ক.
যে অমাধ্যম অবরোহ অনুমানে গুণের পরিবর্তন না করে আশ্রয়বাক্যের উদ্দেশ্য ও বিধেয় পদকে ন্যায়সঙ্গতভাবে স্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত অনুমিত হয় অকে আবর্তন বলে ।
খ.
কোনো সহানুমানের প্রধান পদটি প্রধান আশ্রয়বাক্যে ব্যাপ্য না হয়ে সিদ্ধান্তে ব্যাপ্য হলে অবৈধ প্রধান পদজনিত অনুপপত্তি ঘটে। যেমন-
সকল ডাকাত হয় মানুষ,
কোনো ডাক্তার নয় ডাকাত,
অতএব, কোনো ডাক্তার নয় মানুষ।
এই উদাহরণে প্রধানপদ 'মানুষ', প্রধান আশ্রয়বাক্যে A- যুক্তিবাক্যের বিধেয় হিসেবে অব্যাপ্য । কিন্তু সিদ্ধান্তে 'মানুষ' পদটি E -যুক্তিবাক্যের বিধেয় হওয়ায় ব্যাপ্য হয়ে গেছে । তাই এখানে অবৈধ প্রধান পদজনিত অনুপপত্তি ঘটেছে।
গ.
যুক্তি-১ এ সার্বিক নঞর্থক বা E-যুক্তিবাক্যের সরল আবর্তনকে নির্দেশ করেছে।
সরল আবর্তনে আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্তের পরিমাণ একই থাকে। এই প্রকার আবর্তনে যদি আশ্রয়বাক্য সার্বিক হয় তাহলে সিদ্ধান্তও সার্বিক হবে। যেমন-
E-কোনো মানুষ নয় দেবতা (আৰ্তনীয়)
অতএব, E-কোনো দেবতা নয় মানুষ (আবর্তিত)
এখানে E-যুক্তিবাক্যের সরল আবর্তন করা হয়েছে। সরল আবর্তনের নিয়ম অনুযায়ী আশ্ৰয়বাক্য ও সিদ্ধান্তের পরিমাণ একই হয়েছে।
যুক্তি-১ এ বলা হয়েছে,
“কোনো মানুষ নয় দেবতা ।
∴কোনো দেবতা নয় মানুষ।”
এখানে আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্ত উভয়ই E-যুক্তিবাক্য । অর্থাৎ এদের পরিমাণ একই। আর আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্তের পরিমাণ এক বলে এটি সরল আবর্তনের দৃষ্টান্ত ।
ঘ.
যুক্তি-২ এ ব্যাপ্যতার নিয়ম লঙ্ঘনজনিত অনুপপত্তি ঘটেছে। নিচে আবর্তনের নিয়মানুসারে বিষয়টি বিশ্লেষণ করা হলো-
যুক্তি-২ এ বর্ণিত, 'সকল দোয়েল হয় পাখি। অতএব, সকল পাখি হয় দোয়েল।' এটি A যুক্তিবাক্য বা সার্বিক সদর্থক যুক্তিবাক্য। আবর্তনের নিয়মানুসারে সদর্থক যুক্তিবাক্য হিসেবে A-বাক্যের আবর্তন করতে হবে সদর্থক যুক্তিবাক্যে। কিন্তু A যুক্তিবাক্যের আবর্তন A- যুক্তিবাক্যে করা যাবে না। কারণ সেক্ষেত্রে ব্যাপ্যতা সংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘিত হবে। কেননা, A যুক্তিবাক্যের বিধেয় পদ হয় অব্যাপ্য। কিন্তু আশ্রয়বাক্যের অব্যাপ্য বিধেয় পদ যখন সিদ্ধান্তে অন্য একটি A যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য পদ হয় তখন তা হবে ব্যাপ্য। এক্ষেত্রে আশ্রয়বাক্যের অব্যাপ্য পদ সিদ্ধান্তে ব্যাপ্য হয়ে যাবে। তাই এক্ষেত্রে ব্যাপ্যতার নিয়ম লঙ্ঘিত হবে এবং ব্যাপ্যতার নিয়ম লঙ্ঘিত হবে।
যুক্তি-২ এ বর্ণিত, 'সকল দোয়েল হয় পাখি। অতএব, সকল পাখি হয় দোয়েল।' আবর্তনের এই দৃষ্টান্তে আশ্রয়বাক্যের 'পাখি' পদটি A যুক্তিবাক্যের বিধেয় হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় এটি অব্যাপ্য ছিল। কিন্তু এই পাখি পদটিই যখন সিদ্ধান্তে A যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য হিসেবে ব্যবহৃত হলো তখন তা হয়ে গেল ব্যাপ্য। তাই এখানে আবর্তনের ব্যাপ্যতা সংক্রান্ত নিয়ম (যে পদ আশ্রয়বাক্যে ব্যাপ্য নয় তা সিদ্ধান্তে ব্যাপ্য হতে পারবে না) লঙ্ঘিত হয়েছে।
তাই বলা যায়, যুক্তি-২ এর দৃষ্টান্ত হলো অবৈধ আবর্তনের একটি উদাহরণ । যা ব্যাপ্যতার নিয়ম লঙ্ঘনজনিত কারণে ঘটেছে।