ক.
সরকারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং জনগণের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে শাসনকার্য পরিচালনাই হচ্ছে সুশাসন।
খ.
ডিজিটাল পদ্ধতি বলতে এমন পদ্ধতিকে বোঝায় যেখানে বিভিন্ন কাজকর্মে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (যেমন- কম্পিউটার, ইন্টারনেট, মোবাইল ফোন ইত্যাদি) ব্যবহার করা হয়। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির আবেদন, রোগ নির্ণয়, বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন ও তার মান নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
গ.
বিশ্বব্যাংক প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যের সঙ্গে বাস্তবতার তুলনা করতে গেলে অনেক ক্ষেত্রে মিল পাওয়া যায় না।
বিশ্বব্যাংক প্রতিষ্ঠার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো- পৃথিবীর অনুন্নত দেশগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়নে সাহায্য করা এবং উন্নয়নশীল বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে নিজস্ব তহবিল থেকে ঋণদানের ব্যবস্থা করা। কিন্তু বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশসমূহের অর্থনৈতিক উন্নয়নের উদ্দেশ্যে বিশ্বব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হলেও বাস্তবতার সাথে এর কোনো মিল নেই। এর বর্তমান কর্মকাণ্ড লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সম্পূর্ণ বিপরীত।
বর্তমানে বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলো অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে গৃহীত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নে বিশ্বব্যাংকের ঋণ সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে নানারকম ষড়যন্ত্র ও হয়রানির শিকার হচ্ছে। যার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বাংলাদেশের পদ্মা সেতু প্রকল্প। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো পদ্মা সেতু প্রকল্পে স্বল্পসুদে ১২০ কোটি ডলার ঋণ সহায়তা দেওয়ার কথা ছিল বিশ্বব্যাংকের। কিন্তু দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে ২০১১ সালের ২৯ জুন সংস্থাটি পদ্মা সেতু প্রকল্পে তাদের ঋণচুক্তি বাতিল করে। নানা টানাপড়েনের পর শেষ পর্যন্ত ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ সরকার নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের সিন্ধান্ত নেয়। বিশ্ব ব্যাংক দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে পদ্মা সেতু প্রকল্প থেকে তাদের ঋণ প্রত্যাহার করে নিলেও ষড়যন্ত্রের কোন প্রমাণ দিতে পারে নি। এমনকি বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশন এবং কানাডার আদালতও দুর্নীতির কোনো প্রমাণ পায়নি। অথচ কোনো এক অদৃশ্য কারণে, অদৃশ্য কোনো স্বার্থে বিশ্বব্যাংক পদ্মাসেতু প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়ায়। কাজেই বলা যায়, বিশ্বব্যাংক প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যের সাথে তাদের বর্তমান বাস্তবতার কোনো সাদৃশ্য নেই। উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়নের পরিবর্তে আমেরিকাসহ উন্নত দেশসমূহের স্বার্থ রক্ষায় নিয়োজিত বিশ্বব্যাংক।
ঘ.
'যে উদ্দেশ্যে ১৯৪৪ সালে বিশ্বব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তা অর্জিত হয়নি'- উদ্দীপকে বর্ণিত সোহানের এ বক্তব্যটি যথার্থ।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৪ সালের জুলাই মাসে ব্রিটেন উডস সম্মেলনের মাধ্যমে 'বিশ্বব্যাংক' প্রতিষ্ঠিত হয়। বিশ্বব্যাংকের প্রধান উদ্দেশ্যেগুলো হলো- ১. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে সহায়তা করা। ২. পৃথিবীর অনুন্নত দেশসমূহের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সাহায্য করা। ৩. গ্যারান্টি প্রদানের মাধ্যমে কোনো দেশকে বেসরকারি ঋণ পেতে সাহায্য করা। এবং ৪. উন্নয়নশীল দেশে বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পসমূহে নিজস্ব তহবিল থেকে ঋণদানের ব্যবস্থা করা। কিন্তু বিশ্বব্যাংকের এ উদ্দেশ্যগুলো আজও অর্জিত হয়নি।
উদ্দীপকে সোহান বলেছে যে, ১৯৪৪ সালে যে উদ্দেশ্য বিশ্বব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তা অর্জিত হয়নি। সোহানের এ মন্তব্যটি সম্পূর্ণরূপে যৌক্তিক। কেননা বিশ্বব্যাংকের বেশির ভাগ মূলধন সরবরাহ করে আমেরিকা এবং ব্যাংকের যাবতীয় কর্মকান্ডে আমেরিকার প্রভাব স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়। তাই কেউ কেউ একে 'বিশ্বব্যাংক' না বলে বরং 'আমেরিকান ব্যাংক' বলে আখ্যায়িত করেন। ফলে বিশ্বব্যাংক কর্তৃক বিশ্বের অনুন্নত দেশসমূহের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহযোগিতার বিষয়টি আজ চরমভাবে অবহেলিত। বিশ্বব্যাপী উন্নয়নশীল ও দরিদ্র দেশগুলো চরম অর্থনৈতিক শোষণ ও বঞ্চনার শিকার। বিশ্বব্যাংক প্রধানত যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউরোপীয় দেশগুলোর পুনর্গঠনের কাজেই বেশি মনোযোগী। সাম্প্রতিককালে বিশ্বব্যাংকের ঋণপ্রদানের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দিক বিবেচনা না করে রাজনৈতিক স্বার্থকেই প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকার বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোকে অধিক ঋণ ও সহায়তা দেওয়া হয়। আবার বিশ্বব্যাংক স্বল্পসুদে দরিদ্র দেশগুলোকে ঋণ সহায়তা দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে এর সুদের হার অনেক বেশি। তাই ঋণের উচ্চ হারে সুদ পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে অনেক দেশ ঋণ থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নিচ্ছে। তাছাড়া উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রয়োজনের তুলনায় অতি সামান্য ঋণ সুবিধা দেওয়া হয়। ফলে এ ঋণ তাদের উন্নয়নে খুব বেশি কাজে লাগে না।
পরিশেষে বলা যায়, বিশ্বব্যাংক তাদের উদ্দেশ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে একথা সত্য। তবে বিশ্বব্যাংক যদি উন্নত রাষ্ট্রের তাবেদারি না করে উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজ করতো তাহলে সমগ্র বিশ্বের অর্থনৈতিক অবস্থা আরো শক্তিশালী হতো এবং
উন্নয়নশীল দেশগুলো অনেক বেশি উপকৃত হতো।