ক.
স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বৈধ যৌনাচার, সন্তান উপাদন ও লালন-পালনের জন্য ধর্মের অনুমোদন এবং আইনের সমর্থনে যে চুক্তি হয় তাই বিবাহ।
খ.
মাতৃতান্ত্রিক বা মাতৃপ্রধান পরিবার সবচেয়ে প্রাচীন।
মাতৃতান্ত্রিক পরিবার বলতে বোঝায়, যে পরিবারের সামাজিক ব্যবস্থাপনায় এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্ব প্রদান এবং কর্তৃত্ব করার ভার স্ত্রী বা বয়স্ক মাহিলা ওপর ন্যস্ত থাকে। মাতৃতান্ত্রিক পরিবারে স্ত্রীলোকের অধিকার পুরুষ অপেক্ষা বেশি থাকে এবং নারীদের মাধ্যমে বংশ পরিচয় নির্ধারণ করা হয়। মাতৃতান্ত্রিক পরিবার আধুনিক বিশ্বে খুবই বিরল। তবে বাংলাদেশের গারো এবং দক্ষিণ ভারত, মালাবার প্রভৃতি স্থানে কতিপয় নির্দিষ্ট উপজাতির মধ্যে এ ধারনের পরিবার প্রথা বিদ্যমান।
গ.
উদ্দীপকের রীনার দাদা-দাদি রীনার পরিবারের শিশুর রক্ষণাবেক্ষণ এবং সামাজিকীকরণের কার্যাবলি পালন করেছেন।
মানব সমাজে পরিবারের কার্যাবলি বহুমাত্রিক। সন্তান প্রজনন থেকে শুরু করে লালন-পালন এবং তাদের সুষ্ঠু বিকাশে পরিবার গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলি সম্পাদন করে। সন্তানের রক্ষণাবেক্ষণ, সামাজিকীকরণ মূল্যবোধের শিক্ষার প্রাথমিক কেন্দ্রস্থল হচ্ছে পরিবার। সেই সাথে মা-বাবা, ভাই-বোন, দাদা-দাদি সবার সাথে থেকে নৈতিক শিক্ষা এবং পারিপার্শ্বিক পরিবেশ সম্পর্কে প্রাথমিক শিক্ষা পরিবার থেকেই অর্জন হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, রীনার, বাবা-মা চাকরিজীবী। কাজের প্রয়োজনে অধিকাংশ সময় বাইরে থাকেনী এদিকে রীনা তার ছোট ভাইকে নিয়ে স্কুল শেষে দাদা-দাদির সাথে বাসায় সময় কাটায়। অর্থাৎ মা-বাবার অনুপস্থিতিতে রীনার দাদা-দাদি রীনা এবং তার ছোট ভাইয়ের দেখাশোনা করেন। একই সাথে রীনা ও তার ভাইয়ের মানষিক বিকাশ সাধনে ভূমিকা রাখেন, যা উপরে আলোচিত পরিবারের রক্ষণাবেক্ষণ ও সামাজিকীকরণ কার্যাবলির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ.
রীনার দাদা-দাদির অবর্তমানে রীনাদের শারীরিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হতো বলে আমি মনে করি।
মানব সমাজে শিশুর প্রজনন থেকে শুরু করে শিশুর শারীরিক, মানসিক বিকাশ সাধনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রস্থল হচ্ছে পরিবার। পরিবার থেকে একটি শিশু নীতি-নৈতিকতা, মূল্যবোধ, আচার-ব্যবহার শিখে, সেই সাথে পরিবার শিশুর ভরণপোষণ, রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করে, যার মাধ্যমে মানব শিশুর শারীরিক ও মানুসিকভাবে বেড়ে ওঠে।
উদ্দীপকের রীনার বাবা-মা চাকরিজীবী হওয়ায় অধিকাংশ সময় বাইরে থাকেন। এমতাবস্থায়, যদি রীনার দাদা-দাদি রীনা এবং তার ছোট ভাইয়ের দেখাশোনা, সামাজিকীকরণের দায়িত্ব পালন না করতেন সেক্ষেত্রে রীনা এবং তার ছোট ভাইয়ের মনস্তাত্ত্বিক বিকাশ ঘটত না।
ফলে তারা মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ত, সঠিক সময়ে খাবার না। খাওয়া কিংবা বাসায় ঝুঁকিপূর্ণ বিভিন্ন কাজ করতে হতো, যার ফলে মারাত্মক দুর্ঘটনারও সম্ভাবনা থাকত। এছাড়া রীনা ও তার ভাইয়ের শারীরিক-মানসিক স্বাস্থ্য ভেঙে পড়ত। সামাজিকীকরণের অভাবে বিভিন্ন মন্দ কাজ কিংবা নেশায় জড়িয়ে পড়ত।
সর্বোপরি, উপযুক্ত আলোচনা এবং পাঠ্যবইয়ের আলোকে বলা যায়, উদ্দীপকের রীনার দাদা-দাদির অবর্তমানে রীনা ও তার ভাইয়ের শারীরিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিকাশে সমস্যা হতো।