ক.
'The Division of Labour' গ্রন্থটির রচয়িতা ফরাসি সমাজবিজ্ঞানী এমিল ডুর্খেইম ।
খ.
সামাজিক স্তরবিন্যাস হলো চিরন্তন ও সর্বজনীন। মানবসভ্যতার ইতিহাসে এমন কোনো সমাজ খুঁজে পাওয়া যায় না, যা পরিপূর্ণভাবে সাম্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল।
আদিম অধিবাসীদের গোষ্ঠীজীবনেও দলপতির প্রভাব-প্রতিপত্তি প্রতিষ্ঠিত ছিল। এসব প্রভাব-প্রতিপত্তিকে কেন্দ্র করে কিছু সংখ্যক ব্যক্তি অধিকতর সুযোগ-সুবিধা ভোগ করত। কালের বিবর্তনের ধারায় সামাজিক স্তর বিন্যাসের আকৃতি-প্রকৃতির পরিবর্তন ঘটেছে। কিন্তু স্তরবিন্যাস কখনও বিলুপ্ত হয়নি। সকল সমাজেই এটি বিদ্যমান ।
গ.
উদ্দীপকে সামাজিক অসমতার বয়স বৈষম্যবাদ ধরনটি প্রতিফলিত হয়েছে।
বয়স বৈষম্যবাদ বলতে বয়সের কারণে কোনো বয়সগোষ্ঠী বা তার কোনো সদস্যদের প্রতি নেতিবাচক ধ্যান-ধারণা বা মনোভাব পোষণ ও তার সাথে বৈষম্যমূলক আচরণ করাকে বোঝায়। বয়স বিদ্বেষী ব্যক্তি বা সমাজ
প্রবীণকে জৈবিক ও সামাজিকভাবে অযোগ্য বলে মনে করে। আবার অনেক সময় বয়সে নবীনের প্রতিও এ ধরনের মনোভাব পোষণ করা হয়। তবে সাধারণত প্রবীণের প্রতিই বয়স বৈষম্যমূলক মনোভাব বেশি পরিলক্ষিত হয় । পৃথিবীর অধিকাংশ সমাজেই প্রবীণরা কম-বেশি বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার হন। আমেরিকান চিকিৎসক ও মনোবিজ্ঞানী রবার্ট বাটলার বলেন, “বয়স বৈষম্যবাদকে এমন একটি প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা হয় যার মাধ্যমে বয়সের কারণে প্রবীণের প্রতি বদ্ধমূল ধারণা পোষণ ও বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়।” যেমনটি উদ্দীপকের ঘটনায় প্রতিফলিত হয়েছে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, কাশেম মিয়া নিজের যৌবনে একজন নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে অনেক পরিশ্রমের কাজ করেছেন। কিন্তু পঞ্চাশের দোরগোড়ায় এসে শরীরে এখন আর তেমন জোর পান না। ফলে কেউ তাকে কাজে নিতে চান না । অর্থাৎ তিনি বয়সের প্রেক্ষিতে কাজ পাওয়ার ক্ষেত্র বৈষম্যের সম্মুখীন হয়েছেন। যা উপরে আলোচিত বয়স বৈষম্যবাদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ, তাই বলা যায়, উদ্দীপকে বয়স বৈষম্যবাদ ধারণাটি প্রতিফলিত হয়েছে।
ঘ.
উদ্দীপকের অবস্থা নিরসনে সামাজিক সেবা কর্মসূচি গ্রহণ করা যুক্তিসঙ্গত বলে আমি মনে করি ৷
সামাজিক সেবা হলো সামাজিক নিরাপত্তার সেই অংশ যেখানে সকল নাগরিকের জন্য প্রয়োজন মাফিক সেবা প্রদান করা হয়। যেমন- বেকার ভাতা, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, কল্যাণ তহবিল প্রভৃতি। এসব সেবা প্রদানের ফলে রাষ্ট্রে বসবাসকারী নাগরিকদের মধ্যে আর্থ-সামাজিক ভারসাম্য সৃষ্টি হয়। একজন সক্ষম নাগরিক নিজের ব্যয়ভার বহন করতে পারলেও অক্ষম বা বিপর্যস্ত নাগরিক তা পারেন না। তাদের জন্য এ ধরনের সামাজিক নিরাপত্তামূলক সেবা জীবনযাপনের অন্যতম পাথেয় হিসেবে কাজ করে। সর্বোপরি সামাজিক নিরাপত্তা অক্ষম ও বিপন্ন মানুষের মৌলিক চাহিদাসমূহ পূরণের মাধ্যমে একটি ন্যূনতম জীবনমান বজায় রাখতে সাহায্য করে। আর ব্যক্তি যখন ন্যূনতম জীবনমান বজায় রাখতে সক্ষম হয় তখন সমাজের আর্থ-সামাজিক উন্নতি গতি লাভ করে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, বয়সের ভারে শরীরে জোর না পাওয়ায় কাশেম মিয়া কোনো কাজ পান না। এ কারণে জীবিকার তাগিদে বাধ্য হয়ে তিনি বিভিন্ন বাস স্টপেজে ভিক্ষা করেন। তার সাথে বিভিন্ন বয়সের অন্য, পঙ্গু ও অসুস্থ ভিক্ষুকও ভিক্ষা করেন। উপরে আলোচিত সামাজিক সেবা কর্মসূচির মাধ্যমে এসকল অসহায় মানুষদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। কেননা সামাজিক সেবার আওতায় প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ বয়স্ক ভাতা বা পঙ্গু ভাতা পেলে তারা ভিক্ষা করার পরিবর্তে সম্মানে জীবনযাপন করতে পারবে।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, কার্যকর পরিকল্পনার মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় সামাজিক সেবা দানের মাধ্যমে উদ্দীপকের মতো পরিস্থিতি নিরসন করা সম্ভব ।