ক.
দেশের প্রচলিত আইনের প্রতিষ্ঠা এবং প্রয়োগের জন্য যে সংগঠনগুলো নিবেদিত প্রাণ তাদের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বলা হয়।
খ.
ধর্ম মানুষের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখে।
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী ইহকালের কাজের ফলাফল পরকালে ভোগ করতে হয়। এক্ষেত্রে মন্দ কাজের জন্য শাস্তি দেওয়া হবে এবং ভালো কাজের জন্য পুরস্কার দেওয়া হবে, এ বিশ্বাস মানুষকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখে।
গ.
উদ্দীপকে ধর্মের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
ধর্ম মানব সমাজের একটি প্রাচীন সামাজিক প্রতিষ্ঠান। ধর্ম বলতে অতি প্রাকৃত মহাশক্তিতে বিশ্বাসকে বোঝায়। এ বিশ্বাস সমাজ ও মানুষের জীবনধারাকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। এটি মানুষের মাঝে ন্যায়-অন্যায় বোধ জাগিয়ে তোলার মাধ্যমে মানুষকে ন্যায়নিষ্ঠ করে তোলে । ইহকালের কাজের ফলাফল পরকালে ভোগ করতে হয়, মৃত্যুর পর মানুষকে কৃতকর্ম অনুসারে স্বর্গ অথবা নরকে যেতে হয় এ ধরনের ধর্মীয় বিশ্বাস মানুষকে খারাপ কাজ ও পাপাচার থেকে বিরত রাখে। ধর্মীয় অনুশাসন ও মূল্যবোধের প্রভাবে মানুষ সহজে অন্যায় কাজে অংশগ্রহণ করে না।
উদ্দীপকের আলোকে, ধর্ম সামাজিক জীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। ধর্ম সমাজ সংস্কারে সাহায্য করে, সামাজিক কুপ্রথা ও কুসংস্কার দূর করে। জাতীয় ঐক্য, শৃঙ্খলা ও ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠা করে। ধর্মের এসব ভূমিকার পেছনে দায়ী ধর্মীয় মূল্যবোধ। ধর্মের প্রতি বিশ্বাস থেকেই সাধারণত এসব হয়ে থাকে যার ফলে সমাজের সর্বাধিক কল্যাণ সাধিত হয়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয় তথা ধর্মের অবদান সমাজকল্যাণের মূল চালিকাশক্তি।
ঘ.
উদ্দীপকে উল্লিখিত সর্বশেষ উক্তি “সমাজকল্যাণের মূল চালিকাশক্তি ধর্মীয় মূল্যবোধ”- উক্তিটি যথার্থ।
ধর্ম বলতে অতিপ্রাকৃত মহাশক্তিতে বিশ্বাসকে বোঝায়। ধর্মীয় অনুশাসন মানুষের আচার-আচরণ এবং সমাজ ব্যবস্থাকে বিশেষভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। ধর্মীয় বিশ্বাস মানুষের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সামাজিক সমস্যা প্রতিরোধ করে। ইহকালের কাজের ফলাফল পরলোকে ভোগ করতে হয়, এ ধরনের ধর্মীয় বিশ্বাস মানুষকে খারাপ কাজ ও পাপাচার থেকে বিরত রাখে। তাই সামাজিক অন্যায়, অনাচার নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ধর্মীয় বিশ্বাসের ভূমিকা ও প্রভাব যেকোনো ধরনের বিরোধ ও বিতর্কের ঊর্ধ্বে।
ধর্ম মানুষের নীতিবোধ ও নৈতিক শিক্ষার উৎস, যা মানুষের আত্ম-উন্নয়ন ঘটায়; যাতে মানুষ আত্মবিশ্বাসী হয়ে সকল প্রকার অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে পারে। এর মাধ্যমে তারা পবিত্র জীবনের আশায় নিজেদের ভালো কাজ করার প্রেরণা লাভ করে। যা সামাজিক সমস্যা দ্বন্দ্ব, সংঘাত, জঙ্গিবাদ, বাল্যবিবাহ, যৌতুক, অপরাধ প্রভৃতি প্রতিরোধে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
উপরের আলোচনা থেকে বোঝা যায়, সমাজের বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা সমাধান, সমাজের সর্বাধিক কল্যাণ ও সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠায় ধর্মের ভূমিকা অনস্বীকার্য। যা উদ্দীপকের শেষোক্ত বাক্য তথা। 'সমাজকল্যাণের মূল চালিকাশক্তি ধর্মীয় মূল্যবোধ' এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণতা এবং যথার্থতা প্রমাণ করে।