ক.
'মানুষ প্রকৃতিগতভাবেই সামাজিক ও রাজনৈতিক জীব’— উক্তিটি গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটলের।
খ.
নাগরিক ও নাগরিক জীবনের সাথে জড়িত সব বিষয় আলোচনা করে বলে পৌরনীতিকে নাগরিক বিষয়ক বিজ্ঞান বলা হয়।
নাগরিক জীবনের সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্রিয়াকলাপ নিয়ে পৌরনীতি অনুশীলন চালায়। নাগরিকের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ জীবনের সাথে জড়িত ঘটনাবলি ও কার্যকলাপ এ শাস্ত্রে আলোচিত হয়। নাগরিক জীবনের ধর্মীয়, নৈতিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক তথা সার্বিক দিকের আলোচনা পৌরনীতির বিষয়বস্তু । তাই পৌরনীতিকে নাগরিক বিষয়ক বিজ্ঞান বলা হয়।
গ.
উদ্দীপকে রনি সুনাগরিক হওয়ার জন্য পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠ্যবিষয়টি বেছে নিয়েছে, যার বিষয়বস্তু ব্যাপক ও বিস্তৃত। উদ্দীপকে দেখা যায়, রনি একাদশ শ্রেণির মানবিক শাখার ছাত্র। সে দু'টি লক্ষ্যকে গুরুত্ব দিয়ে দু'টি বিষয় নির্বাচন করেছে। প্রথম লক্ষ্য হলো সুনাগরিক ও রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন বিষয়াদি জানা, যা পৌরনীতি ও সুশাসনের বিষয়বস্তুকে নির্দেশ করে। আর দ্বিতীয় লক্ষ্য হলো রাষ্ট্রীয় আয়-ব্যয় ও সম্পদের সুষম বণ্টন সম্পর্কে জানা, যা অর্থনীতির বিষয়বস্তুর অন্তর্ভুক্ত। উল্লিখিত দু'টি বিষয়ের মধ্যে পৌরনীতি ও সুশাসন সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার যাবতীয় দিক সম্পর্কে আলোচনা করে বিধায় রনি সুনাগরিক হওয়ার জন্য এ বিষয়টি বেছে নিয়েছে।
মানুষ যেসব প্রতিষ্ঠান, অভ্যাস ও কার্যাবলি এবং চেতনার মাধ্যমে সামাজিক দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করে, পৌরনীতি ও সুশাসন সেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। বিশ্বায়নের যুগে পৌরনীতি ও সুশাসনের আলোচনার পরিধি বিস্তৃত হচ্ছে। আগের মতো এর বিষয়বস্তু শুধু রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নেই, বরং নাগরিকের কল্যাণসংশ্লিষ্ট সবদিকে বিস্তৃত হয়েছে। সুনাগরিকের গুণাবলি এবং নাগরিকের দায়িত্ব ও কর্তব্য পৌরনীতি ও সুশাসনের গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়। পৌরনীতি ও সুশাসন রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গঠন, কার্যাবলি ও লক্ষ্য-উদ্দেশ্য নিয়ে আলোচনা করে। নাগরিকের অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ এবং স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দিক নিয়ে পৌরনীতি ও সুশাসন পর্যালোচনা করে। সর্বোপরি নাগরিকতা সংশ্লিষ্ট যাবতীয় বিষয় পৌরনীতি ও সুশাসনের বিষয়বস্তুর অন্তর্ভুক্ত।
ঘ.
উদ্দীপকে উল্লেখিত বিষয় দুটি অর্থাৎ পৌরনীতি ও সুশাসন এবং অর্থনীতি একে অপরের পরিপূরক- কথাটি যথার্থ।
পৌরনীতি ও সুশাসন এবং অর্থনীতি উভয়ই সামাজিক বিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ শাখা। পৌরনীতি ও সুশাসন নাগরিকের অধিকার, দায়িত্ব ও কর্তব্য, আচরণ প্রভৃতি বিষয় বিশ্লেষণ করে। আর অর্থনীতি নাগরিকের সুবিধার্থে বিভিন্ন অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। উভয়ের লক্ষ্য নাগরিকের কল্যাণ সাধন করা। তাই উভয়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান।
অর্থনীতির সাথে পৌরনীতি ও সুশাসন বিভিন্নভাবে সম্পর্কযুক্ত। প্রতিটি রাজনৈতিক সমস্যার যেমন অর্থনৈতিক দিক রয়েছে, তেমনি প্রতিটি অর্থনৈতিক সমস্যার রয়েছে রাজনৈতিক দিক। পৌরনীতি ও সুশাসন মূলত নাগরিককে অধিকার ও কর্তব্য সম্বন্ধে সচেতন করে। অন্যদিকে, অর্থনীতি মানুষের জীবনে অভাব ও চাহিদার মাঝে সামঞ্জস্য বিধান করে সুন্দর ও সুখী জীবনযাপনে সহায়তা করে থাকে। একটি দেশের রাজনৈতিক সংগঠনের স্থায়িত্ব ও সমৃদ্ধি সে দেশের অর্থনৈতিক সংগঠনের ওপর প্রভাব বিস্তার করে। আবার কোনো দেশের আর্থিক উন্নতি ও অবনতি সমানভাবে সে দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। অর্থনৈতিক পরিকল্পনার সুষ্ঠু বাস্তবায়ন করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন যোগ্য রাজনৈতিক নেতৃত্ব, দক্ষতা ও দূরদর্শিতা।
পরিশেষে বলা যায়, পৌরনীতি ও সুশাসন এবং অর্থনীতি উভয়ই মানবকল্যাণে কাজ করে । একটি ছাড়া অপরটি পরিপূর্ণতা লাভ করতে পারে না। তাই বলা যায়, পৌরনীতি ও সুশাসন এবং অর্থনীতি একে অপরের পরিপূরক।