ক.
কোনো জানা বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে অজানা বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান লাভের মানসিক প্রক্রিয়াকে অনুমান বলে।
খ.
সিদ্ধান্তে আশ্রয়বাক্যের পুনরুক্তি হয় তাই অমাধ্যম অনুমানকে তথাকথিত অনুমান বলে।
যে অবরোহ অনুমানে একটিমাত্র আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্ত অনুমান করা হয় তাকে অমাধ্যম অনুমান বলে। এই বাক্যে একটি আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্ত অনুমান করা হয় বলে জানা থেকে অজানায় গমনের কোনো সুযোগ নেই। ফলে সিদ্ধান্ত নতুন কোনো তথ্য দিতে পারে না। অর্থাৎ সিদ্ধান্তে আশ্রয়বাক্যের পুনরুক্তি হয় মাত্র। এ কারণে বলা হয়, অমাধ্যম অনুমানকে তথাকথিত অনুমান বলা হয়।
গ.
উদ্দীপকে যুক্তি-২ এ অবরোহ অনুমানের মাধ্যম অনুমান রূপের প্রকাশ ঘটেছে ।নিচে এর বৈশিষ্ট্য লেখা হল:
মাধ্যম অনুমান বলতে বুঝায় যে অবরোহ অনুমানে যুক্তভাবে গৃহীত একাধিক আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্ত অনিবার্যভাবে টানা হয়। উদ্দীপকে উল্লিখিত যুক্তি-২ বলা হয়েছে , “সকল ফুল হয় সুন্দর, গোলাপ হয় ফুল । সুতরাং , গোলাপ হয় সুন্দর। এখানে একাধিক আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলে এটি মাধ্যম অনুমান ।মাধ্যম অনুমানে তিনটি পদ থাকে এবং তিনটি যুক্তিবাক্য থাকে। এ অনুমানের সিদ্ধান্তটি আশ্রয়বাক্য থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত। মাধ্যম অনুমানে আকারগত দিকের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এই অনুমান আমাদের জ্ঞানের প্রসারে সহায়তা করে। কারণ এর আশ্রয়বাক্য এমনভাবে গৃহীত হয় যার সিদ্ধান্তটি নতুন তথ্যসমৃদ্ধ হয়ে নিঃসৃত
ঘ.
উদ্দীপকে যুক্তি-১ হলো আরোহ ও যুক্তি-২ হলো অবরোহ। নিচে যুক্তি-১ ও যুক্তি-২ এর মধ্যে পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হল-
যুক্তি-১ এ বলা হয়েছে, বাতাবী লেবু হয় টক, কাগজি লেবু হয় টক, কমলা লেবু হয় টক, বোম্বাই লেবু হয় টক। সুতরাং , সকল লেবু হয় টক। এখানে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সার্বিক সংশ্লেষক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ কারণে এটি আরোহ অনুমান। আরোহ অনুমানের দৃষ্টান্তগুলো বিশেষ ধরনের এবং সিদ্ধান্ত সার্বিক হয়ে থাকে।
অন্যদিকে যুক্তি-২ এ উল্লিখিত, সকল ফুল হয় সুন্দর, গোলাপ হয় ফুল । সুতরাং গোলাপ হয় সুন্দর। এখানে সার্বিক আশ্রয়বাক্য থেকে বিশেষ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলে এটি অবরোহ অনুমান। এই অনুমানে এক বা একাধিক আশ্রয়বাক্য থেকে আশ্রয়বাক্যের কম ব্যাপক অথবা সমব্যাপক সিদ্ধান্ত অনিবার্যভাবে অনুমিত হয়। এখানে সিদ্ধান্ত আশ্রয়বাক্যের চেয়ে কম ব্যাপক বা সমব্যাপক হতে পারে কিন্তু কোনোভাবেই সিদ্ধান্ত আশ্রয়বাক্যের চেয়ে বেশি ব্যাপক হতে পারে না ।
যুক্তি-১ এ পরিলক্ষিত আরোহ অনুমানের লক্ষ্য আকারগত ও বস্তুগত উভয় সত্যতা অর্জন করা। কিন্তু যুক্তি-২ এ পরিলক্ষিত অবরোহ অনুমানের লক্ষ্য আকারগত সত্যতা অর্জন করা। অবরোহ অনুমানের সিদ্ধান্ত আশ্রয়বাক্য থেকে বেশি ব্যাপক হতে পারে না। কিন্তু আরোহ অনুমানের সিদ্ধান্ত সব সময়ই আশ্রয়বাক্য থেকে বেশি ব্যাপক হয়। এ কারণে যুক্তি-১ এ পরিলক্ষিত আরোহ অনুমানের দৃষ্টান্ত ঊর্ধ্বগামী হয়। কিন্তু যুক্তি-২ এ পরিলক্ষিত অবরোহ অনুমানের দৃষ্টান্ত নিম্নগামী হয় ।তাই বলা যায়, যুক্তি-১ ও যুক্তি-২ এর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।