ক.
যে অনুমানের সিদ্ধান্তটি সবসময়ই আশ্রয়বাক্যগুলো থেকে বেশি ব্যাপক তাকে আরোহ বলে ।
খ.
যুক্তিবিদ্যাকে আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান বলা হয়। কারণ এটা সত্যের আদর্শের ভিত্তিতে বিষয়বস্তুর মূল্যায়ন করে। আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান বলতে বোঝায়, যা সবসময় একটা আদর্শের ভিত্তিতে বিষয়বস্তুর মান নির্ধারণ করে। যুক্তিবিদ্যার এই আদর্শ হচ্ছে সত্যের আদর্শ। যুক্তিবিদ্যা সত্যের আদর্শের ভিত্তিতে বৈধ যুক্তিপদ্ধতির নিয়মাবলি আবিষ্কার করে এবং এ নিয়মাবলির আলোকে সেগুলোর মূল্য নিরূপণ করে। মানুষ কীভাবে চিন্তা করে বা অনুমান করে তা যুক্তিবিদ্যার কাজ নয় বরং কোন নিয়ম অনুসরণ করলে ভুল বা মিথ্যা বর্জন করে সত্যকে গ্রহণ করা যায় তা নির্ধারণ করাই যুক্তিবিদ্যার কাজ ।
সুতরাং যুক্তিবিদ্যা যেহেতু আদর্শের ভিত্তিতে বিষয়বস্তুর মূল্যায়ন করে সেহেতু এটা একটা আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান'।
গ.
উদ্দীপকে রাতুলের বক্তব্য যুক্তিবিদ্যার বিজ্ঞানবিষয়ক আলোচনা নির্দেশ করে ।
সাধারণত বিজ্ঞান বলতে প্রকৃতির কোনো বিষয়কে সুসংবদ্ধ ও সুশৃঙ্খলভাবে আয়ত্ত করাকে বোঝায়। বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিভাগ থাকতে পারে। তবে এর কিছু সাধারণ নিয়ম বা বৈশিষ্ট্য সকল ক্ষেত্রেই বিদ্যমান থাকে। যুক্তিবিদ্যা বিজ্ঞান এ কারণে যে এটা নির্ভুল চিন্তার নিয়মাবলির নির্দেশ প্রদান করে এবং বিশুদ্ধ চিন্তা কীভাবে করতে হয় তা তুলে ধরে। এছাড়া বিজ্ঞানের মতো এখানে সুশৃঙ্খল ও নির্ধারিত আলোচ্য বিষয় রয়েছে।
উদ্দীপকে রাতুল তার ছোট ভাই সোহানকে পরামর্শ দিয়ে বলল, পাঠ্যবিষয় হিসেবে এমন বিষয় নির্বাচন করবে যার রয়েছে সুশৃঙ্খল আলোচ্য বিষয় এবং এগুলো ব্যাখ্যার পর্যাপ্ত নিয়মকানুন। রাতুলের উক্ত বক্তব্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সে বিজ্ঞান বিষয়কে নির্দেশ করেছে। অর্থাৎ রাতুল তার ভাইকে বিষয় হিসেবে বিজ্ঞান বিভাগ গ্রহণ করার পরামর্শ দিয়েছে। কেননা একমাত্র বিজ্ঞানের মধ্যে রয়েছে সুশৃঙ্খল এবং সুসংবদ্ধ আলোচ্য বিষয় এবং আলোচ্য বিষয় বর্ণনার পর্যাপ্ত নিয়মকানুন । কারণ বিজ্ঞানের কতকগুলো বিভাগ রয়েছে, যেগুলো বর্ণনার জন্য সুনির্দিষ্ট নিয়মনীতি খুব প্রয়োজন ।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে রাতুলের বক্তব্য দ্বারা স্পষ্ট প্রমাণিত হয়, সে বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে কথা বলেছেন ।
ঘ.
উদ্দীপকে রাতুলের বক্তব্যটি বিজ্ঞান এবং মামুনের বক্তব্যটি কলাবিদ্যার সাথে সম্পর্কিত
রাতুল একটি সুশৃঙ্খল বিষয়ের কথা বলেছেন যার ব্যাখ্যার জন্য পর্যাপ্ত নিয়মনীতি থাকবে। এ বিষয়টি বিজ্ঞানকে নির্দেশ করে। বিজ্ঞান হলো কোনো সাধারণ নিয়মের ভিত্তিতে প্রকৃতির কোনো একটি বিশেষ বিষয়ের সুশৃঙ্খল নির্দিষ্ট রূপ। বিজ্ঞান বস্তুগত বা আকারগতভাবে গবেষণাযোগা । বিজ্ঞানের একটা সুনির্দিষ্ট বিষয়বস্তু থাকে। এই বিষয়বস্তু বস্তুনিষ্ঠ অথবা আকারগতভাবে গবেষণা করা যায়। বিজ্ঞানের আলোচনার পদ্ধতি অত্যন্ত সুশৃঙ্খল। অপরদিকে, মামুনের বক্তব্য কলাবিদ্যাকে নির্দেশ করে। সে সোহানকে বলে, এমন বিষয় গ্রহণ করবে যা কর্মসম্পাদনের কলাকৌশল শিক্ষা দেয় এবং তা বিজ্ঞান থেকে প্রাপ্ত জ্ঞানের ওপর নির্ভরশীল। কলাবিদ্যা এমন একটা বিষয় যা জ্ঞানকে সঠিকভাবে ব্যবহার বা প্রয়োগ করার রীতিনীতি শিক্ষা দেয়। কলাবিদ্যাকে কেউ কেউ দক্ষতা, পারদর্শিতা অর্থে গ্রহণ করেন। এক্ষেত্রে কলাবিদ্যা কোনোকিছু করার দক্ষতাকেই নির্দেশ করে। কলাবিদ্যাকে আবার কেউ কেউ কোনো বিশেষ জ্ঞানকে বাস্তবে প্রয়োগ করার কলাকৌশল হিসেবে গ্রহণ করে থাকে।
বিজ্ঞান ও কলা তাদের নিজস্ব প্রকৃতি নিয়ে অবস্থান করে। তারপরও তাদের মধ্যে 'একটা সমন্বয় আছে। বিজ্ঞান যে জ্ঞানের নির্দেশ দেয় তার থেকে ধারণা নিয়ে তাকে বাস্তবে প্রয়োগ করা হলে সেটা কলাবিদ্যা হয় । পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে রাতুলের বক্তব্য বিজ্ঞানকে এবং মামুনের বক্তব্য কলাকে নির্দেশ করে। মামুন তার বক্তব্যের মাধ্যমে দেখানোর চেষ্টা করে, আমরা বিজ্ঞান থেকে প্রাপ্ত জ্ঞানকে কলাবিদ্যা হিসেবে বাস্তবে প্রয়োগ করতে পারি।