Facebook Pixel

রিতা ও সালাম দুইজনই ইট ভাঙা শ্রমিক। তাদের কাজের ধরন এক হলেও দিন শেষে পারিশ্রমিকের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। রিতা সালামের থেকে ৫০ টাকা কম পায়। এতে করে তার কাজের প্রতি অনীহা সৃষ্টি হচ্ছে। ক. নৈতিকতা কী? খ. ইতিবাচক অর্থে লাস্কি প্রদত্ত স্বাধীনতার সংজ্ঞা দাও। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনার প্রেক্ষিতে রিতা কোন ধরনের সাম্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. "উল্লিখিত সাম্য ব্যতীত রাজনৈতিক ও সামাজিক সাম্য অর্থহীন”- বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ মূল্যবোধ, আইন, স্বাধীনতা ও সাম্য

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. সাধারণ অর্থে নৈতিকতা হলো নীতিমূলক, নীতি সম্বন্ধীয়। অর্থাৎ কথাবার্তা, আচার-আচরণে নীতির অনুসরণ করাই হলো নৈতিকতা। খ. ইতিবাচক অর্থে অধ্যাপক লাস্কি প্রদত্ত স্বাধীনতার সংজ্ঞায় বলেন, "By liberty, I mean the eager maintenance of that atmosphere in which men have the opportunity to be their best selves." (স্বাধীনতা বলতে আমি সে পরিবেশের সংরক্ষণকে বুঝি, যেখানে মানুষ তার ব্যক্তিত্বের পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটাতে পারে।) গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনার প্রেক্ষিতে রিতা অর্থনৈতিক সাম্য থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। অর্থনৈতিক সাম্য বলতে দক্ষতা ও যোগ্যতা অনুসারে আয় ও ধনসম্পদে প্রত্যেক ব্যক্তির সুযোগ-সুবিধা লাভের সমতাকে বোঝায়। অর্থাৎ যোগ্যতানুযায়ী সম্পদ ও সুযোগের সমতাই অর্থনৈতিক সাম্য। নারী-পুরুষ, ধনী-দরিদ্র, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে অর্থ উৎপাদন ও অর্থ বণ্টনের ক্ষেত্রে সকল প্রকার বৈষম্য দূর করে সকলকে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সমান সুযোগ প্রদান করলেই অর্থনৈতিক সাম্য নিশ্চিত হবে। এক্ষেত্রে নারী-পুরুষ, ধর্ম-বর্ণ-জাতি ইত্যাদির কারণে কোনো বৈষম্য করা যাবে না। উদ্দীপকের রিতা ও সালাম দুজনই ইট ভাঙা শ্রমিক। তাদের কাজের ধরন এক হলেও দিন শেষে পারিশ্রমিকের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। রিতা সালামের থেকে ৫০ টাকা কম পায়। এরূপ চিত্রে অর্থনৈতিক সাম্য প্রতিফলিত হয়। কেননা, এখানে রিতা ও সালাম একই কাজ করলেও শুধুমাত্র লিঙ্গ বৈষম্যের কারণেই মজুরি পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের রিতা অর্থনৈতিক সাম্য থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত সাম্য তথা অর্থনৈতিক সাম্য ছাড়া রাজনৈতিক ও সামাজিক সাম্য অর্থহীন- মন্তব্যটি যথার্থ। সাম্য প্রত্যয়টির ধারণা প্রথমে অর্থনৈতিক সাম্য থেকে শুরু হয়। পরবর্তীতে রাজনৈতিক, সামাজিকসহ অন্যান্য অর্থনৈতিক সাম্য রাষ্ট্রে ব্যক্তিকে তার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সুযোগ করে দেয়। তাই ব্যক্তির মর্যাদা তথা নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা না পেলে রাজনৈতিক ও সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। বর্তমান বিশ্বের জনপ্রিয় শাসনব্যবস্থা হলো গণতন্ত্র। আর এ গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো সাম্য। সমাজে রাজনৈতিক সাম্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গণতন্ত্রের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়ে ওঠে। আর এটি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন অর্থনৈতিক সাম্য। কারণ অর্থনৈতিক সাম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থায় আয় ও সম্পদের চরম বৈষম্য বিরাজ করে। ফলে সমাজে ধনী ও দরিদ্র দুই শ্রেণিতে বিভক্ত হয়ে পড়ে। ধনীরা আরও ধনী হয় আর গরিবরা মানবেতর জীবনযাপন করে। এমতাবস্থায় সমাজে ধনী ও দরিদ্রের পার্থক্য এতটাই প্রকট হয় যেখানে রাজনৈতিক, সামাজিকসহ অন্যান্য সাম্য তো দূরের কথা মানুষের ন্যূনতম অস্তিত্ব নিয়ে টানাপোড়েন বাঁধে। এরূপ পরিবেশে নাগরিক তার সামাজিক সাম্য যেমন শিক্ষা, রাজনৈতিক সাম্য যেমন গণভোটাধিকার এরূপ বিষয় চিন্তাই করতে পারে না। নাগরিক হিসেবে তারা তাদের অধিকারের কথা ভুলে যায়। আলোচনা থেকে তাই এটি স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, অর্থনৈতিক সাম্য প্রতিষ্ঠা ব্যতীত রাজনৈতিক সাম্য ও সামাজিক কামনা করা অর্থহীন।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

রিতা ও সালাম দুইজনই ইট ভাঙা শ্রমিক। তাদের কাজের ধরন এক হলেও দিন শেষে পারিশ্রমিকের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। রিতা সালামের থেকে ৫০ টাকা কম পায়। এতে করে তার কাজের প্রতি অনীহা সৃষ্টি হচ্ছে।

ক.

নৈতিকতা কী?

খ.

ইতিবাচক অর্থে লাস্কি প্রদত্ত স্বাধীনতার সংজ্ঞা দাও।

গ.

উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনার প্রেক্ষিতে রিতা কোন ধরনের সাম্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

"উল্লিখিত সাম্য ব্যতীত রাজনৈতিক ও সামাজিক সাম্য অর্থহীন”- বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।