Facebook Pixel

রাজিব কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে শীতের ছুটিতে বেড়াতে গিয়ে অনুভব করল তার বাড়ি দিনাজপুরে তখন প্রচণ্ড শীত। কিন্তু সমুদ্র পাড়ে খুব বেশি ঠাণ্ডাও না আবার খুব বেশি গরমও না। রাজিব এও উপলব্ধি করল যে জলবায়ুর এই বৈচিত্র্যতা প্রাণী ও উদ্ভিদের উপর প্রভাব বিস্তার করে । ক. কাল বৈশাখী কাকে বলে ? খ. বৃষ্টিপাত সংঘটন প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত স্থান দুইটির মধ্যে যে কারণে জলবায়ুতে ভিন্নতা দেখা যায় তা ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত রাজিবের উপলব্ধির সাথে তুমি কি একমত ? তোমার মতামত উপস্থাপন কর।

বিষয়: ভূগোল ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৫ঃ জলবায়ুর উপাদান ও নিয়ামক

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. বাংলাদেশে বৈশাখ মাসে উত্তর - পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত ঝড়কে কালবৈশাখী ঝড় বলে । খ. সূর্যের উত্তাপে সৃষ্ট জলীয়বাষ্প উপরের শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এলে সহজেই তা সম্পৃক্ত হয়। পরে ঐ সম্পৃক্ত বায়ু অতি ক্ষুদ্র জলকণায় পরিণত হয়ে বায়ুমণ্ডলের ধূলিকণাকে আশ্রয় করে জমাট বেঁধে মেঘের আকারে আকাশে ভাসতে থাকে। বায়ুমণ্ডলের উষ্ণতা কোনো কারণে আরও হ্রাস পেলে ঐ মেঘ ঘনীভূত হয়ে পানিবিন্দুতে অথবা বরফকুচিতে পরিণত হয়। পরবর্তীতে মধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে তা ভূপৃষ্ঠে নেমে আসে। এভাবে বৃষ্টিপাত সংঘটিত হয়ে থাকে। গ. উদ্দীপকের স্থান দুটি কক্সবাজার ও দিনাজপুর। কক্সবাজার সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চল আর দিনাজপুর অঞ্চলটি সমুদ্র থেকে দূরে। অর্থাৎ এ দুটি স্থানের মধ্যে ভিন্নতা হলো সমুদ্র হতে দূরত্ব । সমুদ্রের নিকটবর্তী অঞ্চল সামুদ্রিক জলবায়ু দ্বারা প্রভাবিত হয়। সামুদ্রিক জলবায়ুর প্রভাবে উপকূলবর্তী স্থানে শীত ও গ্রীষ্মের প্রখরতা অনেক কম থাকে। যেমন — একই অক্ষরেখায় অবস্থিত স্থানসমূহের মধ্যে সমুদ্র হতে দূরবর্তী স্থানের জলবায়ু অপেক্ষাকৃত চরমভাবাপন্ন অর্থাৎ শীতকালে শীতের প্রচণ্ডতা এবং গ্রীষ্মে সৌরতাপের প্রখরতা অনুভূত হয়। অন্যদিকে সমুদ্র তীরবর্তী স্থানসমূহে জলবায়ু সমভাবাপন্ন , সমুদ্র হতে প্রবাহিত আর্দ্র বায়ু শীতকালে বায়ুকে উষ্ণ ও গরমকালে বায়ুকে শীতল করে। বাংলাদেশ সমুদ্র উপকূলে অবস্থিত হওয়ায় এখানে আবহাওয়া চরম হয় না অর্থাৎ শীত ও গ্রীষ্মের প্রখরতা অধিক নয়। কিন্তু আফগানিস্তান সমুদ্র হতে দূরে বলে সেখানকার জলবায়ু চরমভাবাপন্ন অর্থাৎ শীতকালে অধিক শীত এবং গ্রীষ্মকালে অধিক গরম অনুভূত হয়। মস্কো সমুদ্র হতে দূরে অর্থাৎ মহাদেশের অভ্যন্তরে অবস্থিত বলে সেখানে শীত ও গ্রীষ্মকালের তাপমাত্রার ব্যবধান প্রায় ১০ ° সেলসিয়াস। অথচ দক্ষিণ - পশ্চিম ইউরোপের উপকূলবর্তী দেশগুলোয় শীত ও গ্রীষ্মকালের তাপমাত্রার পার্থক্য ০ . ৭ ° সেলসিয়াস - এর অধিক নয় । সুতরাং বলা যায় , সমুদ্র থেকে দূরত্ব জলবায়ুর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক। আর এ কারণেই দিনাজপুর ও কক্সবাজারের মধ্যে জলবায়ুজনিত ভিন্নতা দেখা যায় । ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত রাজিবের উপলব্ধি হলো জলবায়ুর বৈচিত্র্যতা প্রাণী ও উদ্ভিদের উপর প্রভাববিস্তার করে । পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানের জলবায়ুর ভিন্নতার কারণে মানুষের জীবন - যাপন প্রণালিতে ও উদ্ভিদের বিস্তরণের ক্ষেত্রে তারতম্য হয়ে থাকে। অনুকূল জলবায়ু ও বিস্তীর্ণ কৃষি ভূমির কারণে মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলের লোক বসতি ঘন। কৃষিই অধিবাসীদের প্রধান উপজীবিকা। অধিবাসিগণ অলস প্রকৃতির এবং ভাগ্যের ওপর নির্ভরশীল। মৌসুমি জলবায়ুতে বেশি বৃষ্টির অঞ্চলে চিরহরিৎ বৃক্ষ , মাঝারি বৃষ্টি অঞ্চলে গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ আর কম বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চলে তৃণ জাতীয় উদ্ভিদ বেশি লক্ষ করা যায়। আবার ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলের লোক বসতি তত ঘন নয়। যদিও কৃষিই অধিবাসীদের প্রধান উপজীবিকা। তবে তা বাণিজ্যিক ও বাগিচা কৃষি। বর্তমানে শ্রম শিল্পের উন্নতির ফলে উপজীবিকায় কিছু পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। অধিবাসিগণ অপেক্ষাকৃত পরিশ্রমী। আর্দ্র বৃষ্টিবহুল শীতকাল এবং বৃষ্টিহীন দীর্ঘ গ্রীষ্মকাল বিরাজ করে বলে এ অঞ্চলে ছোট ছোট গাছ ও ঝোপঝাড় বেশি জন্মে এবং এগুলো শুষ্কতা মোকাবিলার ক্ষমতাসম্পন্ন । নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলে আরও দেখা যায় , এ অঞ্চলের অধিবাসীরা বিভিন্ন উপজীবিকায় নিয়োজিত। ঘন সন্নিবিষ্ট বনভূমি থাকায় বন্য ফলমূল আহরণ , জুম চাষ , পশু , পাখি শিকার ইত্যাদি তাদের প্রধান উপজীবিকা। তবে দক্ষিণ - পূর্ব এশিয়ার নিরক্ষীয় দেশসমূহ কৃষিকাজে উন্নতি লাভ করছে। সারাবছর ধরে প্রচুর বৃষ্টিপাত এবং অধিক তাপের জন্য এ অঞ্চলে প্রশস্ত পত্রযুক্ত চিরহরিৎ বৃক্ষের গভীর বনের সৃষ্ট হয়েছে। অতএব , উপরিউক্ত জলবায়ু অঞ্চল বিশ্লেষণ থেকে বোঝা যায় যে , অনিকের বাবার উক্তিটি যথার্থ

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

রাজিব কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে শীতের ছুটিতে বেড়াতে গিয়ে অনুভব করল তার বাড়ি দিনাজপুরে তখন প্রচণ্ড শীত। কিন্তু সমুদ্র পাড়ে খুব বেশি ঠাণ্ডাও না আবার খুব বেশি গরমও না। রাজিব এও উপলব্ধি করল যে জলবায়ুর এই বৈচিত্র্যতা প্রাণী ও উদ্ভিদের উপর প্রভাব বিস্তার করে ।

ক.

কাল বৈশাখী কাকে বলে ?

খ.

বৃষ্টিপাত সংঘটন প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা কর।

গ.

উদ্দীপকে উল্লিখিত স্থান দুইটির মধ্যে যে কারণে জলবায়ুতে ভিন্নতা দেখা যায় তা ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

উদ্দীপকে উল্লিখিত রাজিবের উপলব্ধির সাথে তুমি কি একমত? তোমার মতামত উপস্থাপন কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

'X' হচ্ছে বায়ুমণ্ডলীয় উপাদানের দৈনিক অবস্থা এবং 'Y' হচ্ছে বায়ুমণ্ডলীয় উপাদানের দীর্ঘদিনের গড় অবস্থা। আবার 'Y' এর বে...

ক. নিয়ত বায়ু কাকে বলে? খ. অশ্ম অক্ষাংশ বলতে কী বোঝ? গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত 'ক' শ্রেণির বৃষ্টিপাতের ধরন বর্ণনা কর। ঘ. উদ্দ...

ক. বায়ুর আর্দ্রতা কী? খ. Snow Eater বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর। গ. চিত্রে 'ক' চিহ্নিত অঞ্চলটিকে নিরক্ষীয় শান্তবলয় বলা হ...

ক. বায়ুর সাধারণ তাপহ্রাস হার কত? খ. আপেক্ষিক আর্দ্রতা বলতে কী বোঝায়? গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত ক-শ্রেণির বৃষ্টিপাত সংঘটনের প...

ক. ঘনীভবন কী? খ. ওজন স্তরের অবস্থান বর্ণনা কর। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত খ-বায়ুর বৈশিষ্ট্যসমূহ লেখ। ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত ক-ব...

ক. অয়ন বায়ুর সংজ্ঞা দাও। খ. কালবৈশাখী সৃষ্টির কারণ ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত 'ক' নিয়ামকের বর্ণনা দাও। ঘ. উদ্দী...

ক. কর্কটক্রান্তি রেখা কী? খ. 'গর্জনশীল চল্লিশ' কী? ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকের চিত্রটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দীপকের ...

ক. দক্ষিণ গোলার্ধের দীর্ঘতম দিন কোনটি? খ. তাপমাত্রার উৎক্রম বলতে কী বোঝ? গ. উদ্দীপকে ‘ক’ জলবায়ু তৈরি করে থা...

ক. অনিয়মিত বায়ু কাকে বলে? খ. ঘনীভবন কীভাবে হয়- বুঝিয়ে বল। গ. উদ্দীপকের 'ক' চিহ্নিত অঞ্চলের আবহাওয়া উপাদানের প্রকৃতি ব্য...

ক. বায়ুপ্রবাহ কাকে বলে? খ. জলবায়ুর ক্ষেত্রে সমুদ্র থেকে দূরত্বের সম্পর্ক ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত গোলযোগ ‘ক’...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।