ক.
কোনো যুক্তিবাক্যের একটি পদ তার সম্পূর্ণ ব্যক্ত্যর্থের প্রকাশিত রূপ বা অবস্থাকে বলে পদের ব্যাপ্যতা।
খ.
‘প্রতিটি মানুষই স্বার্থপর নয়'— এই বাক্যটির যুক্তিবাক্যে রূপান্তরিত রূপ হবে— 'কিছু মানুষ নয় স্বার্থপর'।
যুক্তিবাক্যের রূপান্তরের নিয়মানুযায়ী, যেসব বাক্যে সকল, প্রত্যেক, যেকোনো, প্রতিটি ইত্যাদি চিহ্ন থাকে এবং একই সাথে বাক্যের মধ্যে একটি না-বোধক চিহ্ন থাকে তাদের বিশেষ নঞর্থক বা O-যুক্তিবাক্য বলে গণ্য করতে হয়। প্রশ্নে উল্লেখিত, 'প্রতিটি মানুষ স্বার্থপর নয় ।' এই বাক্যটির যুক্তিবাক্যে রূপান্তরিত রূপ হলো O- 'কিছু মানুষ নয় স্বার্থপর'।
গ.
গ উদ্দীপকের রাকিবের বক্তব্যে A যুক্তিবাক্য নির্দেশিত হয়েছে। আর ব্যাপ্যতার নিয়মানুযায়ী A-যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য পদ ব্যাপ্য হয়।
যে যুক্তিবাক্যের বিধেয় পদটি উদ্দেশ্য পদের সমগ্র ব্যক্ত্যর্থ স্বীকার করে তাকে সার্বিক সদর্থক বা A-যুক্তিবাক্য বলে। A- যুক্তিবাক্য সার্বিক বলে উদ্দেশ্য পদ ব্যাপ্য এবং সদর্থক যুক্তিবাক্য বলে বিধেয় পদ অব্যাপ্য হয়।
উদ্দীপকের রাকিবের বক্তব্য হলো— 'সকল রাজনীতিবিদ হন দেশপ্রেমিক' । এ যুক্তিবাক্যের বিধেয় পদটি উদ্দেশ্য পদের সমগ্র ব্যক্ত্যর্থ স্বীকার করেছে। তাই রাকিবের বক্তব্য সার্বিক সদর্থক বা A-যুক্তিবাক্য। আর ব্যাপ্যতার নিয়মানুযায়ী A-যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য পদ ব্যাপ্য। তাই রাকিবের বক্তব্যের উদ্দেশ্য পদ (সকল রাজনীতিবিদ) ব্যাপ্য।
ঘ.
উদ্দীপকের রাসেল ও মুশফিকের বক্তব্যে যথাক্রমে সার্বিক নঞর্থক বা E-যুক্তিবাক্য এবং বিশেষ সদর্থক বা 1-যুক্তিবাক্য নির্দেশিত হয়েছে। আর ব্যাপ্যতার দিক থেকে এই দুই প্রকার যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য ও বিধেয় উভয় দিক থেকে পার্থক্য রয়েছে।
যে যুক্তিবাক্যের বিধেয় পদটি উদ্দেশ্য পদের সমগ্র ব্যক্ত্যর্থ অস্বীকার করে তাকে সার্বিক নঞর্থক বা E-যুক্তিবাক্য বলে । ব্যাপ্যতার নিয়মানুযায়ী E- যুক্তিবাক্য সার্বিক যুক্তিবাক্য বলে এর উদ্দেশ্য পদ ব্যাপ্য এবং নঞর্থক যুক্তিবাক্য হওয়ার কারণে বিধেয় পদ ব্যাপ্য। তাই 'E' যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য ও বিধেয় উভয় পদই ব্যাপ্য। উদ্দীপকের রাসেলের বক্তব্য হলো, “কোনো দুর্নীতিবাজ নয় দেশপ্রেমিক”— এই যুক্তিবাক্যের বিধেয় পদটি উদ্দেশ্য পদের সমগ্র ব্যক্ত্যর্থ অস্বীকার করেছে। তাই রাসেলের বক্তব্যের মাধ্যমে সার্বিক নঞর্থক বা E-যুক্তিবাক্য নির্দেশিত হয়েছে। আর ব্যাপ্যতার নিয়মানুযায়ী E-যুক্তিবাক্যের উভয় পদ ব্যাপ্য ।
অপরপক্ষে, যে যুক্তিবাক্যের বিধেয় পদটি উদ্দেশ্য পদের আংশিক ব্যক্ত্যর্থ স্বীকার করে তাকে বিশেষ সদর্থক বা I-যুক্তিবাক্য বলে। পদের ব্যাপ্যতার নিয়মানুযায়ী I-যুক্তিবাক্যের কোনো পদ ব্যাপ্য নয়। কারণ বিশেষ যুক্তিবাক্য হিসেবে উদ্দেশ্য পদ অব্যাপ্য এবং সদর্থক যুক্তিবাক্য হিসেবে বিধেয় পদ অব্যাপ্য হয়। উদ্দীপকের মুশফিকের বক্তব্য হলো— 'কিছু রাজনীতিবিদ হন 'দুর্নীতিরজ'। এই যুক্তিবাক্যের বিধেয় পদটি উদ্দেশ্য পদের আংশিক ব্যক্ত্যর্থ স্বীকার করেছে। তাই যুক্তিবাক্য 'I' নির্দেশিত হয়েছে। আর ব্যাপ্যতার নিয়মানুযায়ী I-যুক্তিবাক্যের কোনো পদ ব্যাপ্য নয়।
পরিশেষে বলা যায়, রাকিবের বক্তব্যের দ্বারা নির্দেশিত যুক্তিবাক্যের উভয় পদ ব্যাপ্য। আর মুশফিকের বক্তব্যের দ্বারা নির্দেশিত বাক্যের উভয় পদ অব্যাপ্য।