(ক)
রাষ্ট্র কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত, পরিচালিত এবং নিয়ন্ত্রিত ব্যবসায়কে রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় বলে।
(খ)
রাষ্ট্রীয় ব্যবসায়ের মূল লক্ষ্য থাকে জনকল্যাণ এবং সম্পদের সুষম বণ্টন। তবে অনেক ক্ষেত্রে এই উদ্দেশ্যগুলো অর্জিত হয় না। এর প্রধান কারণগুলো হলো:
১. দক্ষ ব্যবস্থাপনার অভাব: রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় অনেক সময় পেশাদার ব্যবস্থাপকের পরিবর্তে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা প্রাধান্য পায়।
২. রাজনৈতিক প্রভাব ও স্বজনপ্রীতি: নিয়োগ এবং পরিচালনায় রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে অনেক সময় অযোগ্য ব্যক্তিরা গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হয়।
৩. দুর্নীতির বিস্তার ও অপচয়: কঠোর জবাবদিহিতার অভাব এবং নজরদারির ঘাটতির কারণে ব্যাপক দুর্নীতি ও সম্পদের অপচয় ঘটে।
৪. শ্রমিকদের উদাসীনতা: সরকারি চাকরির স্থায়িত্বের কারণে অনেক সময় শ্রমিক ও কর্মচারীদের মধ্যে কাজের প্রতি উদাসীনতা তৈরি হয়।
এই সকল কারণে রাষ্ট্রীয় ব্যবসায়ের উদ্দেশ্য প্রায়শই ব্যর্থ হয়।
(গ)
উদ্দীপকের বর্ণনা অনুযায়ী, রকিব উদ্দিন সাহেব বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সংস্থা (BRTC)-তে কর্মরত রয়েছেন।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সংস্থা হলো বাংলাদেশ সরকারের মালিকানাধীন একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, যা দেশের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, যাত্রী ও মালামাল পরিবহন এবং সড়ক পরিবহন নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে নিয়োজিত।
উদ্দীপকে দেখা যায়, রকিব উদ্দিন সাহেব যে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক, সেটি ঢাকা শহরসহ সারা বাংলাদেশের সড়ক যোগাযোগ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এবং যাত্রী ও মালামাল পরিবহনে অবদান রাখছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির ঢাকা ও গাজীপুরে দুটি ওয়ার্কশপ রয়েছে, যা সাধারণত বিআরটিসি-র মতো বড় রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থার বৈশিষ্ট্য।
সুতরাং, উদ্দীপকের তথ্যের আলোকে এটি স্পষ্ট যে, রকিব উদ্দিন সাহেব বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সংস্থায় কর্মরত রয়েছেন।
(ঘ)
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানটির (বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সংস্থা) সেবার মান সম্পর্কে আমি সন্তুষ্ট।
আমার সন্তুষ্টির সপক্ষে যুক্তিগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
১. জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ: উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি ঢাকা শহরে স্কুলের শিশুদের আনা-নেওয়ার জন্য বিশেষ সেবা প্রদান করছে। এটি একটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ, যা শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এবং অভিভাবকদের দুশ্চিন্তা দূর করে।
২. অবকাঠামোগত সক্ষমতা: ঢাকা ও গাজীপুরে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব ওয়ার্কশপ থাকা প্রমাণ করে যে, তারা যানবাহনের রক্ষণাবেক্ষণ এবং কারিগরি সক্ষমতার বিষয়ে সচেতন, যা সেবার মান বজায় রাখতে সাহায্য করে।
৩. ব্যাপক সেবার পরিধি: সারা দেশে যাত্রী ও মালামাল পরিবহনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
৪. রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা: রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন হওয়ায় এই প্রতিষ্ঠানের সেবার মান এবং নিরাপত্তা সাধারণত বেসরকারি খাতের তুলনায় অধিক নিয়ন্ত্রিত থাকে।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত সেবামূলক কার্যক্রম এবং অবকাঠামোগত সুবিধার কথা বিবেচনা করে আমি এই প্রতিষ্ঠানের সেবার মান সম্পর্কে সন্তুষ্ট।