(ক) পর্যায় সারণির d-ব্লকভুক্ত যেসব মৌলের অন্তত একটি সুস্থিত আয়নের ইলেকট্রন বিন্যাসে d-অরবিটাল আংশিকভাবে পূর্ণ (অর্থাৎ $d^1$ থেকে $d^9$) থাকে, তাদের অবস্থান্তর মৌল বলে।
(খ) দ্রবণে অ্যামোনিয়াম ($NH_4^+$) আয়ন শনাক্তকরণের জন্য নেসলার বিকারক বা দ্রবণ (ক্ষারীয় পটাশিয়াম টেট্রাআয়োডোমারকিউরেট, $K_2[HgI_4]$) ব্যবহার করা হয়।
একটি পরীক্ষানলে ১-২ mL মূল দ্রবণের সাথে কয়েক ফোঁটা নেসলার দ্রবণ যোগ করে উত্তপ্ত করলে অ্যামিনো মারকিউরিক আয়োডাইডের লালচে বাদামি বর্ণের অধঃক্ষেপ পড়ে।
বিক্রিয়াটি নিম্নরূপ:
$$NH_4Cl + 2K_2[HgI_4] + 4KOH \rightarrow H_2N-Hg-O-Hg-I \downarrow + 7KI + KCl + 3H_2O$$
(এখানে উৎপন্ন $H_2N-Hg-O-Hg-I$ হলো লালচে বাদামি অধঃক্ষেপ)।

এই লালচে বাদামি অধঃক্ষেপের উপস্থিতি দ্বারা দ্রবণে $NH_4^+$ আয়নের উপস্থিতি নিশ্চিত করা যায়।
(গ) হেন্ডারসন-হেসেলবাখ সমীকরণ থেকে আমরা জানি:
$$
\text{pH} = \text{pK}_a + \log \frac{[\text{লবণ}]}{[\text{এসিড}]}
$$
উদ্দীপক অনুসারে:
রক্তের $\text{pH} = 7.4$
এসিড ও লবণের ঘনমাত্রার অনুপাত, $\frac{[\text{এসিড}]}{[\text{লবণ}]} = 0.05$
সুতরাং, লবণের ঘনমাত্রা ও এসিডের ঘনমাত্রার অনুপাত:
$$
\frac{[\text{লবণ}]}{[\text{এসিড}]} = \frac{1}{0.05} = 20
$$

এখন, হেন্ডারসন-হেসেলবাখ সমীকরণে মানগুলো বসিয়ে পাই:
$$
\begin{aligned}
7.4 &= \text{pK}_a + \log(20) \\
\Rightarrow\quad 7.4 &= \text{pK}_a + 1.301 \\
\Rightarrow\quad \text{pK}_a &= 7.4 - 1.301 \\
\Rightarrow\quad \text{pK}_a &= 6.099
\end{aligned}
$$
আমরা জানি, $\text{pK}_a = -\log K_a$। অতএব:
$$
\begin{aligned}
-\log K_a &= 6.099 \\
\Rightarrow\quad \log K_a &= -6.099 \\
\Rightarrow\quad K_a &= 10^{-6.099} \\
\Rightarrow\quad K_a &\approx 7.96 \times 10^{-7}
\end{aligned}
$$
সুতরাং, রক্তরসে বিদ্যমান এসিডটির $K_a$ এর মান $7.96 \times 10^{-7}$।
(ঘ) উদ্দীপকে উল্লিখিত রক্তের pH মান স্থির রাখার বিষয়টি রক্তের বাফার ক্রিয়ার সাথে সম্পর্কিত। রক্তে প্রধানত বাইকার্বনেট বাফার সিস্টেম ($H_2CO_3$ এবং $HCO_3^-$) সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। নিচে এর ক্রিয়াকৌশল বিশ্লেষণ করা হলো:
১. অম্ল বা এসিডের প্রভাব (লেবু জাতীয় ফল খাওয়ার ফলে):
লেবু বা অম্লজাতীয় খাবার গ্রহণের ফলে রক্তে অতিরিক্ত $H^+$ আয়ন প্রবেশ করে। এই অতিরিক্ত $H^+$ আয়ন রক্তের বাফার সিস্টেমের ক্ষারীয় উপাদান বাইকার্বনেট ($HCO_3^-$) আয়নের সাথে বিক্রিয়া করে মৃদু কার্বনিক এসিড ($H_2CO_3$) উৎপন্ন করে:
$$H^+ + HCO_3^- \rightarrow H_2CO_3$$
উৎপন্ন কার্বনিক এসিড পরবর্তীতে বিয়োজিত হয়ে পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন করে, যা ফুসফুসের মাধ্যমে নিঃশ্বাসের সাথে শরীর থেকে বের হয়ে যায়:
$$H_2CO_3 \rightarrow H_2O + CO_2 \uparrow$$
ফলে রক্তে $H^+$ আয়নের ঘনমাত্রা বৃদ্ধি পায় না এবং pH মান $7.4$ এ স্থির থাকে।
২. ক্ষারের প্রভাব (অম্লনাশক ঔষধ সেবনের ফলে):
ক্ষারধর্মী অম্লনাশক ঔষধ সেবনের ফলে রক্তে অতিরিক্ত $OH^-$ আয়ন প্রবেশ করে। এই অতিরিক্ত $OH^-$ আয়ন বাফার সিস্টেমের অম্লীয় উপাদান কার্বনিক এসিডের ($H_2CO_3$) সাথে বিক্রিয়া করে পানি ও বাইকার্বনেট আয়ন উৎপন্ন করে প্রশমিত হয়:
$$OH^- + H_2CO_3 \rightarrow HCO_3^- + H_2O$$
ফলে রক্তে $OH^-$ আয়নের ঘনমাত্রা বৃদ্ধি পায় না এবং রক্তের pH মান $7.4$ এ অপরিবর্তিত থাকে।
এভাবেই রক্তের বাফার সিস্টেমের কারণে বাইরে থেকে অম্ল বা ক্ষার প্রবেশ করলেও রক্তের pH মান স্থির থাকে।