Facebook Pixel

যৌন প্রজননের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি জীবের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কোষ বিভাজনের মাধ্যমে এটি সম্ভব নয়। কিন্তু সব ধরনের কোষে এই বিভাজন হয় না। এই ধরনের বিভাজন জীবের অস্তিত্ব রক্ষায় বিশেষ ভূমিকা পালন করে এবং ‍গুণগত পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন পরিবেশে অভিযোজিত হওয়ার ক্ষমতা অর্জন করে। ক. সিন্যাপসিস (Synapsis) কী? খ. প্রান্তীয়করণ (Terminalization) বলতে কী বোঝ? গ. উদ্দীপকে বর্ণিত বিভাজনে কীভাবে জীবে নতুন বৈশিষ্ট্যের আবির্ভাব ঘটে? ঘ. ‘জীবকুলের অস্তিত্ব রক্ষায় এই বিভাজন বিশেষ ভূমিকা পালন করে।’- উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।

বিষয়: জীববিজ্ঞান ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০২ঃ কোষ বিভাজন

উৎস: অনুশীলনীর প্রশ্ন হাসান স্যার

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) মায়োসিস কোষ বিভাজনের প্রোফেজ-১ এর জাইগোটিন উপপর্যায়ে দুটি হোমোলোগাস ক্রোমোসোমের মধ্যে যে জোড় সৃষ্টি হয়, তাকে সিন্যাপসিস (Synapsis) বলে। (খ) মায়োসিস-১ এর ডিপ্লোটিন উপপর্যায়ে কায়াজমাটাগুলো স্পষ্ট হয়। এরপর ডায়াকাইনেসিস উপপর্যায়ে কায়াজমাটাগুলো ক্রোমোসোমের প্রান্তের দিকে সরে যেতে থাকে। কায়াজমাটার এই প্রান্তের দিকে সরে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে প্রান্তীয়করণ (Terminalization) বলে। (গ) উদ্দীপকে বর্ণিত বিভাজনটি হলো মায়োসিস কোষ বিভাজন। এই বিভাজনের মাধ্যমে জীবের নতুন বৈশিষ্ট্যের আবির্ভাব ঘটে মূলত ক্রসিং ওভারের কারণে। মায়োসিস বিভাজনের প্যাকাইটিন উপপর্যায়ে দুটি হোমোলোগাস ক্রোমোসোমের নন-সিস্টার ক্রোমাটিডগুলোর মধ্যে অংশের বিনিময় ঘটে, যাকে ক্রসিং ওভার বলে। এই প্রক্রিয়ায় জিনের পুনর্বিন্যাস ঘটে, ফলে উৎপন্ন জনন কোষে নতুন বৈশিষ্ট্যের সংমিশ্রণ তৈরি হয়। এই জনন কোষগুলো যখন যৌন প্রজননে অংশ নেয়, তখন নতুন বৈশিষ্ট্যের অধিকারী অপত্য জীবের উদ্ভব ঘটে। (ঘ) উদ্দীপকে উল্লিখিত বিভাজনটি হলো মায়োসিস, যা জীবকুলের অস্তিত্ব রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর গুরুত্ব নিচে ব্যাখ্যা করা হলো: ১. ক্রোমোসোম সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ: মায়োসিস বিভাজনের ফলে জনন কোষে ক্রোমোসোম সংখ্যা মাতৃকোষের অর্ধেক হয়ে যায়। এর ফলে যৌন প্রজননের সময় দুটি হ্যাপ্লয়েড জনন কোষের মিলনে সৃষ্ট জাইগোটের ক্রোমোসোম সংখ্যা নির্দিষ্ট থাকে। এটি না ঘটলে প্রতি প্রজন্মে ক্রোমোসোম সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যেত, যা জীবের স্বাভাবিক অস্তিত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ। ২. প্রকরণ সৃষ্টি ও অভিযোজন: ক্রসিং ওভারের মাধ্যমে জিনের নতুন বিন্যাস ঘটে, যা জীবের মধ্যে বৈচিত্র্য বা প্রকরণ সৃষ্টি করে। এই বৈচিত্র্যময় বৈশিষ্ট্যগুলো জীবকে পরিবর্তিত পরিবেশে টিকে থাকতে এবং অভিযোজিত হতে সাহায্য করে। ৩. বংশগতি ও বিবর্তন: মায়োসিস বংশগতির ধারা বজায় রাখে এবং প্রজাতির বিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পরিশেষে বলা যায়, মায়োসিস ছাড়া যৌন প্রজননক্ষম জীবের বংশবৃদ্ধি অসম্ভব এবং প্রজাতির অস্তিত্ব রক্ষা করা সম্ভব হতো না। তাই জীবকুলের অস্তিত্ব রক্ষায় এই বিভাজন অপরিহার্য।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Writtenঅনুশীলনীর প্রশ্ন - হাসান স্যার

যৌন প্রজননের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি জীবের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কোষ বিভাজনের মাধ্যমে এটি সম্ভব নয়। কিন্তু সব ধরনের কোষে এই বিভাজন হয় না। এই ধরনের বিভাজন জীবের অস্তিত্ব রক্ষায় বিশেষ ভূমিকা পালন করে এবং ‍গুণগত পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন পরিবেশে অভিযোজিত হওয়ার ক্ষমতা অর্জন করে।

ক. সিন্যাপসিস (Synapsis) কী?

খ. প্রান্তীয়করণ (Terminalization) বলতে কী বোঝ?

গ. উদ্দীপকে বর্ণিত বিভাজনে কীভাবে জীবে নতুন বৈশিষ্ট্যের আবির্ভাব ঘটে?

ঘ. ‘জীবকুলের অস্তিত্ব রক্ষায় এই বিভাজন বিশেষ ভূমিকা পালন করে।’- উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।