদের আদর্শের শ্রেষ্ঠত্বের দাবি ও অন্যান্য দেশে তা ছড়িয়ে দেওয়া নিয়ে দেশ দুটির মধ্যে চরম দ্বন্দ্ব চলতে থাকে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে এ দুই পরাশক্তি পরস্পরের বিরোধিতা করতে থাকে। এর ফলে প্রায় প্রতি মুহূর্তে যুদ্ধের উত্তাপ ছড়ায়। কিন্তু বিপুলসংখ্যক বিধ্বংসী অস্ত্রের অধিকারী উভয় দেশই সযত্নে যুদ্ধ এড়িয়ে চলে। গত শতকের নব্বই দশকের শুরু পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে এরকম যুদ্ধ যুদ্ধ পরিস্থিতিকেই স্নায়ুযুদ্ধ বা Cold War বলে অভিহিত করা হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, রূপনগর গ্রামের সৈয়দ ও খান বংশ নিজ গ্রাম ও আশেপাশের গ্রামগুলো নিজেদের প্রভাববলয়ে নিয়ে আসার জন্য প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয় এবং নিজেদের মধ্যে শক্তি বৃদ্ধির প্রচেষ্টা চালাতে থাকে। ফলে এলাকার লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। উদ্দীপকের এ অবস্থার সাথে উপরে বর্ণিত স্নায়ুযুদ্ধের অবস্থা তুলনীয়। তাই বলা যায়, সৈয়দ ও খান বংশের মধ্যে বিরাজমান প্রতিযোগিতা স্নায়ুযুদ্ধের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ঘ.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে দুই পরাশক্তির উত্থান এবং তাদের মতাদর্শগত পার্থক্যের ফলেই উক্ত বিশ্ব পরিস্থিতি তথা স্নায়যুদ্ধের উদ্ভব হয়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে দুটি পরাশক্তির উত্থান ঘটে এবং পূর্বেকার পরাশক্তি ব্রিটেন ও ফ্রান্স যুদ্ধে জয়লাভ করলেও তাদের বিধ্বস্ত অর্থনীতির কারণে বিশ্বকে পূর্বের মতো নেতৃত্ব দেওয়ার অবস্থায় ছিল না। ১৯১৭ সালে রুশ সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের পথ ধরে সোভিয়েত ইউনিয়ন একটি সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হয় এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে মোকাবিলা করার মতো শক্তি অর্জন করে। দুটি দেশের আদর্শিক দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে ইউরোপের রাষ্ট্রগুলোও বিভক্ত হয়ে দুই শিবিরে যোগ দেয় কিন্তু উভয় দেশই সফরে যুদ্ধ এড়িয়ে চলে এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের এরূপ যুদ্ধ যুদ্ধ খেলাকেই স্নায়ুযুদ্ধ বা Cold war বলে অভিহিত করা হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পূর্বেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন আদর্শগত কারণে পরস্পরের প্রতিপক্ষে পরিণত হয়েছিল এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসিবাদের ব্যাপক প্রসারে উদ্বিগ্ন হয়ে মিত্রপক্ষের মার্কিন প্রেসিডেন্ট বুলডেন্ট এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল সব ৰিডেসকে দূরে ঠেলে সোভিয়েত ইউনিয়নকে মৈত্রী জোটে গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরপরই বুজভেল্টের মৃত্যু এবং উইনস্টন চার্চিল ক্ষমতাচ্যুত হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনে যথাক্রমে হ্যারি এস. টুম্যান ও এটলি ক্ষমতাসীন হন এবং এ দুজন পূর্বতন জন বিশ্ব নেতার চেয়ে অনেকটা অদূরদর্শী এবং অনেকটা অসহনশীল রাজনীতিবিদ ছিলেন। ফলে মিত্রপক্ষের বিশ্বনেতৃবৃন্দের মধ্যে বিশ্বযুদ্ধকালীন যে সমঝোতা ছিল তা বিনষ্ট হয় এবং রাশিয়ার পশ্চিম সীমান্ত পথে রাশিয়া বরাবরই জার্মানি দ্বারা আক্রান্ত হওয়ায় হুমকির মুখে ছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ কয়েক মাস সোভিয়েত ইউনিয়নের সামরিক বাহিনী মধ্য ও পূর্ব ইউরোপের সম্পূর্ণ অংশ দখল করে নেয় এবং রুশ বাহিনী পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোর কমিউনিস্ট দলগুলোকে সাহায্য করতে থাকে। তাই তারা নতুন প্রেসিডেন্ট ট্রুম্যানকে সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রতি কড়া নীতি প্রয়োগের জন্য প্ররোচিত করেন। এর ফলে রুশ-মার্কিন স্নায়ুযুদ্ধ তীব্র আকার ধারণ করে