ক.
বংশগত গুণের ভিত্তিতে বিশেষ কোনো মানবগোষ্ঠীই হলো Caste বা বৰ্ণ ৷
খ.
সামাজিক স্তরবিন্যাস চিরন্তন ও সর্বজনীন 1
কোনো রকমের স্তরবিন্যাস নেই এমন সমাজ নেই। প্রাচীন যুগ, মধ্যযুগ বা আধুনিক যুগ—সবযুগেই স্তরবিন্যাস দেখা যায়। কী প্রাচ্য, কী পাশ্চাত্য সর্বদাই স্তরবিন্যাসের উপস্থিতি লক্ষণীয়। লিঙ্গ, বয়স, ক্ষমতা, আয়, পদমর্যাদা ইত্যাদির ভিত্তিতে সকল সমাজই স্তরায়িত। যেকোনো সরকারি বা বেসরকারি বড় ধরনের সংগঠনেও দেখা যায় স্তরবিন্যাস । এ কারণে স্তরবিন্যাস একটি সর্বজনীন বিষয় বলে বিবেচিত।
গ.
উদ্দীপকে সামাজিক স্তরবিন্যাসের জাতিবর্ণ প্রকরণের বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে।
সামাজিক স্তরবিন্যাসের একটি রূপ হলো জাতিবর্ণ ব্যবস্থা। জাতিবর্ণ বলতে বোঝায় অন্তর্গোত্র বিবাহভিত্তিক এমন এক গোষ্ঠী যার একটি সাধারণ নাম থাকে, যার সদস্যপদ জন্মসূত্রে লাভ করতে হয় এবং সদস্যদের সামাজিক মেলামেশার ক্ষেত্রে কতিপয় নিয়মনীতি মেনে চলতে হয়। এই প্ৰথায় কোনো ব্যক্তি যে জাতিবর্ণে জন্মগ্রহণ করে তাকে আজীবন সেই জাতিবর্ণের পরিচয়ই বহন করতে হয় । ঐতিহ্যগতভাবে জাতিবর্ণের জন্মগত পেশা পরিবর্তন করা সহজসাধ্য নয় । জাতিবর্ণ প্রথা স্থিতিশীল। জাতিবর্ণ প্রথার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, নিত্যদিনের জীবনযাত্রার ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধ মেনে চলতে হয় । কোনো বিশেষ জাতিবর্ণের সঙ্গে অন্য কোনো জাতিবর্ণের সামাজিক মেলামেশার ওপর বিধি-নিষেধ লক্ষ করা যায়।
উদ্দীপকের রাখালচন্দ্র একজন জেলে। বংশ পরম্পরায় তার পরিবার একই পেশায় কাজ করে আসছে। বিবাহ এবং অন্যান্য সামাজিক সম্পর্ক তাদের একই জাতিবর্ণের লোকজনের সঙ্গেই হয়। যা কিনা জাতিবৰ্ণ প্রথার বৈশিষ্ট্যকেই প্রতিফলিত করে। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে সামাজিক স্তরবিন্যাসের জাতিবর্ণ প্রকরণের বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে।
ঘ.
উদ্দীপকের শ্যামাপ্রসাদের আচরণে স্তরবিন্যাসের জাতিবর্ণ প্রথা নামক প্রকরণের বদ্ধ প্রকৃতির ( closed-system) দিকটি পরিলক্ষিত হয়- যা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে।
ভারতীয় জাতিবর্ণ প্রথায় ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র নামক চারটি বর্ণ রয়েছে। ব্রাহ্মণরা হলো শিক্ষক- যাজক, যারা সৃষ্টিকর্তার মস্তিষ্ক থেকে সৃষ্ট, এরা হলো সমাজের সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী। ক্ষত্রিয়রা হলো সমাজের যোদ্ধাশ্রেণি যারা সৃষ্টিকর্তার বাহু থেকে উদ্ভূত। যাবতীয় ব্যবসায়ী কাজকর্ম বৈশ্যদের দ্বারা সম্পাদিত হয়ে থাকে। আর সমাজের সবচেয়ে নিম্নশ্রেণির বর্ণ হলো শূদ্ররা।
সদস্যপদ জাতিবর্ণ প্ৰথা অনুযায়ী জাতিবর্ণের পেশা বংশানুক্রমিকভাবে আরোপিত হয় । অর্থাৎ কেউ চাইলেই তার জাতি ও পেশা পরিবর্তন করতে পারবে না। আবার জাতিবর্ণ প্রথা অনুযায়ী স্বজাতির গণ্ডীর মধ্যেই বৈবাহিক সম্পর্ক সীমাবদ্ধ থাকে। কেউ চাইলেই অন্য বর্ণের কারো সাথে বিবাহ করতে পারে না। প্রতিটি জাতিকেই নিজস্ব রীতিনীতি মেনে চলতে হয়। এ প্রথা অনুযায়ী বৰ্ণ, পেশা, কিছুই পরিবর্তন করা যায় না বলে একে closed system বলা হয়। কিন্তু বর্তমানে নগরায়ন, শিল্পায়ন ও উদারনৈতিক আধুনিক শিক্ষার প্রসারের সাথে সাথে জাতিবর্ণের ভিত দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং যেকোনো জাতিবর্ণের লোক যেকোনো পেশা গ্রহণ করতে সক্ষম হচ্ছে। বর্তমান আধুনিক বিশ্বে জাতিবর্ণের দৃঢ় রূপটি ক্রমশ তিরোহিত হচ্ছে। উদ্দীপকের শ্যামাপ্রসাদের ব্রাহ্মণের মেয়েকে পছন্দ ও বিয়ে করতে চাওয়া তারই বহিঃপ্রকাশ।
সুতরাং এটি স্পষ্ট যে, বর্তমান সময়ে জাতিবর্ণ প্রথার বদ্ধ দিকটির প্রভাব হ্রাস পাচ্ছে।