ক.
অর্থনীতির জনক অ্যাডাম স্মিথ।
খ.
আইন হলো সামাজিক মানুষের কল্যাণে রাষ্ট্র কর্তৃক প্রণীত সমাজ স্বীকৃত এমন কিছু বিধিবিধানের সমষ্টি, যা রাষ্ট্রের সব নাগরিকের আচরণ নিয়ন্ত্রণ, স্বার্থ সংরক্ষণ ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। আইন পেশা আজকের বিশ্বে স্বীকৃত সেবাপ্রদানকারী পেশাগুলোর অন্যতম। আইন পেশার দার্শনিক ভিত্তি হলো সব মানুষের কল্যাণে মানব. আচরণ নিয়ন্ত্রণ, অধিকার রক্ষা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। যা সমাজকর্ম দর্শনের সাথে সম্পৃক্ত। তাই সমাজকর্মে আইন পেশার গুরুত্ব। অপরিসীম।
গ.
উদ্দীপকে উল্লিখিত রাজিব আহসানকে ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠা লাভ করতে অর্থনীতির জ্ঞান সহায়তা করেছে।
অর্থনীতির ইংরেজি প্রতিশব্দ Economics যা গ্রিক শব্দ 'Dikonomia (ওইকোনোমিয়া) থেকে এসেছে। এর অর্থ হলো গৃহপরিচালনা। কিন্তু সময়ের আবর্তনে অর্থনীতি শব্দটি শুধু অর্থ আর গৃহপরিচালনার মধ্যে আবদ্ধ নয়। আধুনিক সমাজব্যবস্থায় এর প্রভাব ও পরিধি সর্বক্ষেত্রে বিদ্যমান। বিভিন্ন অর্থনীতিবিদগণ অর্থনীতিকে বিভিন্নভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন। বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ অ্যাডাম স্মিথ (Adam Smith) তার 'An Inquiry into the Nature and Causes of the Wealth of Nations' গ্রে অর্থনীতির সংজ্ঞায় বলেন, "অর্থনীতি হলো এমন একটি বিষয় যা জাতিসমূহের সম্পদের প্রকৃতি এবং তার কারণ অনুসন্ধান করে।" ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এল রবিনস (Pro. L. Robbins) তার বিখ্যাত গ্রন্থ 'An Essay on the Nature and Sigificance of Economics Science' গ্রন্থে অর্থনীতির একটি প্রণিধানযোগ্য ধারণা প্রদান করেন। তাঁর মতে, "অর্থনীতি হলো এমন একটি বিজ্ঞান মা সীমাবদ্ধ সম্পদের বিকল্প ব্যবহার এবং অসীম অভাবের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনের দ্বারা মানবীয় আচরণকে বিশ্লেষণ করে।" (Economics is a science which studies human behaviour relationship ative uses). between ends and scarce means which hav have alternative uses). রবিনসের এ সংজ্ঞা থেকে তিনটি বিষয় অতান্ত সুস্পষ্টভাবে বেরিয়ে আসে। এগুলো হলো- ১. মানুষের অভাব অসীম, ২. সম্পদের যোগান সীমিত বা অপ্রতুল ও ৩. সীমিত সম্পদের বিকল্প ব্যবহার। সুতরাং তার সংজ্ঞায় অর্থনীতির বিষয়বস্তুর প্রায় পুরোটা এসে পড়ে। এজন্য বর্তমানে অধিকাংশ অর্থনীতিবিদ রবিনস এর প্রদত্ত সংজ্ঞাকেই গ্রহণযোগ্য সংজ্ঞা হিসেবে মনে করেন।
ক উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, সীমাহীন, অভাব অনুভবকারী বাক্তি ও সমাজ কীভাবে সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে অভাব পূরণের জন্য পছন্দমতো বণ্টন করে তা নিয়ে যে শাস্ত্র আলোচনা করে তাই হলো অর্থনীতি। অর্থনীতির অন্তর্ভুক্ত বিষয়ের মধ্যে মোট উৎপাদন, সম্পদের বণ্টন, জাতীয় উৎপাদন নির্ধারণ এবং এর পরিবর্তন, ভোগ, সঞ্চয় প্রভৃতি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
ঘ.
উদ্দীপকের ইঙ্গিতকৃত বিষয় হলো অর্থনীতি। উক্ত বিষয়ের সাথে সমাজকর্মের পারস্পরিক সম্পর্ক নিবিড়। অর্থনীতি বা অর্থশাস্ত্র সামাজিক বিজ্ঞানের এমন একটি শাখা যা সমাজস্থ মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড নিয়ে আলোচনা করে।
সামাজিক কল্যাণের যে অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অর্থের দ্বারা পরিমাপ করা যায় তার আলোচনাই অর্থনীতির মধ্য বিষয় হিসেবে বিবেচিত। সমাজকর্মও সীমিত সম্পদ ও সমাজের সদস্যদের নিজস্ব সম্পদের সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান ও প্রয়োজন পূরণের লক্ষ্যে কাজ করে। তাই সমাজকর্ম ও অর্থনীতি একে অপরের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত। সমাজকর্ম ও অর্থনীতি উভয়ের লক্ষ্য হলো সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে সমাজকর্ম সীমিত সম্পদের সদ্ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব প্রদান করে যাতে সমস্যার যথোপযুক্ত ও স্থায়ী সমাধান সম্ভব হয় অন্যদিকে অর্থনীতি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আনয়নের জন্য সম্পদের উপযুক্ত ব্যবহার ও বরাদ্দের ওপর আলোচনা করে। সমাজের একজন নাগরিক হিসেবে সুদ্ধ সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্য মৌল মানবিক চাহিদা পূরণকল্পে সমাজকর্ম ও অর্থনীতি উভয়ই বিশেষ প্রয়াস চালায়। যেহেতু সমাজকর্ম মানুষের সমস্যার সমাধানে প্রচেষ্টা চালায়, তাই এটি মৌলিক চাহিদা পূরণের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করে। এক্ষেত্রে সমাজকর্মে সম্পদ ও অর্থনীতির জ্ঞান বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সমাজকর্ম ও অর্থনীতি উভয়ই মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে কাজ করে থাকে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ প্রভৃতি বিষয়ে নানা কর্মসূচি পরিচালনার মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রা উন্নয়নে সমাজকর্ম যে প্রচেষ্টা চালায় অর্থনীতি ব্যক্তি ও সমন্টির দক্ষতা উন্নয়ন ও সম্পদ বৃদ্ধির মাধ্যমে তা অর্জনে সচেষ্ট থাকে। সমাজকর্ম ব্যক্তিকে তার নিজष সম্পদ ব্যবহারের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলে। |
অন্যদিকে অর্থনীতিও মানুষের সীমিত সম্পদের বিকল্প ব্যবহারের মাধ্যমে স্বাবলম্বিতা অর্জনে গুরুত্বারোপ করে থাকে। তাই দেখা যায় যে, সমাজকর্ম ও অর্থনীতি প্রাপ্ত বস্তুগত ও অবন্ধুগত সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার ও সুষম বণ্টনের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করে। সম্পদের সুষ্ঠু বণ্টনে অর্থনীতির জ্ঞান সমাজকর্মে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।