ক.
ইন্টারনেট হলো পৃথিবীজুড়ে বিস্তৃত অসংখ্য কম্পিউটারের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিরাট নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা।
খ.
G2C (Government to Citizens) দ্বারা সরকার থকে নাগরিক এর সম্পর্ককে বোঝানো হয়।
ই-গভর্নেন্সের প্রাথমিক উদ্দেশ্য হলো সরকারি সেবা ও কার্যক্রম জনগণের নিকট সহজলভ্য করা। এক্ষেত্রে G2C মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে সরকার ও নাগরিকদের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে ওঠে এবং নাগরিকগণ সরকারের ব্যাপকভিত্তিক তথ্য ও সেবায় সহজে প্রবেশ করতে পারে। G2C মিথস্ক্রিয়ার ফলে নাগরিকবান্ধব সরকারব্যবস্থা গড়ে ওঠে। এর ফলে একদিকে জনগণ সরকারি সেবার সুফল ভোগ করে এবং অন্যদিকে সরকারি সেবার গুণগত মান বৃদ্ধি পায়। নাগরিকগণ সরকারের নিকট থেকে যেসব সেবা পেয়ে থাকে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি সেবা হলো- অনলাইনে জন্ম ও মৃত্যুর নিবন্ধন, নাগরিকত্ব সনদ প্রদান, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সেবা, বিভিন্ন লাইসেন্স প্রদান ও নবায়ন, আয়করসংক্রান্ত সেবা, বিল প্রদান, চাকরিসংক্রান্ত তথ্য প্রদান, অনলাইনে বিভিন্ন পরীক্ষার ফরম পূরণ ও আবেদন, ভ্রমণ টিকিট প্রদান ইত্যাদি।
গ.
উদ্দীপকের রাফিন ই-গভর্নেন্স ব্যবস্থার সুফল ভোগ করছে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে সরকারি বিভিন্ন তথ্য ও সেবা জনগণের কাছে পৌছানোকেই ই-গভর্নেন্স বলে। বাংলাদেশেও ই-গভর্নেন্স ব্যবস্থা চালু হওয়ার ফলে জনগণ ঘরে বসেই বিভিন্ন সরকারি সেবা ভোগ করছে। ই- গভর্নেন্স তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের গতি বাড়িয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, সামাজিক নিরাপত্তা ইত্যাদি খাতে সরকার যে সেবা দিচ্ছে তা জনগণের কাছে পৌঁছানো সহজতর হচ্ছে। বর্তমানে পরীক্ষার ফল জানা, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ভর্তির ফরম পূরণ করা, ট্রেনের টিকিট কাটা, পাসপোর্টের আবেদন জমা দেওয়া, সরকারি চাকরির আবেদন করা, কর ও পরিসেবার বিল দেওয়া, টেন্ডার জমা দেওয়া এসব কাজ মানুষ সহজেই অনলাইনে করতে পারছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, রাফিন বিদেশে পড়াশোনার জন্য অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন, পরীক্ষা, ভর্তি ও সরকারি অনুমোদন নিয়ে ইতালিতে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করছে। সে মোবাইলেরে মাধ্যমে পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে। রাফিনের এ কাজগুলো সরাসরি ই-গভর্নেন্সের সাথে সম্পর্কিত এবং সে এ ব্যবস্থার মাধ্যমে বিভিন্ন সুবিধা ভোগ করছে। তাই বলা যায়, রাফিন ই-গভর্নেন্স ব্যবস্থার সুফল ভোগ করছে।
ঘ.
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত ব্যবস্থা হলো ই-গভর্নেন্স। উন্নয়নশীল দেশসমূহে ই-গভর্নেন্স প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে নানাবিধ প্রতিবন্ধকতা লক্ষ করা যায়।
উদ্দীপকে যেসব সুবিধার কথা বলা হয়েছে সেগুলো ই-গভর্নেন্স এর সুবিধা। এসব সুবিধা বাস্তবায়নে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। ই- গভর্নেন্স-এর বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা নিম্নরূপ—
ই-গভর্নেন্সবান্ধব অবকাঠামো অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ, যা তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর জন্য এক বিরাট চ্যালেঞ্জ।নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের সমস্যা ও স্বল্পমূল্যে বিদ্যুতের ব্যবহার না করতে পারা ই-গভর্নেন্স বাস্তবায়নের বিশেষ বাধা। উন্নয়নশীল দেশে ইন্টারনেট সেবার সর্বজনীনতা, উচ্চগতি ও স্বল্পমূল্য বিদ্যমান না থাকা ই-গভর্নেন্স বাস্তবায়নের আরেকটি অন্তরায়। ই-গভর্নেন্স প্রতিষ্ঠার জন্য ইংরেজি জ্ঞানসম্পন্ন ও প্রযুক্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ প্রয়োজন। কিন্তু উন্নয়নশীল দেশসমূহে বিদ্যমান শিক্ষা ব্যবস্থায় দক্ষ ও পর্যাপ্ত তথ্য-প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন মানবসম্পদের অভাব দেখা যায়। ই-গভর্নেন্স প্রতিষ্ঠার আরেকটি বাধা হলো সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আন্তঃযোগাযোগ ও সমন্বয়ের অভাব। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে সাইবার অপরাধের ঝুঁকি থাকায় অনেক মানুষ তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে নিরুৎসাহিত হয়। ই-গভর্নন্সে প্রতিষ্ঠার জন্য শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ থাকা অপরিহার্য। কিন্তু অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ ই-গভর্নেন্স প্রতিষ্ঠায় সরকার ও জনগণের আগ্রহ ও সক্ষমতা উভয়ই কমিয়ে দেয়। এছাড়া ই-গভর্নেন্স সম্পর্কে ইতিবাচক প্রচারণার যেমন অপ্রতুলতা রয়েছে, তেমনি জনগণও সুশাসন এবং ই-গভর্নেন্স বিষয়ে যথেষ্ট সচেতন নয়। পরিশেষে বলা যায়, ই-গভর্নেন্স একটি যুগোপযোগী যোগাযোগ ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে সরকার ও জনগণের সম্পর্ক দৃঢ় হয়। কিন্তু নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে উন্নয়নশীল দেশসমূহ ই-গভর্নেন্স প্রতিষ্ঠায় পিছিয়ে আছে। এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করার জন্য সরকার ও জনগণের সদিচ্ছা থাকা আবশ্যক । তাহলে ই-গভর্নেন্স বাস্তবায়ন অনেকাংশে সহজ হবে।