(ক)
সাধারণত বিদেশ থেকে আমদানি করা হয় এমন পণ্য অন্য দেশ থেকে আমদানি না করে দেশে উৎপাদনের জন্য যে শিল্প গড়ে তোলা হয়, তাকে আমদানি বিকল্প শিল্প বলে।
(খ)
রপ্তানিমুখী শিল্পের উল্লেখযোগ্য দুটি বৈশিষ্ট্য নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. বিদেশের বাজারের জন্য উৎপাদন: রপ্তানিমুখী শিল্পে উৎপাদিত পণ্য মূলত বিদেশের বাজারে বিক্রির জন্য তৈরি করা হয়। এই শিল্পের লক্ষ্য থাকে আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা পূরণ করা, যার ফলে এই শিল্পের বাজার দেশীয় বাজারের তুলনায় অনেক বেশি বিস্তৃত হয়।
২. বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন: এই শিল্পের প্রধান উদ্দেশ্য হলো উৎপাদিত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা। এর ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি পায় এবং জাতীয় আয় বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
(গ)
উদ্দীপকে রনির উৎপাদনকে কুটির শিল্প বলা হয়।
কুটির শিল্প বলতে এমন এক ধরনের শিল্পকে বোঝায় যেখানে স্বল্প মূলধন বিনিয়োগ করা হয় এবং পরিবারের সদস্যসহ খুব অল্প সংখ্যক শ্রমিক (সাধারণত ১৫ জনের কম) নিয়োজিত থাকে। এই শিল্প সাধারণত ঘরোয়া পরিবেশে বা খুব অল্প জায়গায় পরিচালিত হয় এবং স্থানীয় কাঁচামাল ব্যবহার করা হয়।
উদ্দীপকের আলোকে দেখা যায়, রনি তার বাড়ি বন্ধক রেখে স্বল্প পুঁজি সংগ্রহ করে বাড়িতেই বাঁশ ও বেতের দ্বারা বিভিন্ন দ্রব্যসামগ্রী তৈরির কাজ শুরু করেছেন। এই কাজে তাকে পরিবারের সদস্যরা সাহায্য করছেন এবং তিনি স্থানীয় বাজারে উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করছেন। রনির এই উদ্যোগটি স্বল্প পুঁজি, পারিবারিক শ্রম এবং ঘরোয়া পরিবেশের বৈশিষ্ট্যের সাথে পুরোপুরি মিলে যায়।
সুতরাং, বলা যায় যে উদ্দীপকে রনির পরিচালিত শিল্পটি একটি কুটির শিল্প।
(ঘ)
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে উদ্দীপকে উল্লিখিত কুটির শিল্পের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিচে এর প্রভাব বিশ্লেষণ করা হলো:
প্রথমত, কর্মসংস্থান সৃষ্টি: কুটির শিল্প স্বল্প মূলধনে স্থাপন করা যায় বলে এটি দেশের বেকার জনগোষ্ঠীর, বিশেষ করে গ্রামীণ নারী ও স্বল্পশিক্ষিত মানুষের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে। উদ্দীপকে রনি ও তার পরিবারের সদস্যরা যেভাবে এই কাজে নিয়োজিত হয়েছেন, তেমনি দেশের লাখ লাখ মানুষ কুটির শিল্পের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হতে পারছেন।
দ্বিতীয়ত, দারিদ্র্য বিমোচন ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন: কুটির শিল্পের মাধ্যমে পরিবারের বাড়তি সদস্যরা আয় করার সুযোগ পান, যা পরিবারের সামগ্রিক আয় বৃদ্ধি করে। উদ্দীপকে দেখা যায়, ঋণ পরিশোধের পরেও রনির পরিবারের সচ্ছলতা ফিরে এসেছে। এভাবে কুটির শিল্প গ্রামীণ দারিদ্র্য বিমোচনে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
তৃতীয়ত, স্থানীয় কাঁচামালের ব্যবহার ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ: কুটির শিল্পে বাঁশ, বেত, মাটি বা পাটজাত পণ্যের মতো স্থানীয় সহজলভ্য কাঁচামাল ব্যবহৃত হয়। এর ফলে কাঁচামাল আমদানির প্রয়োজনীয়তা কমে এবং বাংলাদেশের লোকজ শিল্প ও ঐতিহ্যের সংরক্ষণ ও প্রসার ঘটে।
চতুর্থত, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন: কুটির শিল্পজাত পণ্যের যেমন নকশিকাঁথা, বাঁশ ও বেতের সামগ্রীর বিদেশে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এই পণ্যগুলো রপ্তানি করে বাংলাদেশ প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারে, যা জাতীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে।
পঞ্চমত, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন: বৃহৎ শিল্পের তুলনায় কুটির শিল্প পরিবেশের জন্য কম ক্ষতিকর এবং অনেক ক্ষেত্রে বৃহৎ শিল্পের পরিত্যক্ত উপজাত দ্রব্য এখানে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
পরিশেষে বলা যায়, স্বল্প বিনিয়োগে অধিক উৎপাদন এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে কুটির শিল্প বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নে এক অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।