ক.
বিশেষ বিশেষ দৃষ্টান্তের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে একটি সার্বিক সংশ্লেষক সিদ্ধান্ত অনুমানের প্রক্রিয়াকে আরোহ বলে।
খ.
কোনো আদর্শের ভিত্তিতে যে বিজ্ঞান নিজস্ব বিষয়বস্তুর মূল্যায়ন করে তাকে আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান বলে। যুক্তিবিদ্যা আদর্শের ভিত্তিতে নিজস্ব বিষয়বস্তুর মূল্যায়ন করে। যুক্তিবিদ্যার আদর্শ হলো ‘সত্যতা' । এই আদর্শ অনুযায়ী যুক্তিবিদ্যা বৈধ যুক্তির নিয়মাবলি আবিষ্কার করে এবং এই নিয়ামাবলির আলোকে সেগুলোর মূল্য নিরূপণ করে। মানুষ কীভাবে চিন্তা করে বা অনুমান করে সেটি যুক্তিবিদ্যার কাজ নয়। বরং কোন কোন নিয়ম অনুসরণ করলে ভুল বা মিথ্যা অনুমান বর্জন করে সত্য অনুমান গ্রহণ করা যায় তাই যুক্তিবিদ্যার কাজ। সুতরাং যুক্তিবিদ্যা যেহেতু সত্যতা আদর্শের ভিত্তিতে বিষয়বস্তুর মূল্যায়ন করে, তাই এটি আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান।
গ.
উদ্দীপকে রাতুলের বক্তব্য যুক্তিবিদ্যার বিজ্ঞানের দিককে নির্দেশ করে । নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-
প্রকৃতির একটি বিশেষ বিভাগ সম্বন্ধে সুনিশ্চিত ও সুশৃঙ্খল জ্ঞানকে বিজ্ঞান বলে।বিজ্ঞানীরা প্রকৃতিকে বিভিন্ন বিভাগে ভাগ করেছে। এক একটি বিজ্ঞান প্রকৃতির আলাদা আলাদা বিভাগ নিয়ে আলোচনা করে। প্রতিটি বিজ্ঞান তার নিজ নিজ বিভাগের গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকে পরীক্ষণ ও নিরীক্ষণের সাহায্যে কতকগুলো সাধারণ নিয়ম আবিষ্কার করে এবং ঐ নিয়মগুলোর সাহায্যে বিভাগীয় বিষয়াদি ও ঘটনাবলিকে ব্যাখ্যা দেবার চেষ্টা করে। অন্যান্য বিজ্ঞানের মতো যুক্তিবিদ্যা নিজস্ব বিষয়বস্তুকে ব্যাখ্যা করার জন্য কতকগুলো নিয়মকানুন প্রণয়ন করে। অর্থাৎ যুক্তিবিদ্যা অবৈধ যুক্তি থেকে বৈধ যুক্তির পার্থক্য নির্ধারণের জন্য কিছু নিয়ম নির্ধারণ করে। এছাড়া অন্যান্য বিজ্ঞানের আবিষ্কার ও উদ্ভাবন নিজস্ব নীতিমালার ওপর প্রতিষ্ঠিত।
তেমনি উদ্দীপকের রাতুল তার বক্তব্যে এমন একটি বিষয়ের কথা বলেছে, যেখানে বিষয়টির নির্ধারিত ও সুশৃঙ্খল আলোচ্য বিষয় রয়েছে এবং আলোচ্য বিষয় ব্যাখ্যার জন্য পর্যাপ্ত নিয়মকানুন রয়েছে। আর যুক্তিবিদ্যার নির্ধারিত আলোচ্য বিষয় আছে এবং আলোচ্য বিষয় ব্যাখ্যার জন্য নিজস্ব নীতিমালা ও রয়েছে। অর্থাৎ যুক্তিবিদ্যার মধ্যে বিজ্ঞানের বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান রয়েছে। তাই বলা যায় যুক্তিবিদ্যার মধ্যে বিজ্ঞানের সকল বৈশিষ্ট্য থাকায় রাতুলের বক্তব্যে যুক্তিবিদ্যার বিজ্ঞানের দিকটিই নির্দেশিত হয়েছে।
ঘ.
উদ্দীপকের রাতুলের বক্তব্যের মাধ্যমে যুক্তিবিদ্যার বিজ্ঞানের দিকটি নির্দেশিত হয়েছে। আর মামুনের বক্তব্যে যুক্তিবিদ্যার কলাবিদ্যার দিকটি নির্দেশিত হয়েছে।নিচে উদ্দীপকের রাতুল ও মামুনের বক্তব্য পঠিত বিষয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করা হলো-
অনেক যুক্তিবিদ যুক্তিবিদ্যাকে বিজ্ঞান হিসেবে অভিহিত করেছেন। কারণ চিন্তা সম্পর্কিত কতকগুলো নীতি ও নিয়মের নির্দেশ প্রদান করাই হলো যুক্তিবিদ্যার কাজ। অর্থাৎ বিজ্ঞানের মতো যুক্তিবিদ্যাও নিজস্ব বিষয়বস্তুকে ব্যাখ্যা করার জন্য কতকগুলো নিয়মকানুনের উল্লেখ করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের রাতুলের বক্তব্যে যুক্তিবিদ্যার বিজ্ঞানের দিকটি প্রকাশিত হয়। আর প্রত্যেক বিজ্ঞানের মতো যুক্তিবিদ্যার নিজস্ব নীতিমালা রয়েছে বলে যুক্তিবিদ্যা একটি বিজ্ঞান ।
অন্যদিকে অনেক যুক্তিবিদ ব্যাবহারিক দিক থেকে যুক্তিবিদ্যাকে কলা হিসেবে অভিহিত করেছেন । কারণ যুক্তিবিদ্যার প্রয়োগ বা ব্যাবহারিক দিক রয়েছে। কলা বিদ্যার মতো যুক্তিবিদ্যা যুক্তি পদ্ধতির নিয়মাবলিকে বাস্তবে প্রয়োগ ও ব্যবহার করার শিক্ষা দেয়। যুক্তিবিদ্যার কাজ হলো বাস্তব চিন্তার ক্ষেত্রে নিয়মাবলিকে প্রয়োগ করে সত্যকে অর্জন করা। তাই যুক্তিবিদ্যার কাজ হলো যুক্তির নিয়মাবলিকে ব্যাবহারিক ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা । তেমনি উদ্দীপকের মামুন তার বক্তব্যে কর্ম সম্পাদনের কলাকৌশলের বিষয়টি উল্লেখ করে। তাই মামুনের বক্তব্যে যুক্তিবিদ্যার কলাবিদ্যার দিকটি প্রকাশিত হয়েছে। আর যুক্তিবিদ্যা যেহেতু যুক্তির নিয়মাবলিকে সঠিকভাবে প্রয়োগের কলাকৌশলের জ্ঞান দান করে, তাই যুক্তিবিদ্যা হলো কলা ।
তাই উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলা যায় যে, উদ্দীপকের রাতুল ও মামুনের বক্তব্যে যথাক্রমে যুক্তিবিদ্যার বিজ্ঞান ও কলাবিদ্যার দিকটি প্রকাশিত হয়েছে।