(ক)
BSCIC-এর পূর্ণরূপ হলো Bangladesh Small and Cottage Industries Corporation।
(খ)
এসএমই ফাউন্ডেশন হলো ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (SME) খাতের উন্নয়ন ও প্রসারের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ সরকারের একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান।
এই প্রতিষ্ঠানটি নতুন উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় ঋণ সহায়তা, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং ব্যবসায়িক দিকনির্দেশনা প্রদান করে। এর মূল লক্ষ্য হলো ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখা।
(গ)
উদ্দীপকের আলোকে মিতালী দত্ত জামানত ছাড়া গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ঋণ পেতে পারেন।
গ্রামীণ ব্যাংক হলো এমন একটি বিশেষায়িত ব্যাংক যা দরিদ্র, ভূমিহীন এবং জামানতবিহীন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করে থাকে। সাধারণত প্রচলিত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ঋণ পেতে হলে স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তির জামানত প্রয়োজন হয়, যা দরিদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু গ্রামীণ ব্যাংক জামানত ছাড়াই ক্ষুদ্র ঋণ প্রদানের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মিতালী দত্ত শুঁটকি তৈরির ব্যবসা করেন এবং ঋণের জন্য বিভিন্ন ব্যাংকে যোগাযোগ করলেও জামানত দিতে না পারায় ঋণ পাননি। যেহেতু গ্রামীণ ব্যাংক জামানত ছাড়াই ঋণ প্রদান করে, তাই মিতালী দত্ত এই ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তার ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করতে সক্ষম হয়েছেন।
(ঘ)
নারী উদ্যোক্তাদের উন্নয়নে গ্রামীণ ব্যাংকের মতো জামানতবিহীন ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের অবদান অপরিসীম। এর প্রভাবগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
প্রথমত, আর্থিক স্বাধীনতা: জামানতবিহীন ঋণের মাধ্যমে নারীরা পুঁজির অভাব কাটিয়ে নিজস্ব ব্যবসা শুরু করতে পারে, যা তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলে। উদ্দীপকের মিতালী দত্ত এই ঋণের মাধ্যমেই তার শুঁটকি ব্যবসার সম্প্রসারণ করতে পেরেছেন।
দ্বিতীয়ত, মহাজনি প্রভাব থেকে মুক্তি: দরিদ্র নারীরা সাধারণত উচ্চ সুদে মহাজনদের কাছ থেকে ঋণ নেয়, যা তাদের ঋণের জালে আবদ্ধ করে। জামানতবিহীন প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ তাদের এই শোষণ থেকে রক্ষা করে।
তৃতীয়ত, দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি: ঋণের মাধ্যমে ব্যবসা শুরু করে নারীরা ব্যবস্থাপনা ও নেতৃত্বের দক্ষতা অর্জন করে, যা তাদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি করে।
চতুর্থত, কর্মসংস্থান সৃষ্টি: একজন নারী উদ্যোক্তা যখন সফল হন, তখন তিনি আরও অনেক নারীর জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেন। মিতালী দত্তের সফলতা এলাকার অন্যান্য নারীদের উৎসাহিত করবে এবং তাদেরও উদ্যোক্তা হতে অনুপ্রাণিত করবে।
পরিশেষে বলা যায়, জামানতবিহীন ঋণ ব্যবস্থা নারী উদ্যোক্তাদের জন্য একটি শক্তিশালী হাতিয়ার, যা তাদের দারিদ্র্য বিমোচন এবং জাতীয় অর্থনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।