ক.
নিরপেক্ষ সহানুমানের সিদ্ধান্তে যে পদটি বিধেয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তাকে প্রধান পদ বা সাধ্য পদ বলে।
খ.
নিরপেক্ষ সহানুমানের আশ্রয়বাক্য দুটিতে হেতু পদের অবস্থানের ভিত্তিতে সহানুমানের যে আকার বা রূপ নির্ধারিত হয়, তাকে সংস্থান বলে।
একটি সহানুমানে হেতু পদটি প্রধান ও অপ্রধান আশ্রয়বাক্যের কোথাও উদ্দেশ্য হিসেবে আবার কোথাও বিধেয় হিসেবে বসতে পারে। হেতু পদের এই সম্ভাব্য চার ধরনের অবস্থানের কারণেই সহানুমানের চারটি ভিন্ন ভিন্ন সংস্থান (প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ সংস্থান) পাওয়া যায়।
গ.
উদ্দীপকে যুক্তি-১ এ মিশ্র সহানুমানের 'প্রাকল্পিক নিরপেক্ষ সহানুমান' -কে নির্দেশ করা হয়েছে। আরও সুনির্দিষ্টভাবে এটি একটি 'গঠনমূলক বা স্বীকৃতিমূলক প্রাকল্পিক নিরপেক্ষ সহানুমান'।
যে মিশ্র সহানুমানের প্রধান আশ্রয়বাক্যটি প্রাকল্পিক যুক্তিবাক্য (যদি... তবে) এবং অপ্রধান আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্তটি নিরপেক্ষ যুক্তিবাক্য হয়, তাকে প্রাকল্পিক নিরপেক্ষ সহানুমান বলে। এর বৈধতার একটি অন্যতম নিয়ম হলো— অপ্রধান আশ্রয়বাক্যে প্রাকল্পিক বাক্যের পূর্বগকে (শর্ত অংশ) স্বীকার করে সিদ্ধান্তে অনুগকে (ফলাফল অংশ) স্বীকার করতে হয়।
উদ্দীপকের যুক্তি-১ এর প্রধান আশ্রয়বাক্য "যদি তুমি পড় তবে পাস করবে" একটি প্রাকল্পিক বাক্য। এর পূর্বগ হলো 'তুমি পড়' এবং অনুগ হলো 'পাস করবে'। এখানে অপ্রধান আশ্রয়বাক্যে পূর্বগকে ('তুমি পড়েছ') স্বীকার করা হয়েছে এবং তার ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে অনুগকে ('তুমি পাস করেছ') স্বীকার করা হয়েছে। যেহেতু এটি নিয়ম মেনে পূর্বগকে স্বীকার করার মাধ্যমে অনুগকে স্বীকার করেছে, তাই এটি একটি বৈধ গঠনমূলক প্রাকল্পিক নিরপেক্ষ সহানুমান।
ঘ.
উদ্দীপকের যুক্তি-২ একটি অবৈধ নিরপেক্ষ সহানুমান। কারণ এখানে সহানুমানের নিয়ম লঙ্ঘিত হওয়ায় 'অব্যাপ্য হেতুপদ জনিত অনুপপত্তি' ($\text{Fallacy of Undistributed Middle}$) ঘটেছে। নিচে এর বৈধতা বিচার করা হলো:
নিরপেক্ষ সহানুমানের একটি অন্যতম প্রধান নিয়ম হলো— আশ্রয়বাক্য দুটিতে হেতু পদকে ($\text{Middle Term}$) অন্তত একবার অবশ্যই ব্যাপ্য হতে হবে।
যুক্তি-২ এর যৌক্তিক আকারটি হলো:
প্রধান আশ্রয়বাক্য: সকল দার্শনিক হয় সত্যবাদী ('$\text{A}$' বাক্য)
অপ্রধান আশ্রয়বাক্য: সকল সাহসী ব্যক্তি হয় সত্যবাদী ('$\text{A}$' বাক্য)
$\therefore$ সিদ্ধান্ত: সকল সাহসী ব্যক্তি হয় দার্শনিক ('$\text{A}$' বাক্য)
এখানে 'সত্যবাদী' হলো হেতু পদ, যা উভয় আশ্রয়বাক্যেই উপস্থিত আছে কিন্তু সিদ্ধান্তে নেই। যুক্তিবিদ্যার ব্যাপ্তির নিয়ম অনুযায়ী, সার্বিক সদর্থক বা '$\text{A}$' যুক্তিবাক্য কেবল তার উদ্দেশ্য পদকে ব্যাপ্য করে, বিধেয় পদকে অব্যাপ্য রাখে।
যুক্তি-২ এর উভয় আশ্রয়বাক্যই '$\text{A}$' বাক্য এবং লক্ষ্য করলে দেখা যায়, হেতু পদ 'সত্যবাদী' উভয় আশ্রয়বাক্যেই বিধেয়ের স্থানে বসেছে। এর ফলে হেতু পদটি প্রধান বা অপ্রধান কোনো আশ্রয়বাক্যেই একবারও ব্যাপ্য হতে পারেনি (অর্থাৎ এর সম্পূর্ণ ব্যক্ত্যর্থকে প্রকাশ করা হয়নি)।
পরিশেষে বলা যায়, যেহেতু সহানুমানটির হেতু পদ উভয় আশ্রয়বাক্যের কোথাও একবারও ব্যাপ্য হয়নি, তাই এটি সহানুমানের আবশ্যিক নিয়ম (হেতু পদকে অন্তত একবার ব্যাপ্য হতে হবে) লঙ্ঘন করেছে। ফলে যুক্তিটি সম্পূর্ণ অবৈধ।